সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, দু’দফায় ভোট হবে বিহারে—প্রথম দফা ৬ নভেম্বর, দ্বিতীয় দফা ১১ নভেম্বর। ভোটগণনা ও ফল ঘোষণা ১৪ নভেম্বর।

শেষ আপডেট: 6 October 2025 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া বৈধ না অবৈধ তা নিয়ে মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার শুনানির রয়েছে মঙ্গলবার ৭ অক্টোবর। তার ২৪ ঘণ্টা আগেই বিহার বিধানসভা নির্বাচনের (Bihar Election) দিনক্ষণ ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন(EC)। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, দু’দফায় ভোট হবে বিহারে—প্রথম দফা ৬ নভেম্বর, দ্বিতীয় দফা ১১ নভেম্বর। ভোটগণনা ও ফল ঘোষণা ১৪ নভেম্বর। বস্তুত বিরোধী দলগুলি এই আশঙ্কাই করছিল। কারণ, একবার নির্বাচন কমিশন কোথাও ভোট ঘোষণা করে দিলে সুপ্রিম কোর্ট সচরাচর তাতে হস্তক্ষেপ করে না। কংগ্রেসের আশঙ্কা ছিল, এসআইআর বৈধ না অবৈধ তা সুপ্রিম কোর্ট বিচার করার আগেই বিহারে ভোট ঘোষণা করে দেবে কমিশন। তাতে এসআইআরের মাধ্যমে তৈরি ভোটার লিস্ট অনুযায়ীই ভোট হবে। এবং সুপ্রিম কোর্ট অন্তত বিহারের ক্ষেত্রে আর হস্তক্ষেপ করবে না।
বিহারে ভোটের আগে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছিলেন, বিপুল পরিমাণ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং নাগরিকত্ব প্রমাণে আধার, ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড গ্রাহ্য করা হয়নি। শুনানির সময়ে সুপ্রিম আদালত ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, “নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে আইন মেনে কাজ করছে, এই অনুমানেই আমরা এগোচ্ছি। তবে যদি কোনও বেআইনি কাজ প্রমাণিত হয়, পুরো প্রক্রিয়াই বাতিল করা হবে।” সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি সূর্য কান্ত ও জয়মাল্য বাগচী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অবশ্য বলেছেন,“জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী প্রতিটি ভোটের আগে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের আইনি অধিকার কমিশনের আছে। যাঁদের নাম নিয়ে আপত্তি ছিল, তাঁদের সময় দেওয়া হয়েছিল ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সেরকম উল্লেখযোগ্য আপত্তি আসেনি।” তিনি আরও বলেন, বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রতিটি নাগরিকের পরিচয় যাচাই আইনসম্মতভাবে হয়েছে, এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আধার কার্ডকেও এখন বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমার জানান, ভোটারদের সুবিধার্থে বুথগুলিতে একাধিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এবারে গোটা বিহারে প্রায় ৯০ হাজার ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থাকবে। প্রতিটি বুথে সর্বোচ্চ ১২০০ ভোটার রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে লম্বা লাইন না হয়। এবার থেকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের আগে মোবাইল ফোন বাইরে রাখতে হবে, এমন নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমরা পরীক্ষামূলকভাবে এই নিয়ম প্রয়োগ করেছি। এবার গোটা বিহারে এটি কার্যকর করা হবে।” এছাড়াও, ভোটার পরিচয় যাচাইয়ে ইলেকট্রনিক রেজিস্টার ও ডিজিটাল ভোটার কার্ড যাচাই ব্যবস্থা চালু করার কথাও জানান তিনি।
বিহারের এসআইআর নিয়ে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সংসদেও পৌঁছেছিল। বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তোলে—এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক দরিদ্র, প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু ভোটারের নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করে, এটি শুধুমাত্র ভোটার তালিকা পরিশুদ্ধ করার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এই আবহেই নির্বাচন কমিশনের ভোটের দিন ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর বৈধতা নিয়ে শুনানির রায় এখনও বাকি, অথচ নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল আনুষ্ঠানিকভাবে।