পাকিস্তানের তরফে দাবি করা হয়েছে, চার দিনের যুদ্ধ চলাকালীন চিনা প্রযুক্তির অস্ত্র ‘অসাধারণ পারফর্ম’ করেছে ভারতের বিরুদ্ধে।

পাকিস্তান সেনার মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী
শেষ আপডেট: 6 October 2025 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় চিনা অস্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের (Pakistan) তরফে দাবি করা হয়েছে, চার দিনের যুদ্ধ চলাকালীন চিনা প্রযুক্তির অস্ত্র ‘অসাধারণ পারফর্ম’ করেছে ভারতের (India) বিরুদ্ধে। সোমবার এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান সেনার মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এই মন্তব্য করেছেন।
“চিনা প্রযুক্তির সাম্প্রতিক অস্ত্রগুলি যুদ্ধক্ষেত্রে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে,” এমনটাই জানিয়েছেন চৌধুরী। ইসলামাবাদে ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা সব ধরণের প্রযুক্তির জন্যই উন্মুক্ত। তবে সাম্প্রতিক চিনা প্ল্যাটফর্মগুলি বিশেষভাবে সফল।”
তবে পাকিস্তানের এই দাবির বিপরীতে ভারতের সামরিক বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা পর্যবেক্ষকদের দাবি, চিনা তৈরি পিএল-১৫ এবং এইচকিউ-৯পি ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল। উল্টে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতীয় অস্ত্রই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দেয়।
ভারতীয় সেনার নিখুঁত আঘাতে পাকিস্তানের একাধিক এয়ারস্ট্রিপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে ফাটল ধরায় ভারতীয় বাহিনী। এমনকি, ভারত প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পারমাণবিক হামলার হুমকিকেও ‘ব্লাফ’ বলে ঘোষণা করে।
এই যুদ্ধে প্রথমবার পাকিস্তান ব্যবহার করে চিনা PL-15 মিসাইল, HQ-9P গ্রাউন্ড-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, এবং চিন-পাক যৌথভাবে নির্মিত JF-17 ও J-10 যুদ্ধবিমান। কিন্তু ভারতের ব্রহ্মস সুপারসনিক মিসাইল এবং আকাশতীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা পুরোপুরি ব্যর্থ করে দেয়।
অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া পাকিস্তান আজ কার্যত চিনের উপনিবেশে পরিণত, দাবি আন্তর্জাতিক মহলের। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)-এর অধীনে চিন পাকিস্তানে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি চিন সফর শুরু করেন চেংদু শহর থেকে, যেখানে তৈরি হয় J-10 যুদ্ধবিমান।
চৌধুরী দাবি করেছেন, পাকিস্তান এই যুদ্ধে ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান নামিয়ে এনেছে। তাঁর বক্তব্য, “ভারতের কোনও বিমান পাকিস্তান নামাতে পারেনি।” কিন্তু ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এ পি সিংয়ের বক্তব্যে উঠে আসে একেবারে ভিন্ন চিত্র।
আইএএফ প্রধানের দাবি, মে মাসের সংঘর্ষে পাকিস্তানের ৮-১০টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ভারত। যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন তৈরি F-16 এবং চিনা JF-17। তিনি পাকিস্তানের দাবিকে কটাক্ষ করে বলেন, “ওগুলো সবই মন গড়া গল্প।”
আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তান সেনার মুখপাত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও। আহমেদ শরিফ চৌধুরী হলেন প্রাক্তন সন্ত্রাসবাদী সুলতান বশিরউদ্দিন মাহমুদের পুত্র, যিনি ওসামা বিন লাদেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তাই বিশ্লেষকদের বক্তব্য, পাকিস্তানের তরফে এই ধরনের প্রচারমূলক দাবি নতুন কিছু নয়। ১৯৭১ সালের পরাজয়কেও তারা ‘বিজয়’ বলে ঘোষণা করেছিল। অপারেশন সিঁদুরেও বাস্তবটা স্পষ্ট। ভারতীয় প্রযুক্তির অস্ত্রই সেখানে জয়ী, আর চিনা অস্ত্রের কার্যকারিতা ধুলোয় মিশেছে।