Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

ইরান প্রসঙ্গে এখনও চুপ কেন চিন? বেজিংয়ের মাপা পদক্ষেপ নিয়ে কী বলছে কূটনীতি বিশেষজ্ঞমহল

একদিকে চিন এই ঘটনায় নিন্দা করছে, যুদ্ধবিরতিরও ডাক দিচ্ছে। অন্যদিকে কোনও পাল্টা পদক্ষেপও করছে না। এই দ্বৈত অবস্থানের পিছনে রয়েছে গভীর কৌশল - ব্যাখ্যা দিল বিশেষজ্ঞমহল।

ইরান প্রসঙ্গে এখনও চুপ কেন চিন? বেজিংয়ের মাপা পদক্ষেপ নিয়ে কী বলছে কূটনীতি বিশেষজ্ঞমহল

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 2 March 2026 18:09

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানকে ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পশ্চিম এশিয়া। কিন্তু এই সংঘাতের মধ্যে একটি প্রশ্ন বারবার উঠছে ওয়াকিবহাল মহলে - চিন এখনও এতটা নীরব কেন (China reaction on Iran conflict analysis)?

একদিকে তারা হামলার নিন্দা করছে, যুদ্ধবিরতির ডাক দিচ্ছে। অন্যদিকে এমন কোনও অর্থনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ করছে না, যা তাদের নিজের জ্বালানি সরবরাহকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। এই দ্বৈত অবস্থানের পিছনে রয়েছে গভীর কৌশল - যা ব্যাখ্যা করলেন বিশেষজ্ঞরা।

সংঘাতের সূত্রপাত: একসঙ্গে হামলা, দ্রুত প্রতিশোধ

২৮ ফেব্রুয়ারির ভোরে মার্কিন-ইজরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায় ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে - রাজধানী তেহরান ছাড়াও ইসফাহান এবং কোওমের পারমাণবিক কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সরকারি নেতৃত্বের দফতর লক্ষ্য করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের নাম দেন “Operation Epic Fury”। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের অচল পারমাণবিক আলোচনার পর এটি ছিল এক ‘নির্ণায়ক পদক্ষেপ’। একই সঙ্গে ইজরায়েল চালায় তাদের অভিযান “Roaring Lion”, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ক্ষমতা এবং সামরিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা।

এর জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, বাহরিন, কুয়েত এবং জর্ডন - এই দেশগুলির বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা হয়। দুবাইতেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

ফলে বন্ধ হয়ে যায় আকাশপথ, ব্যাহত হয় আন্তর্জাতিক যাতায়াত এবং নিমেষে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা অঞ্চলে।

চিনের ‘নীরবতা’: আসলে কৌশলগত হিসেব

এই পরিস্থিতিতে চিনের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চিন। ইরানের মোট তেল রফতানির ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনে থাকে বেজিং। ২০২৫ সালে যা দাঁড়ায় প্রতিদিন প্রায় ১৩.৮ লক্ষ ব্যারেল - চিনের মোট সমুদ্রপথে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ১৩-১৪ শতাংশ।

তবে চিন সম্পূর্ণভাবে ইরানের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের প্রধান সরবরাহকারী এখনও রাশিয়া এবং সৌদি আরব।

সংঘাত শুরুর পর থেকেই চিনা রিফাইনারিগুলি চুপিসারে ইরান থেকে আমদানি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে এবং তুলনায় সস্তা রাশিয়ান তেলের দিকে ঝুঁকেছে, যাতে সামগ্রিক সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে।

বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ: ইরানের ‘ভুল চাল’?

অ্যাভেলন ইন্টেলিজেন্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বালাকৃষ্ণন মনে করছেন, ইরানের পাল্টা হামলা ছিল “ঐতিহাসিক কৌশলগত ভুল”। তাঁর মতে, ইরান শুধু শক্তিশালী সামরিক জোটের মুখোমুখি হয়নি, বরং পশ্চিম এশিয়ায় চিনের জ্বালানি ও ভূ-রাজনৈতিক কাঠামোয় নিজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ইরান ও চিনের মধ্যে ২৫ বছরের সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে - যার মধ্যে জ্বালানি, পরিকাঠামো এবং পরিবহণ করিডর অন্তর্ভুক্ত, যা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (Belt and Road Initiative)-এর সঙ্গে যুক্ত। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মাঝেও সস্তায় তেল সরবরাহ করে ইরান চিনকে বড়সড় সাপোর্ট দিয়ে এসেছে।

কিন্তু উপসাগরীয় আরব দেশগুলির মাটিতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করে ইরান নিজের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল করেছে বলেই মত বিশেষজ্ঞের।

তাঁর কথায়, এই পদক্ষেপ নিরপেক্ষ দেশগুলিকেও দূরে সরিয়ে দিয়েছে এবং অঞ্চলকে দ্রুত আমেরিকা-ইজরায়েল ঘনিষ্ঠ জোটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফলে চিনের জন্য ভারসাম্য রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি: হরমুজ প্রণালী

চিনের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। আরব দুনিয়া থেকেই আসে চিনের প্রায় ৪৪ শতাংশ তেল আমদানি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনও বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, যদি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায় বা বড়সড় বিঘ্ন ঘটে, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছতে পারে।

এর ফলে চিনের শিল্প উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ওপর বড় ধাক্কা আসতে পারে, বিশেষ করে যখন অর্থনীতি ইতিমধ্যেই সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।

শক্তির ভারসাম্য: কার ওপর কার নির্ভরতা?

চিন-ইরান সম্পর্কের ভিতরে রয়েছে স্পষ্ট অসমতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, “ইরানের চিনকে যতটা দরকার, চিনের ইরানকে ততটা নয়।” কারণ, ইরানের তেল রফতানির বড় অংশই কিনে নেয় চিন। এই অবস্থান চিনকে একটি কৌশলগত সুবিধা দেয়, তারা একদিকে উত্তেজনা কমানোর জন্য চাপ তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও পরিকাঠামো স্বার্থও সুরক্ষিত রাখতে পারে।

তবে এই ভারসাম্য বজায় থাকবে শুধুমাত্র তখনই, যখন সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক বিপর্যয়ে পরিণত না হয় - যেখানে সমুদ্রপথ বিপর্যস্ত হবে এবং তেল বাজারে ধাক্কা লাগবে।

এই মুহূর্তে চিন এক অদ্ভুত কৌশল নিয়েছে। তারা যেমন একধারে যুদ্ধের নিন্দা করছে, ইরান-রাশিয়া-উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে তেল আমদানির ভারসাম্য রাখছে, আবার একই সঙ্গে দেখছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইরান কতদূর পর্যন্ত নিজের কৌশলগত গুরুত্ব ধরে রাখতে পারে।

চিনের নীরবতা এখানে নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং বুঝেশুনে বেছে নেওয়া এক হিসেবি অপেক্ষা।


```