বিহার নির্বাচনে বিজেপি-জেডিইউ জোটের অঙ্কে সুবিধা, কিন্তু মাটির সমীকরণে চ্যালেঞ্জ। নীতীশ কুমার, তেজস্বী যাদব ও প্রশান্ত কিশোর— এই তিন নামই বদলে দিতে পারেন ফলাফল।

কার দৌড় কত দূর
শেষ আপডেট: 7 October 2025 07:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে বাজল ভোটের দামামা (Bihar Election)। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ ও ১১ নভেম্বর দুই দফায় ভোট এবং ১৪ নভেম্বর গণনা (Bihar Election Date)। রাজনৈতিক মহল বলছে, এটি শুধু এক রাজ্যের নির্বাচন নয় বরং কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন প্রশ্ন একটাই, কে দখল করবে বিহারের গদি? (Bihar Election 5 X Factors)
নির্বাচনে জয় নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এই ৫টি ‘এক্স-ফ্যাক্টর’
১. এনডিএ-র সংখ্যাগত সুবিধা
সমীকরণ বলছে, বিহার ভোটে এনডিএ শুরু করছে স্পষ্ট সংখ্যাগত প্রাধান্য নিয়ে। বিজেপি, জেডিইউ, জিতন রাম মাঝি, চিরাগ পাসওয়ান ও উপেন্দ্র কুশওয়াহা— এই বড় জোটের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে আরজেডি, কংগ্রেস এবং বামেরা। রাজনৈতিক অঙ্কের বিচারে এনডিএ-র জোটটাই বেশি বিস্তৃত, ফলে ভোটবিভাজনের আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
২. ময়দানের ‘কেমিস্ট্রি’ই আসল নির্ধারক
তবে কেবল অঙ্কের হিসেবেই রাজনীতি চলে না— ময়দানের ‘কেমিস্ট্রি’ই আসল নির্ধারক। অধিকাংশ সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, তরুণ নেতা তেজস্বী যাদবই মানুষের পছন্দের মুখ্যমন্ত্রী মুখ। কিন্তু তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ আরজেডির ঐতিহ্যবাহী মুসলিম-যাদব (এম-ওয়াই) ভোটবাক্স ছাড়িয়ে বৃহত্তর ভোটঘাঁটি গড়ে তোলা।
৩. নীতীশ কুমার, সম্পদ না দায়?
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে থাকা নীতীশ কুমারের সামনে এখন প্রবল ‘অ্যান্টি ইনকামবেন্সি’। একদা সুশাসনের প্রতীক ছিলেন তিনি, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর ভাবমূর্তি অনেকটাই ম্লান। প্রায় ১৫ শতাংশ স্থায়ী ভোটব্যাঙ্কের মালিক নীতীশ এখন এনডিএ-র কাছে যেমন সম্পদ, তেমনই দায়ও। কারণ তিনি প্রশাসনিক ক্লান্তির মুখও। তাই প্রশ্ন একটাই, নীতীশ কি এখনও বিহারের রাজনীতিতে প্রভাব রাখেন, নাকি তিনি এখন অস্তমিত?
৪. জনকল্যাণ প্রকল্প বনাম ক্লান্তি
অ্যান্টি ইনকামবেন্সির ঢেউ ঠেকাতে এনডিএ সরকার সম্প্রতি চালু করেছে বেশ কিছু জনকল্যাণ প্রকল্প, যার সরাসরি লক্ষ্য নারী ও যুব ভোটার। ভোটের আগের মুহূর্তে নগদ আর্থিক সাহায্যের এই কৌশল মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে সফল হয়েছে। তাই এনডিএ শিবিরও আশাবাদী, এই কল্যাণনীতি হয়তো বিহারের ভোটবাক্সে অঙ্ক বদলে দিতে পারে।
৫. অচেনা চালক প্রশান্ত কিশোর
এই ভোটের সবচেয়ে বড় অনিশ্চিত উপাদান নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। তাঁর দল ‘জন সুরজ অভিযান’ ইতিমধ্যেই জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মাঠের উচ্ছ্বাস কি ভোটে রূপান্তরিত হবে? যদি কিশোরের দল ১০ শতাংশেরও বেশি ভোট টানতে পারে, তা হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে উঠবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২০ সালে এনডিএ ও মহাগঠবন্ধনের মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ১২ হাজার ভোট! ফলে প্রশান্ত কিশোরের সামান্য প্রভাবও উল্টে দিতে পারে গোটা ফলাফল।