সোমবার তেল আভিভে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামেন ট্রাম্প। লাল গালিচা পেতে তাঁকে স্বাগত জানান ইজরায়েলি কর্তারা। আরব দুনিয়ায় স্থায়ী শান্তির রূপরেখা নিয়ে সংসদে বক্তৃতার পর তিনি যান মিশরে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
শেষ আপডেট: 13 October 2025 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির (Gaza Peace Plan) সাফল্যের মধ্যে ইজরায়েল (Israel) সফরে গিয়ে দারুণ অভ্যর্থনা পেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জেরুজালেমে ইজরায়েলি পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার আগে তাঁকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন (Standing Ovation) জানান আইনপ্রণেতারা। কারও কারও মুখে শোনা গেল — 'বিশ্বে আরও ট্রাম্প প্রয়োজন!'
সোমবার তেল আভিভে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামেন ট্রাম্প। লাল গালিচা পেতে তাঁকে স্বাগত জানান ইজরায়েলি কর্তারা। আরব দুনিয়ায় স্থায়ী শান্তির রূপরেখা নিয়ে সংসদে বক্তৃতার পর তিনি যান মিশরে (Egypt)। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হয় যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায়।
ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জামাই জ্যারেড কুশনার এবং কন্যা ইভাঙ্কা। বক্তৃতার আগেই ইজরায়েলি সংসদের স্পিকার আমির ওহানা তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “জেরুজালেমে আপনাকে স্বাগতম, ট্রাম্প। আমরা বহু দিন ধরে এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম।”
স্পিকার ওহানা বলেন, “ট্রাম্প শুধু একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট (US President) নন, তিনি ইহুদি ইতিহাসের এক মহান চরিত্র — প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে যাঁর সমকক্ষ ছিলেন কেবল সাইরাস দ্য গ্রেট।” প্রসঙ্গত, সাইরাস দ্য গ্রেটই ইহুদিদের জেরুজালেমে ফিরে এসে দ্বিতীয় মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন।
ওহানা আরও বলেন, “আজ বিশ্বের দরকার সাহসী নেতাদের। যেমন ট্রাম্প। আজকের পৃথিবীর আরও ট্রাম্পদের দরকার।” তিনি ঘোষণা করেন, আগামী বছরে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিতে ইজরায়েল ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগ নেবে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ধন্যবাদ জানান ট্রাম্পকে। এই প্রসঙ্গে জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ বিমান হামলার জন্য — 'অপারেশন রাইজিং লায়ন' এবং 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'–এর সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে কৃতজ্ঞতা জানান গোলান মালভূমির উপর ইজরায়েলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এবং জাতিসংঘে ইজরায়েল-বিরোধী 'মিথ্যা প্রচারের' বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার জন্য।
নেতানিয়াহু বলেন, “ইজরায়েলের সেনারা সিংহের মতো লড়েছে, দেশের মানুষকে রক্ষা করতে যা যা দরকার, তাই করেছে।”
ট্রাম্পের প্রশংসায় তিনি আরও বলেন, “ইজরায়েলের ইতিহাসে এর আগে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এতটা বন্ধু ছিলেন না। ট্রাম্প ইজরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু।”
এদিকে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে হামাস মুক্তি দিয়েছে ২০ জন বন্দি। দুপুরের পর ইজরায়েলও শুরু করেছে বন্দিদের ছাড়া।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে হামাসের হাতে থাকা শেষ ৪৮ জন বন্দি মুক্তি পাবে, ইজরায়েল ছেড়ে দেবে শতাধিক প্যালেস্টাইনি বন্দিকে, গাজায় পৌঁছবে ত্রাণের বিশাল সরবরাহ এবং ইজরায়েলি বাহিনী আংশিকভাবে সরে আসবে গাজার প্রধান শহরগুলি থেকে।