দুবছর আগে ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের বুকে মরণকামড় বসিয়েছিল হামাসের কমান্ডোরা। তারপর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ।

প্রথমদিনের আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। মঙ্গলবারেও ফের শান্তি বৈঠক বসবে।
শেষ আপডেট: 7 October 2025 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হামাস-ইজরায়েলের মধ্যে মিশরে শান্তি আলোচনা শুরুর মধ্যেই দুপক্ষের যুদ্ধ তিন বছরে পা দিল। দুবছর আগে ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের বুকে মরণকামড় বসিয়েছিল হামাসের কমান্ডোরা। তারপর থেকেই শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় অবশেষে সোমবার প্রথম দিনের শান্তি আলোচনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে আরব দুনিয়ার প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে।
তবে প্রথম দিনের বৈঠকেই এমন এক হামাস নেতাকে দেখা গিয়েছে, যাঁকে বিমান হানায় কোতল করা হয়েছিল বলে ইজরায়েল দাবি জানিয়েছিল। তীব্র কট্টর সেই নেতাই মিশরে এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তাঁর নাম খালিল আল-হায়া। গত মাসে কাতারে ইজরায়েলি বিমান হানায় এই নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু, তাঁকেই দেখা যায় আলোচনায় নেতৃত্বের আসনে। সে কারণে এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্র জানাচ্ছে, প্রথমদিনের আলোচনায় ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। মঙ্গলবারেও ফের শান্তি বৈঠক বসবে। লোহিত সাগরের রিসর্ট শহর শর্ম এল-শেখে এই বৈঠক চলছে। চলতি আলোচনা কোন পথে এগবে, তা নিয়ে প্রথম দিন একটি খসড়া রচনা করা হয়েছে। হামাস প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারী মিশরকে বলেছেন, প্রস্তাবমতো হানাদারি বন্ধের শর্ত থাকলেও ইজরায়েল তা উপেক্ষা করে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। হামাসের এই প্রতিনিধিদলে খালিল ছাড়াও রয়েছেন জাহির জাবারিন, যিনি দোহায় ইজরায়েলি হানায় বেঁচে যান।
হোয়াইট হাউস গোড়া থেকেই জোর দিচ্ছে যে, আগে দুপক্ষের মধ্যে বন্দি বিনিময় হয়ে যাক। তাহলেই সমস্যার অর্ধেক মিটে যাবে। বাকি সূক্ষ্ম কৌশলগত দিকগুলির ধীরে ধীরে সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু, হামাসরা আগে হামলা বন্ধ ও গাজায় ত্রাণসাহায্য চালু করার উপর জোর দিচ্ছে। কারণ তাদের তুরুপের তাস ইজরায়েলি পণবন্দিরাই।
আলোচনার পথে মস্ত গেরো হচ্ছেন হামাস কট্টরপন্থী নেতা খালিল আল-হায়া। চলতি গাজা যুদ্ধে তিনি তাঁর এক ছেলেকে হারিয়েছেন। এর আগে ইজরায়েলের হাতে মারা গিয়েছিলেন আরও দুই ছেলে। কিছুদিন আগে ইজরায়েল হামাস নিকেশে দোহা, কাতারে হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু, সেই হামলায় খালিলের মৃত্যু হয়নি, তাঁর ছেলে মারা গিয়েছিলেন। সেই হায়াকেই আলোচনার নেতৃত্ব দিতে দেখে অনেকেই অবাক হয়ে গিয়েছেন।