জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার দেশজুড়ে ১৭টি নতুন উদ্যোগ চালু হচ্ছে। এর লক্ষ্য - ভোট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক এবং অংশগ্রহণমূলক করা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 October 2025 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারে ২৪৩টি বিধানসভা আসনে ভোট (Bihar Elections) হবে দুই দফায় - ৬ ও ১১ নভেম্বর। ভোট গণনা হবে ১৪ নভেম্বর। সোমবার এই ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। এর পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আরও কিছু তথ্য দিয়েছেন যা আগামী দিনে সারা দেশজুড়ে ভোটে লাগু করা হবে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার দেশজুড়ে ১৭টি নতুন উদ্যোগ (New Reforms) চালু হচ্ছে। এর লক্ষ্য - ভোট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক এবং অংশগ্রহণমূলক করা।
নির্বাচন কমিশনের ১৭টি নতুন উদ্যোগ
১. বুথ লেভেল এজেন্টদের প্রশিক্ষণ: রাজনৈতিক দলের নিযুক্ত এজেন্টদের ভোটার তালিকা প্রস্তুতি ও আপিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
২. বুথ লেভেল অফিসারদের প্রশিক্ষণ: দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৭ হাজারের বেশি BLO ও সুপারভাইজারকে নয়াদিল্লির IIIDEM-এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
৩. পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ: বিহার পুলিশের জন্য বিশেষ সেশন হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে।
৪. বিশেষ ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা: বিহারে ভোটার তালিকা পরিশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে যাতে যোগ্য কেউ বাদ না পড়ে, অযোগ্য কেউ অন্তর্ভুক্ত না হয়।
৫. কর্মীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি: BLO, সুপারভাইজার, ভোট ও গণনা কর্মী, CAPF, পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো-অবজার্ভারদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে। প্রথমবার ERO ও AERO-দেরও সম্মানী দেওয়া হবে।
৬. ফ্রি EPIC সরবরাহ: ১৫ দিনের মধ্যে EPIC কার্ড পৌঁছে যাবে ভোটারের হাতে, প্রতিটি ধাপে এসএমএসে জানানো হবে অগ্রগতি।
৭. BLO-দের ফটো আইডি কার্ড: ফিল্ড পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়াতে BLO-দের জন্য পরিচয়পত্র চালু হয়েছে।
৮. মোবাইল জমা দেওয়ার ব্যবস্থা: ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের জন্য মোবাইল জমা দেওয়ার আলাদা কাউন্টার থাকবে। কেউ বুথে ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না।
৯. পরিষ্কার ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ: ভোটারের সিরিয়াল ও পার্ট নম্বর স্পষ্টভাবে ছাপা থাকবে।
১০. এক জায়গায় ডিজিটাল পরিষেবা: ECINet অ্যাপে ভোট সংক্রান্ত নানা তথ্য ও আপডেট - ভোটের দিন প্রতি দুই ঘণ্টায় ভোটদানের হার আপলোড করবেন প্রিসাইডিং অফিসাররা।
১১. ১,২০০ ভোটারের সীমা: প্রতিটি বুথে সর্বাধিক ১ হাজার ২০০ ভোটার থাকবে। ভিড় কমাতে নতুন বুথও তৈরি হবে, বিশেষ করে হাউজিং কমপ্লেক্সগুলিতে।
১২. প্রার্থীদের বুথ ১০০ মিটারের বাইরে: ভোটের দিনে পোলিং স্টেশন থেকে প্রার্থীদের বুথ কমপক্ষে ১০০ মিটার দূরে রাখা হবে।
১৩. সব বুথে ওয়েবকাস্টিং: ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সমস্ত বুথে ওয়েবকাস্টিং করা হবে।
১৪. EVM ব্যালট গাইডলাইন পরিবর্তন: ব্যালট পেপারে এখন থেকে প্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকবে, যাতে পড়া সহজ হয়।
১৫. VVPAT যাচাই বাধ্যতামূলক: ভোটের ফল ও ফর্ম ১৭সি-র মধ্যে কোনও অমিল ধরা পড়লে VVPAT স্লিপ গণনা বাধ্যতামূলক হবে।
১৬. পোস্টাল ব্যালট গণনা সরলিকরণ: পোস্টাল ব্যালটে প্রাপ্ত ভোটের গণনা শেষ না হলে ইভিএম গণনার শেষ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু করা যাবে না।
১৭. ডিজিটাল ইনডেক্স কার্ড: প্রযুক্তিনির্ভর ডেটা অ্যাকসেস সিস্টেম চালু হবে, যাতে নির্বাচনী তথ্য সহজে পাওয়া যায় প্রতিটি কেন্দ্র অনুযায়ী।
বিহার ভোটকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগগুলি কার্যকর হলেও দেশের অন্যান্য রাজ্যে ধাপে ধাপে তা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।