সোমবার নির্বাচন কমিশন বিহারের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিয়েছে। ৬ ও ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহণ করা হবে। ফল ঘোষণা করা হবে ১৪ নভেম্বর।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 October 2025 09:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) সাংবিধানিকভাবে বৈধ এবং ভোটারের পরিচয় নির্ধারণে আধার কার্ড (Aadhar Card) রাজ্য হবে কিনা সে বিষয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) চূড়ান্ত রায় দেওয়ার কথা। বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীকে কেন্দ্র করে বিতর্কে শীর্ষ আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। গত মাসে বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনে কোনও ধরনের অনিয়ম তাদের নজরে এলে গোটা দেশেই এই প্রক্রিয়া বাতিল করতে পারে শীর্ষ আদালত।
আর কয়েক ঘণ্টা পরেই সুপ্রিম কোর্ট এই ব্যাপারে রায় দেবে। তবে সাংবিধানিক কারণেই শীর্ষ আদালত রায়ে যাই বলুক না কেন তা বিহারে কার্যকর হবে না। সংবিধানের ৩২৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ভোট ঘোষণার পর আদালতের হস্তক্ষেপ করার কোন সুযোগ নেই। ফলে যে বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে মামলা দায়ের হয়েছে সে রাজ্যেই শীর্ষ আদালতের রায় কার্যকর হবে না।
সোমবার নির্বাচন কমিশন বিহারের বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিয়েছে। ৬ ও ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহণ করা হবে। ফল ঘোষণা করা হবে ১৪ নভেম্বর। প্রথম দফার ভোটের জন্য আগামী ১০ অক্টোবর শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করবে কমিশন।
নিয়ম অনুযায়ী সোমবার কমিশন ভোট ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই বিহার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। ফলে এখন ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে কোন আদালত কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। এই সাংবিধানিক সুরক্ষার সুযোগ নিতেই কমিশন সোমবার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিয়েছে বলে কোন কোন মহল মনে করছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনে আধার কার্ডকে ১২ তম নথি হিসাবে গ্রাহ্য করেছে। যদিও শীর্ষ আদালত নির্দেশে উল্লেখ করেছিল যে আধার নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়। কিন্তু একজন ভোটার হতে চাইলে বা ভোটার তালিকায় নাম রাখার জন্য এই নথি কমিশনের কাছে পেশ করতে পারেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ গত শনি ও রবিবার পাটনায় রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করেন তারা আধারকে কোন অবস্থাতেই নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি নন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুধুমাত্র বিহারের ক্ষেত্রে তারা আধার কার্ডকে একটি অতিরিক্ত নথি হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। অন্যত্র তারা এই সুবিধা দিতে রাজি নন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য আধার আইনেই বলা আছে এটি নাগরিকত্ব এবং বয়সের প্রমাণ নয়। এমনকী ঠিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আধারকে চূড়ান্ত নথি হিসেবে গ্রহণ করার আইনি বাধা আছে। এই কার্ডধারীরা শুধুমাত্র নিজেদের ভারতে বসবাসকারী হিসাবে দাবি করতে পারবেন।