শুল্ক নিয়ে বিরোধে আমেরিকাকে একের পর এক পাল্টা বান ছুড়ছে চিন। এবার দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পরিচালিত পাঁচটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক মার্কিন শিপিং কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে বেজিং।

ট্রাম্প ও জিনপিং
শেষ আপডেট: 14 October 2025 11:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুল্ক নিয়ে বিরোধে আমেরিকাকে একের পর এক পাল্টা বান ছুড়ছে চিন। এবার দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পরিচালিত পাঁচটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক মার্কিন শিপিং কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে বেজিং। চিনের বাণিজ্য দপ্তর ভারতীয় সময় সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছে ওই পাঁচটি কোম্পানি চীনের ভূখণ্ডে প্রকাশ করতে পারবে না। এছাড়া, পৃথিবীর কোথাও চিনা পণ্য আদানপ্রদানে ওই পাঁচ কোম্পানির জাহাজ ব্যবহার করা যাবে না।
দুদিন আগে পাকিস্তানের ওপর চিনের বাণিজ্য মন্ত্রক এক নয়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে বিরল খনিজ পদার্থ দিয়ে তৈরি কোন চিনা পণ্য যেন পাকিস্তান বেজিং এর অনুমতি ছাড়া তৃতীয় কোন দেশে রপ্তানি না করে। চিন-পাকিস্তান বাণিজ্য চুক্তি মেনে বিরল খনিজ রপ্তানিতে পাকিস্তানকেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে বলেছে চিন সরকার। এই সংক্রান্ত চুক্তি পর্যালোচনা করার কথা বলেছে বেজিং। ধরে নেওয়া যায় তাতে নতুন শর্ত আরোপ করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার চিনা পণ্যের ওপর আরও একশ শতাংশ শুল্ক চাপানোর নির্দেশ দেন। বিরল খনিজ পদার্থ নিয়ে চিনের নিষেধাজ্ঞার জবাবে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেজিংয়ের ওপর আরও একশ শতাংশ হারে শুল্ক চাপানোর কথা ঘোষণা করেন। এর ফলে পয়লা নভেম্বর থেকে আমেরিকায় চিনা পণ্যের ওপর ১৪৯% শুল্ক চাপবে। শুল্ক নিয়ে নতুন করে এই বিবাদের সূত্রপাত চিনের একটি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে। বেজিংয়ের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সমস্ত দেশকে চিঠি দিয়ে বিরল খনিজের ভান্ডার রক্ষায় বাড়তি উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকা মনে করছে, বিরল খনিজ নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগকে ভেস্তে দিতেই বেজিং এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে বিরল খনিজ আমদানি করতে ট্রাম্প প্রসাসন উঠে পড়ে লেগেছে। শুল্ক নিয়ে বিবাদের বদলা নিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়, অনুমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক এবং বাণিজ্য মহলের।
রপ্তানি বাণিজ্য মহল জানাচ্ছে বেজিং দক্ষিণ কোরিয়ার যে পাঁচটি শিপিং কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তার ফলে ক্ষতির মুখে পড়বে আমেরিকা। ওই পাঁচটি জাহাজ কোম্পানি মার্কিন মালিকানাধীন। এগুলি বিশ্ব রপ্তানি-আমদানি বাজারের বড় অংশ দখল করে আছে। অন্তত শতাধিক দেশের বন্দরে তাদের জাহাজ নোঙর করে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের শিপিং কোম্পানির সঙ্গে ওই পাঁচ কোম্পানির ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সোমবার রাতে বেইজিং যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তার আওতায় আসবে বিভিন্ন দেশের শিপিং কোম্পানিগুলিও। বাণিজ্য মহল বলছে শুল্ক নিয়ে বদলা নিতেই পাল্টা আমেরিকার আর্থিক ক্ষতির রাস্তা প্রশস্ত করছে বেজিং।
এই পরিস্থিতিতে চিনকে জবাব দিতে ট্রাম্প কী করেন তা নিয়ে এখন গোটা বিশ্বে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এখনো পর্যন্ত হোয়াইট হাউজ বিন্দুমাত্র গর্জন করেনি। ট্রাম্প তাঁর মধ্যপ্রাচ্য সফরে ব্যস্ত। অনেকেই মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট চিনের বিরুদ্ধে খুব বেশি অগ্রসর হবেন না। এ মাসের শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ট্রাম্পের সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক দুপক্ষের কেউই বাতিল করেনি এখনও। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন তিনি বৈঠকে যোগ দিতে ইচ্ছুক। যা তাঁর তরফে সংঘাতে ইতি টানার ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।