কলম্বিয়ায় রাজনৈতিক নেতা, ক্রীড়া তারকা কিংবা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব—কারও জীবনই নিরাপদ নয়।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস।
শেষ আপডেট: 11 August 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলম্বিয়ায় রাজনৈতিক নেতা, ক্রীড়া তারকা কিংবা সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব—কারও জীবনই নিরাপদ নয়। মাফিয়া ও ড্রাগ কার্টেলের রক্তাক্ত রাজনীতি ও অপরাধের শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের পর ফুটবল মাঠ থেকে শুরু হয়েছিল এই নৃশংসতার এক ভয়ংকর অধ্যায়, যা আজও শেষ হয়নি।
আন্দ্রেস এসকোবার: ফুটবল মাঠ থেকে মাফিয়ার নিশানায়
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে কলম্বিয়ান ফুটবল মাফিয়া জগতের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ে। মেডেলিন ও কালি কার্টেলের ড্রাগ লর্ডরা ফুটবলকে ব্যবহার করত অবৈধ অর্থপাচার ও বেটিংয়ের জন্য। সেই সময় জাতীয় দলের ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোল কলম্বিয়ার বিদায় নিশ্চিত করে।
কয়েক দিন পরই মেডেলিনে নাইটক্লাবের বাইরে গাল্লন হেনাও ভাইদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির সময়ে ভাইদের ড্রাইভার হুম্বের্তো মুনিয়োজ কাস্ত্রো গুলি চালিয়ে হত্যা করে ২৭ বছরের এসকোবারকে। হত্যাকারীর ৪৩ বছরের সাজা হলেও মাত্র ছয় বছরের মাথায় মুক্তি পায়। অভিযোগকারীরা মুক্তি পেয়ে যায় প্রমাণের অভাবে—তখন কলম্বিয়ার বিচার ব্যবস্থায় মাফিয়ার ভয় ও প্রভাব ছিল তুঙ্গে।
তিন দশক পরও ছবি বদলায়নি। গত ৭ জুন বোগোটায় নির্বাচনী সমাবেশে গুলিবিদ্ধ হন কলম্বিয়ার ডানপন্থী বিরোধী দলের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী সেনেটর মিগেল উরিবে তুরবে। ৩৯ বছর বয়সী এই নেতাকে মাথায় দু’বার ও শরীরে একবার গুলি করা হয়। সোমবার তাঁর পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি মারা গেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে এক ১৫ বছরের ভাড়াটে খুনিও রয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ধরা পড়েছে এলদার হোসে আর্তেয়াগা হার্নান্দেজকে, যার নামে ইন্টারপোলেও রেকর্ড আছে। অভিযোগ, প্রায় ২.৫ লাখ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ডের চুক্তি হয়।
কলম্বিয়ার অতীত প্রমাণ করে, এখানে শুধু খেলাধুলা নয়—রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা, এমনকি জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে অপরাধচক্রের প্রভাব অপ্রতিরোধ্য। আন্দ্রেস এসকোবার থেকে মিগেল উরিবে—সময়ের ব্যবধান তিন দশক, কিন্তু পরিণতি এক—গুলিতে ঝরে যাওয়া জীবন, পিছনে একই অন্ধকার শক্তির ছায়া।
এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে—কলম্বিয়ায় কি এখনও সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে মাফিয়ারা? নাকি দেশ এক অদৃশ্য যুদ্ধক্ষেত্রে বন্দি হয়ে পড়েছে, যেখানে বুলেটের শব্দই শেষ কথা বলে?