পহেলগাম হামলা (Pahalgam Terror Attack) ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) পর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দ্বন্দ্ব নতুন করে চরমে উঠেছিল। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একই ছবিতে একসঙ্গে ধরা পড়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
.jpg.webp)
একফ্রেমে শাহবাজ-মোদী
শেষ আপডেট: 1 September 2025 07:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের তিয়ানজিনে শুরু হয়েছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর ২৫তম বৈঠক। নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের। রবিবার এই সম্মেলনের শুরুতেই আলোচনায় উঠে এল দুই 'চিরশত্রু' প্রতিবেশীর মুহূর্ত। দীর্ঘদিন পর বিশেষ করে 'অপারেশন সিঁদুর'-এর পর প্রথমবার একই মঞ্চে দেখা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে (Shehbaz Sharif)।
শনিবার বিশেষ বিমানে চিনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী মোদী (Narendra Modi)। পরদিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বৈঠক। রবিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজিত ফ্যামিলি ফটো সেশনে পাশাপাশি দাঁড়াতে দেখা গেল একাধিক বিশ্বনেতাকে। সেখানেই এক সারিতে দাঁড়ালেন মোদী ও শাহবাজ শরিফ। যদিও তাঁরা একে অপরের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান, ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ান এবং উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন। সামনে সারিতে আরও ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু, যাঁর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গত কিছু মাসে শীতল হয়েছে।
পহেলগাম হামলা (Pahalgam Terror Attack) ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) পর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দ্বন্দ্ব নতুন করে চরমে উঠেছিল। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একই ছবিতে একসঙ্গে ধরা পড়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। শুধু পাকিস্তান নয়, ছবিতে একে একে দাঁড়িয়েছিলেন তুরস্ক এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধানরাও—যাঁরা সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কূটনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা যায়, মোদী দাঁড়িয়েছিলেন ‘শত্রু পরিবেষ্টিত’ এক ফ্রেমে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই এসসিও বৈঠক শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বিশ্ব বাণিজ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং নিষেধাজ্ঞার চাপে এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলতে পারে এই সম্মেলন।
সাত বছরের প্রধানমন্ত্রীত্বকালে প্রথমবার চিন সফরে গেছেন নরেন্দ্র মোদী। এসসিও বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। বিগত কয়েক বছরে ভারতের সঙ্গে চিনের সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে। মোদীর এই সফর সেই ক্ষততে মলমের কাজ করছে বলেও মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মোদী (Narendra Modi) স্পষ্টত ‘সীমান্ত পেরিয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদ’ (cross-border terrorism) প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, এই সন্ত্রাসের প্রভাব যেমন ভারতের উপর পড়ছে, তেমনই চিনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এই সমস্যার মোকাবিলায় দুই দেশকেই পরস্পরকে সহযোগিতা করতে হবে। চিনের প্রেসিডেন্টও এই বিষয়ে সুরাহার আশ্বাস দিয়েছেন বলে খবর।