ভাষণেও বিপত্তির সম্মুখীন হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দেখা যায় তাঁর টেলিপ্রম্পটার কাজ করছে না। তখন ক্ষোভ চাপা থাকেনি। এমনীতেই ভাষণে রাষ্ট্রপুঞ্জের ভূমিকা নিয়ে বারে বারে প্রশ্ন তোলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 25 September 2025 08:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) সাধারণ পরিষদের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে একাধিক অঘটনের সম্মুখীন হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তার জন্য তিনি বিরাট ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, এগুলি 'ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা'! শুধু তাই নয়, যারা এর পিছনে আছে, তাদের গ্রেফতারি (Arrest) চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে বক্তৃতা দিয়েছেন। তবে সেখানে পরপর তিনটি প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে। এই ঘটনা নিয়েই তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের বিরুদ্ধে সরব হন। ট্রাম্পের অভিযোগের তালিকায় রয়েছে - প্রধান বক্তৃতা দিতে যাওয়ার সময়ে এসক্যালেটর (Escalator) হঠাৎ থমকে যাওয়া, বক্তৃতার সময় টেলিপ্রম্পটারের ব্যর্থতা এবং অ্যাসেম্বলির সাউন্ড সিস্টেমে গোলযোগ। এসব ঘটনাকেই তিনি 'ট্রিপল স্যাবটাজ' (Triple Sabotage) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, “জাতিসংঘকে লজ্জা হওয়া উচিত।'' তাঁর কথায়, তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া যখন এসক্যালেটরে উঠছিলেন, তখনই সেটি আচমকা থেমে যায়। ট্রাম্প বলেন, তাঁরা দু’জনেই যদি অসতর্ক হতেন, তবে ধাক্কা লেগে আঘাত লাগতে পারত। কিন্তু কোনও ভাবে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। তিনি দাবি করেন যে, এই ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে এবং দোষীদের গ্রেফতার করা উচিত।
ভাষণেও বিপত্তির সম্মুখীন হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দেখা যায় তাঁর টেলিপ্রম্পটার (Teleprompter) কাজ করছে না। তখন ক্ষোভ চাপা থাকেনি। এমনীতেই ভাষণে রাষ্ট্রপুঞ্জের ভূমিকা নিয়ে বারে বারে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, এই প্রতিষ্ঠান কার্যকারীতা হারিয়েছে। ভাষণের এক পর্যায়ে মুখ খোলেন এসক্যালেটর এবং টেলিপ্রম্পটার নিয়েও। যদিও হাল্কা চালেই বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জ আমাকে দুটি জিনিস দিয়েছে, একটা খারাপ এসক্যালেটর আর একটা অচল টেলিপ্রম্পটার।
তৃতীয় ইস্যু হিসেবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর বক্তৃতার পর সাধারণ পরিষদের সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ ছিল, ফলত শোনা যাচ্ছিল না। তিনি বলেন, সামনে বসা মেলানিয়া পর্যন্ত বলতে পারেনি কী বলেছিলেন তিনি।
ট্রাম্প দ্রুত রাষ্ট্রপুঞ্জ মহাসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে তল্লাশি ও তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, এসক্যালেটরের সিকিউরিটি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করা হোক এবং বিশেষত জরুরি স্টপ বাটনের রেকর্ড সেভ রাখা হোক; পাশাপাশি ইউএস সিক্রেট সার্ভিস এ ব্যাপারে যুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিষয়টি শেষ পর্যন্ত লঘু করার চেষ্টা করলেও তাঁর ও রাষ্ট্রপুঞ্জ ভবনের নিরাপত্তা আধিকারিকেরা থেমে থাকেননি। তাঁরা তদন্ত চালিয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি কেন কাজ করেনি টেলিপ্রম্পটার।
কিন্তু এসক্যালেটর কাণ্ডে সর্ষের মধ্যে ভূত আবিস্কার করেছেন কালপ্রিট আসলে ট্রাম্পের এক ভিডিওগ্রাফার। তিনি আগেভাগে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করার জন্য এসক্যালেটরের ইমার্জেন্সি বাটন পুশ করেছিলেন। লক্ষ্য করেননি পিছনে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্ট ততক্ষণে এসক্যালেটরে উঠে পড়েছেন।
যদিও রাষ্ট্রপুঞ্জ ভবনের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে সহমত নয় হোয়াইট হাউস। তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।