ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল, এমনটা নয়। গত বছর দুই দেশের মধ্যে চলা বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ে। তার পরই ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করে দেয় আমেরিকা, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্কহারগুলির মধ্যে অন্যতম।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 22 January 2026 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি শক্তিশালী ও লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি (India US Trade Deal) শীঘ্রই সম্ভব - বুধবার ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে (World Economic Forum) স্পষ্ট করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে 'ফ্যান্টাস্টিক লিডার' (PM Modi is Fantastic Leader) বলেও অভিহিত করেন ট্রাম্প।
ডাভোসে উপস্থিত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি ভাল চুক্তি (US India Relations) হবেই। তাঁর কথায়, “ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি দারুণ ডিল হবে।” দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে তিনি যে যথেষ্ট আশাবাদী, তা তাঁর বক্তব্যেই স্পষ্ট।
শুধু বাণিজ্য নয়, দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে মোদীর প্রশংসা করেছিলেন। সেই সময় তাঁকে 'সবচেয়ে ভাল দেখতে নেতা' বলেও মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল, এমনটা নয়। গত বছর দুই দেশের মধ্যে চলা বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ে। তার পরই ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক (US Tariffs) বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করে দেয় আমেরিকা, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্কহারগুলির মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য ভারতকে ‘শাস্তি’ দিতেই ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
তা সত্ত্বেও দুই দেশ গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে একাধিকবার বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। ভারত সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে, আলোচনা এখনও চলছেই। গত সপ্তাহে দিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর গোর জানান, “উভয় পক্ষই সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালাচ্ছে। আগামীকালই আবার বাণিজ্য সংক্রান্ত বৈঠক হবে।” তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা, সন্ত্রাসদমন, জ্বালানি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য - এই সমস্ত ক্ষেত্রেও ভারত ও আমেরিকা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক প্রসঙ্গে গোরের মন্তব্য, “আসল বন্ধুরা মতভেদ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান করে নেয়।” তাঁর দাবি, দুই দেশই পারস্পরিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এরই মধ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) গত সপ্তাহে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সেই আলোচনায় বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, পরমাণু শক্তি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ভারত ও আমেরিকা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আমেরিকা থেকে আরও বেশি পরিমাণে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ভারত। যদিও গত বছরের আলোচনা থেকে এখনও কোনও চুক্তির আশা দেখা যায়নি। ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও মীমাংসার অপেক্ষায় রয়েছে।