Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

ভেনেজুয়েলা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘ কি ট্রাম্পকে শাস্তি দিতে পারবে? কোন অসীম শক্তি রয়েছে আমেরিকার

সার্বভৌম রাষ্ট্রে বলপ্রয়োগ, রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক— এই দুই অভিযোগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন (International Law) লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে।

ভেনেজুয়েলা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘ কি ট্রাম্পকে শাস্তি দিতে পারবে? কোন অসীম শক্তি রয়েছে আমেরিকার

আমেরিকার বিরুদ্ধে আদৌ কি কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে নিরাপত্তা পরিষদ? এআই ছবি।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 5 January 2026 15:41

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) মার্কিন সামরিক অভিযানে (US Military Strike) প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) গ্রেফতার করে বন্দি করার ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে (International Politics) তীব্র আলোড়ন তুলেছে। সার্বভৌম রাষ্ট্রে বলপ্রয়োগ, রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক— এই দুই অভিযোগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন (International Law) লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নজর এখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UN Security Council) বৈঠকের দিকে। প্রশ্ন একটাই— আমেরিকার বিরুদ্ধে আদৌ কি কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে নিরাপত্তা পরিষদ?

নিরাপত্তা পরিষদ কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে

আন্তর্জাতিক আইনের নিরিখে নিরাপত্তা পরিষদের হাতে লিখিত আকারে একাধিক বিকল্প রয়েছে—

১। নিন্দা প্রস্তাব (Condemnation Resolution):
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হতে পারে। তবে এটি রাজনৈতিক বার্তা দিলেও আইনি বা বাস্তব শাস্তিমূলক ক্ষমতা সীমিত।

২। বলপ্রয়োগের নিন্দা ও প্রত্যাহারের দাবি:
নিরাপত্তা পরিষদ চাইলে ভেনেজুয়েলা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও মাদুরোর মুক্তির দাবি জানাতে পারে।

৩। তদন্ত কমিশন গঠন: অভিযানের বৈধতা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক তদন্ত বা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন গঠনের প্রস্তাব উঠতে পারে।

৪। অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions):
আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হলেও বাস্তবে এটি প্রায় অসম্ভব— কারণ এখানেই ভেটোর রাজনীতি কার্যকর হয়।

ভেটো প্রয়োগ হলে কী হবে

নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে আমেরিকার হাতে রয়েছে ভেটো ক্ষমতা (US veto power)। আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনও প্রস্তাব উঠলেই ওয়াশিংটন সেটিতে ভেটো দিতে পারে। ফলে—

  • কোনও বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না
  • নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আইনি বৈধতা পাবে না
  • বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকবে

ইতিহাস বলছে, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা প্রস্তাবে আমেরিকা নিয়মিত ভেটো প্রয়োগ করে এসেছে—ইরাক, প্যালেস্তাইন বা ইজরায়েল ইস্যুতেও তার নজির রয়েছে।

চিন ও রাশিয়া কোন অবস্থান নেবে

চিন ও রাশিয়া এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলার পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক ঢাল।

  • রাশিয়া:
    মস্কো সরাসরি মার্কিন অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া আমেরিকার বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় নিন্দা করবে এবং প্রয়োজনে পাল্টা প্রস্তাব আনতে পারে।
  • চিন:
    বেজিং বরাবরই সার্বভৌমত্ব ও বলপ্রয়োগ-বিরোধী অবস্থান নেয়। চিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে তুলে ধরতে পারে এবং আন্তর্জাতিক আইন মানার আহ্বান জানাবে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি হল— চিন ও রাশিয়া আমেরিকার বিরুদ্ধে যতই অবস্থান নিক, যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর সামনে তাদের ক্ষমতা সীমিত।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আদৌ সম্ভব কি?

স্পষ্ট রাজনৈতিক সমীকরণে উত্তর হল— আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ অসম্ভব। নিরাপত্তা পরিষদের তরফ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক শাস্তি, বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের নির্দেশ এর কোনওটিই কার্যকর করা সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ যা হতে পারে, তা হল— আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি, আমেরিকাকে কূটনৈতিকভাবে বিব্রত করা, বিশ্ব জনমতকে প্রভাবিত করা।

এর পরের ধাপ কী?

নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো অচলাবস্থার পর বিষয়টি যেতে পারে—

  • রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ (UN General Assembly):
    যেখানে ভেটো নেই, কিন্তু সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক নয়
  • আন্তর্জাতিক আদালত (ICJ):
    এক্ষেত্রেও ওয়াশিংটন সম্মতি না দিলে মামলার বাস্তব প্রভাব সীমিত
  • আঞ্চলিক ও কূটনৈতিক চাপ:
    ইউরোপীয় দেশ, লাতিন আমেরিকার জোট ও গ্লোবাল সাউথের প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে

মোদ্দা কথা

ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ আবারও প্রমাণ করবে— এই সংস্থা আদর্শগতভাবে শক্তিশালী হলেও বাস্তবে সর্বশক্তিসম্পন্ন আমেরিকার ভেটোর কাছে প্রায় বন্দি। চিন ও রাশিয়া কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন জোগালেও, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই সংঘাত তাই আইনের চেয়ে বেশি ক্ষমতার রাজনীতির (power politics) গল্প হয়ে থেকে যাবে— যেখানে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা নয়, শেষ কথা বলবে শক্তির ভারসাম্য।


```