শিয়ের এই তিব্বত সফর ছিল চিনা স্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতের ৬০-তম বর্ষপূর্তি। বেজিং ফের প্রমাণ করে দিল, এই অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করলেও চিন তার অধিকারের দাবি থেকে নড়চড় হবে না। যা নয়াদিল্লির কাছে খুবই উদ্বেগের বিষয়।

তিব্বতের লাসায় ২০,০০০ মানুষের জমায়েতে শি জিনপিং তাঁর এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
শেষ আপডেট: 21 August 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-চিন সম্পর্কের পাথর নেমে যাওয়ার আগেই কমিউনিস্ট প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আকস্মিক তিব্বত সফরে ফের রসায়ন বদলের আশঙ্কা। শিয়ের এই তিব্বত সফর ছিল চিনা স্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতের ৬০-তম বর্ষপূর্তি। বেজিং ফের প্রমাণ করে দিল, এই অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করলেও চিন তার অধিকারের দাবি থেকে নড়চড় হবে না। যা নয়াদিল্লির কাছে খুবই উদ্বেগের বিষয়।
তিব্বতের লাসায় ২০,০০০ মানুষের জমায়েতে শি জিনপিং তাঁর এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিব্বতের উপর চিনা আগ্রাসন নিয়ে তিনি কমিউনিস্ট সরকারে মনোভাব ব্যাখ্যাও করেন। উল্লেখ্য, শি তাঁর ভাষণে একবারের জন্যও দলাই লামার নাম নেননি। তিব্বতের স্বাধীনতার জন্য দলাই লামা দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে লড়াই করছেন। এবং বহুকাল ধরে ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে ধর্মশালায় রয়েছেন। তবে শি জিনপিং স্পষ্ট করে বলেন, তিব্বতি বৌদ্ধদের মনোভাবে পরিবর্তন জরুরি।
তিব্বত দখলের ৬০-তম বর্ষপূর্তিতে চিন বুঝিয়ে দিল যে, তারা এই অঞ্চলের উপর মুঠো কিছুতেই আলগা করবে না। এ মাসের গোড়ার দিকে চিন ঘোষণা করেছিল যে, তারা তিব্বত ও উত্তর-পশ্চিম ঝিনজিয়াং প্রদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে এক বিশাল রেল প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। তিব্বতের রাজধানী লাসায় শি জোর দিয়ে বলেন, তিব্বতের সুশাসন, স্থায়িত্ব ও উন্নতিকল্পে প্রথম যে কাজটি জরুরি তা হল, রাজনৈতিক ও সামাজিক সুস্থিতি, জাতিগত ঐক্য এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি।
শি জিনপিংয়ের এই তিব্বত সফর আরও একটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য। ৭২ বছর বয়সি চিনা প্রেসিডেন্ট লাসার মতো সুউচ্চ এলাকায় গিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করলেন তিনি সুস্থ আছেন। কারণ, বেশ কিছুদিন জিনপিংকে কোনও অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছিল না। তাতে অনেকে অনেক রকম ধারণা ও জল্পনা করছিলেন। কেউ কেউ চিনা কমিউনিস্ট পার্টিতে নেতৃত্ব বদলের কথাও ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তিব্বতে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পা রাখলেন শি জিনপিং। যেখানে তিনি স্থানীয় ‘পুতুল’ প্রশাসনের প্রশংসা করে বলেন, বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়ে যাচ্ছেন। কয়েক দশক ধরে তিব্বতিরা যে কায়দায় বেজিংয়ের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে চলেছে, তারও উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট।
শি জিনপিংয়ের এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও চড়াও হয়েছে প্রেসিডেন্টের উপর। তিব্বতের নির্বাসিত সংসদের সদস্য ও তিব্বত অ্যাকশন ইনস্টিটিউটের এশিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার দোরজি টিসেতেন নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তিব্বতিদের কাছে এটা কোনও উৎসবের দিন নয়। বরং, চিনা উপনিবেশবাদের দখলদারি অতি দুঃখের দিন। প্রসঙ্গত, শি জিনপিংয়ের এই সফরের মাত্র দুমাস আগে দলাই লামা ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর উত্তরসূরি ঠিক করবে দলাই লামার কার্যালয়, চিন নয়। যার জবাবে চিন বলেছিল, তিব্বতি ধর্মগুরু নির্বাচন করবে কমিউনিস্ট প্রশাসকরা।