সবচেয়ে বেশি ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে এই কারণে যে, বেজিং এখনও পর্যন্ত এই পদক্ষেপ নিয়ে কোনও সামরিক মহড়া বা বিশেষ কার্যকলাপের ঘোষণা করেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

আবারও আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়াল চিন
শেষ আপডেট: 6 April 2026 16:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়াল চিন। কোনওরকম সরকারি ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ ৪০ দিনের জন্য বিশাল আকাশসীমা সংরক্ষণ করে রাখায় (China airspace block) নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, চিন কি বড়সড় সামরিক প্রস্তুতির (China Military Drill) ইঙ্গিত দিচ্ছে?
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত এই ধরনের সতর্কবার্তা স্বল্পমেয়াদি সামরিক মহড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে, যার মেয়াদ কয়েকদিনের বেশি হয় না। সেখানে টানা ৪০ দিনের জন্য আকাশসীমা 'ব্লক' করে রাখা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে বেশি ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে এই কারণে যে, বেজিং এখনও পর্যন্ত এই পদক্ষেপ নিয়ে কোনও সামরিক মহড়া বা বিশেষ কার্যকলাপের ঘোষণা করেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এই সংরক্ষিত আকাশসীমাগুলি রয়েছে তাইওয়ান থেকে কয়েকশো মাইল দূরে। এরই মধ্যে আবার সম্প্রতি তাইওয়ানের আশপাশে চিনা সামরিক বিমানের উড়ান হঠাৎ করেই কমে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা আরও রহস্য বাড়াচ্ছে।
এই সতর্কবার্তাগুলি জারি করা হয়েছে “Notice to Air Missions” বা ‘নোটাম’ হিসেবে। সাধারণত বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বা বিপদের বিষয়ে পাইলটদের সতর্ক করতে এই নোটাম (NOTAM China airspace) জারি করা হয়, যা কার্যকর রয়েছে ২৭ মার্চ থেকে ৬ মে পর্যন্ত। তবে আশ্চর্যের বিষয়, অসামরিক বিমান চলাচলে বড় কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। যদিও নির্দিষ্ট ওই আকাশসীমা পেরোতে গেলে বিমানগুলিকে আলাদা করে সমন্বয় করে চলতে হচ্ছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই আকাশসীমার কোনও উচ্চতার সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে “SFC-UNL” হিসেবে, অর্থাৎ মাটি থেকে অসীম উচ্চতা পর্যন্ত।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রে পোওয়েল বলছেন, এভাবে অসীম উচ্চতা নির্ধারণ করা এবং টানা ৪০ দিনের সময়সীমা, অথচ কোনও মহড়ার ঘোষণা না থাকা - এই সব মিলিয়ে এটি স্বল্পমেয়াদি সামরিক মহড়ার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি অপারেশনাল প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যদি এই পদক্ষেপ সামরিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে এটি হতে পারে চিনের কৌশলগত বার্তা দেওয়ার নতুন পদ্ধতি। অর্থাৎ, সরাসরি মহড়া না করে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই সংকেত পাঠানো।
যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা বিমান চলাচল সংস্থাগুলি কোনও মন্তব্য করেনি।
এই সংরক্ষিত আকাশসীমাগুলি বিস্তৃত হয়েছে তাইওয়ানের থেকেও বড় একটি এলাকায়, দক্ষিণ কোরিয়ার কাছাকাছি ইয়েলো সি থেকে শুরু করে জাপানের মুখোমুখি পূর্ব চিন সাগর পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিশাল আকাশসীমা ব্যবহার করে চিন সম্ভাব্য তাইওয়ান সংঘাতের প্রেক্ষিতে আকাশযুদ্ধের বিভিন্ন পরিস্থিতির অনুশীলন করতে পারে।
তাইওয়ানের আধিকারিকদেরও আশঙ্কা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজর যখন আরব দুনিয়ার দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত, সেই সুযোগে চিন এই অঞ্চলে তার কার্যকলাপ বাড়াচ্ছে।
এই ঘটনার সময়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মধ্যে রয়েছে একাধিক বড় আন্তর্জাতিক ঘটনা -
সব মিলিয়ে, চিনের এই অস্বাভাবিক পদক্ষেপ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে কৌশলগত উদ্বেগও।