কেন দুষ্কৃতীরা বেছে নিয়েছিল ইয়ামাহা টিম্যাক্স (Yamaha Tmax Scooters)! ইউরোপের রাস্তায় এই স্কুটার বহু বছর ধরেই দ্রুতগতি এবং আরামদায়ক যাত্রার প্রতীক। তবে কৌতূহলের ব্যাপার হল, কী আছে এই স্কুটারে, যা এটিকে করে তুলেছে এত জনপ্রিয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 October 2025 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় সকালে প্যারিসের বিশ্ববিখ্যাত লুভ মিউজিয়ামে (Louvre Museum) এক চমকে দেওয়ার মতো ডাকাতির ঘটনা ঘটে যায়। এমন ডাকাতি এতদিন 'ধুম' বা 'মানি হাইস্ট'-এর মতো সিনেমা বা সিরিজেই দেখা যেত। এবার দেখা গেল একেবারে রিয়েল লাইফে। সকাল সাড়ে ৯টায় মিউজিয়ামের জনবহুল সময়ের মধ্যেই চার জন দুষ্কৃতী একটি মেকানিক্যাল লিফটে চড়ে মিউজিয়ামের জানালার কাছে পৌঁছে যায়। তার পর জানালা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। আর মিউজিয়ামে রাখা রাজার মুকুট, ক্রাউন জুয়েলারি ও অন্যান্য ঐতিহাসিক রত্নসামগ্রী চুরি করে নেয়। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে ডাকাতি সেরে তারা পালিয়ে যায়। তবে বাইকে নয়, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায় স্কুটারে চেপে- ইয়ামাহা টিম্যাক্স (Yamaha TMAX)
চুরি করা জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল বহু কোটি মূল্যের রত্ন, যেগুলো ছিল ফ্রান্সের রাজা-রানীদের। যেমন আজমের রত্নশ্রেণী, এম্প্রেস ইউজেনির মুকুট, নেপোলিয়নের সময়ের উপহারে দেওয়া গয়না ইত্যাদি।
এবার আসা যাক সেই স্কুটারের বিষয়ে, কেন দুষ্কৃতীরা বেছে নিয়েছিল ইয়ামাহা টিম্যাক্স (Yamaha Tmax Scooters)! ইউরোপের রাস্তায় এই স্কুটার বহু বছর ধরেই দ্রুতগতি এবং আরামদায়ক যাত্রার প্রতীক। তবে কৌতূহলের ব্যাপার হল, কী আছে এই স্কুটারে, যা এটিকে করে তুলেছে এত জনপ্রিয়।
Yamaha TMAX প্রথম বাজারে আসে ২০০১ সালে। তারপর থেকেই স্কুটারের জগতে এটি নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। এই স্কুটারে রয়েছে ৫৬২ সিসি-র শক্তিশালী টুইন সিলিন্ডার ইঞ্জিন—যা সাধারণ স্কুটারের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতাশালী। এই ইঞ্জিন থেকে প্রায় ৪৭ হর্সপাওয়ার পাওয়া যায়, যা সহজেই এটিকে ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার গতিতে নিয়ে যেতে পারে।
সাধারণত ছোট স্কুটার শহরের ট্র্যাফিকের মধ্যে ধীরে চলে। কিন্তু TMAX মুহূর্তের মধ্যে গতি বাড়াতে পারে। ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে এর সময় লাগে মাত্র ৫ সেকেন্ডের মতো। তাই শহরের রাস্তায় দ্রুত চলাচলের জন্য এটি অনেক সময় রাইডারদের প্রথম পছন্দ।
এই স্কুটারের (Yamaha Tmax Scooters) অন্যতম বড় গুণ এর হ্যান্ডলিং বা চালানোর সুবিধা। স্কুটারের ইঞ্জিনটি এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে এর ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং চালানোর সময় বেশি স্থিতিশীল লাগে। অ্যালুমিনিয়ামের হালকা ফ্রেম ও ভালো সাসপেনশন থাকার কারণে মোড় ঘোরার সময়ে বা হঠাৎ থেমে যাওয়া অবস্থাতেও এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ।
অর্থাৎ এর পারফরম্যান্সই সাধারণ স্কুটারের থেকে টিম্যাক্সের ফারাক গড়ে দিয়েছে। Yamaha TMAX শুধু দ্রুতগতির নয়, আরামদায়কও। চালকের জন্য বড় সিট, পা রাখার যথেষ্ট জায়গা, এবং গিয়ার না বদলে শুধু থ্রটল ঘোরালেই চলা—এই সব কিছু মিলিয়ে এটি চালাতে খুবই স্বস্তিদায়ক। ট্র্যাফিকের মধ্যে হঠাৎ থামা বা আবার চলা—সব কিছুই এতে বেশ সহজ।
এই স্কুটারে রয়েছে হিটেড সিট ও হ্যান্ডেল গ্রিপ, ইলেকট্রনিক কী-লেস সিস্টেম, উইন্ডস্ক্রিন ওঠানো-নামানোর সুবিধা এবং হেলমেট রাখার জন্য বড় স্টোরেজ। অর্থাৎ, দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্যও এটি খুবই উপযোগী।
আধুনিক TMAX স্কুটার প্রযুক্তির দিক থেকেও অনেকটা এগিয়ে। এর ডিজিটাল TFT স্ক্রিনে দেখা যায় গতি, জ্বালানির পরিমাণ, ভ্রমণের তথ্য ইত্যাদি। স্মার্টফোনের সঙ্গে কানেক্ট করে নেভিগেশন চালানো বা নোটিফিকেশন দেখাও সম্ভব।
আরও আছে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, ABS ব্রেকিং সিস্টেম এবং বিভিন্ন রাইডিং মোড—যা চালকের জন্য বাড়তি সুরক্ষা ও আরাম দেয়। অনেকটা স্পোর্টস বাইকের মতোই এই সব ফিচার।
প্যারিস, রোম বা বার্সেলোনার মতো ইউরোপের বড় বড় শহরে TMAX খুবই জনপ্রিয়। এটি যেমন দ্রুতগতির, তেমনি ট্র্যাফিকের মধ্যে সহজে বেরিয়ে আসতে পারে। ফলে অফিস যাওয়া বা শহরের মধ্যে ঘোরাঘুরির জন্য অনেকেই এই স্কুটার ব্যবহার করেন।
এই পারফরম্যান্সের জন্য একে অনেকে বলে “Ferrari of scooters” বা স্কুটারের ফেরারি। কিছু দেশে পুলিশও টহলদারিতে এই স্কুটার ব্যবহার করে।
TMAX-এর ডিজাইনও একে আলাদা করে তুলেছে। ধারালো লাইন, LED হেডলাইট, স্পোর্টি বডি—সব মিলিয়ে এটি সাধারণ স্কুটারের মতো দেখতে নয়। দেখতে অনেকটা আধুনিক বাইকের মতো। এই আকর্ষণীয় চেহারার জন্যই এটি অনেক সময় বাইকপ্রেমীদের নজর কাড়ে।
TMAX প্রমাণ করেছে যে স্কুটার মানেই শুধু ধীরে চলা গাড়ি নয়। এটিও হতে পারে দ্রুত, আধুনিক এবং মজাদার। সাধারণ স্কুটারের আরামের সঙ্গে স্পোর্টস বাইকের গতি—এই দুইয়ের মিশেলই একে করে তুলেছে একেবারে আলাদা।
Yamaha TMAX-এর ফিচার
ইঞ্জিন: ৫৬২ সিসি টুইন সিলিন্ডার
শক্তি: প্রায় ৪৭ হর্সপাওয়ার
টর্ক: ৫৫.৭ এনএম
সর্বোচ্চ গতি: প্রায় ১৮০ কিমি/ঘণ্টা
০–১০০ কিমি/ঘণ্টা সময়: ৫ সেকেন্ডের মতো
ব্রেক: ABS সহ ডুয়াল ডিস্ক
ফিচার: TFT ডিসপ্লে, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, ক্রুজ কন্ট্রোল, হিটেড সিট ও গ্রিপ, বড় স্টোরেজ।