চুরি হওয়া রত্নগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল নেপোলিয়ন তৃতীয়ের উপহার দেওয়া সম্রাজ্ঞী ইউজিনির রাজমুকুট, যাতে ছিল ২০০টিরও বেশি মুক্তা ও প্রায় ২ হাজার হিরে। এছাড়া নেপোলিয়ন বোনাপার্ট তাঁর স্ত্রী মেরি-লুইসকে উপহার দেওয়া পান্না ও হিরের হার ও দুলও চুরি হয়েছে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 23 October 2025 14:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্তব্ধ ফ্রান্স! লুভ মিউজিয়ামে দুঃসাহসিক ডাকাতি এখনও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তারপর পেরিয়ে গেছে তিনদিন। রবিবার সকালে সাত মিনিটের মধ্যেই দুষ্কৃতীরা রাজ পরিবারের অমূল্য রত্নভান্ডার থেকে কোটি টাকার গয়না উধাও করে দিয়েছে (Louvre heist)। দুটি রাজমুকুট, নীলকান্তমণির হার, পান্না ও হিরের অলংকার-ফরাসি গৌরবের এই প্রতীকগুলো এখন অনিশ্চয়তায়। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ছিন্নমূল হয়ে গেছে এই রত্নগুলো (Louvre Museum robbery), যার ফলস্বরূপ বিশ্ববাসী এই ঘটনায় হতবাক।
চুরি হওয়া রত্নগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল নেপোলিয়ন তৃতীয়ের উপহার দেওয়া সম্রাজ্ঞী ইউজিনির রাজমুকুট, যাতে ছিল ২০০টিরও বেশি মুক্তা ও প্রায় ২ হাজার হিরে। এছাড়া নেপোলিয়ন বোনাপার্ট তাঁর স্ত্রী মেরি-লুইসকে উপহার দেওয়া পান্না ও হিরের হার ও দুলও চুরি হয়েছে। চোরেরা আরও নিয়েছে হিরে-মোড়া দুটি ব্রোচ ও একটি দুল। তবে একটি সোনালি ঈগল-খচিত মুকুট পরে ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রত্নের আর্থিক মূল্য প্রায় ১০২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা), কিন্তু তাদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও অনেক বেশি।
সকাল সাড়ে ৯টায় মিউজিয়ামের জনবহুল সময়ের মধ্যেই চার জন দুষ্কৃতী একটি মেকানিক্যাল লিফটে চড়ে মিউজিয়ামের জানালার কাছে পৌঁছে যায় (Louvre Museum robbery)। তার পর জানালা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। আর মিউজিয়ামে রাখা রাজার মুকুট, ক্রাউন জুয়েলারি ও অন্যান্য ঐতিহাসিক রত্নসামগ্রী চুরি করে নেয়। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে ডাকাতি সেরে তারা পালিয়ে যায়।
ফরাসি প্রসিকিউটর লর বেকো বলেছেন, "চুরিটি মাত্র সাত মিনিটে সম্পন্ন হয়েছে। এই অপরাধে চারজন যুক্ত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আঙুলের ছাপও বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে।" শীঘ্রই অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন লর বেকো।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দুষ্কৃতীরা হয়তো ইতিমধ্যেই এই গয়নাগুলি থেকে রত্ন খুলে আলাদাভাবে বিক্রি করে দিতে পারে। এতে রত্নগুলি হয়তো আর কোনও দিন উদ্ধার করা সম্ভব হবে না।
এই ঘটনার পর ফরাসি সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক সাংসদ বলেছেন, "সম্রাজ্ঞী ইউজিনির মুকুট এখন আমাদের দেশের লজ্জার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাদুঘরেও যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে তা জাতীয় অপমান।"
লুভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং প্রায় ১০০ জন পুলিশ এই মামলায় কাজ করছে। কিন্তু ইতিহাসবিদদের মতে, যদি দ্রুত উদ্ধার না করা যায়, এই রাজকীয় রত্নগুলো হয়তো চিরতরে হারিয়ে যাবে- ফ্রান্সের গৌরবময় অতীতের সঙ্গে।