সার্বভৌম রাষ্ট্রে বলপ্রয়োগ, রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক— এই দুই অভিযোগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন (International Law) লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে।

আমেরিকার বিরুদ্ধে আদৌ কি কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে নিরাপত্তা পরিষদ? এআই ছবি।
শেষ আপডেট: 5 January 2026 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) মার্কিন সামরিক অভিযানে (US Military Strike) প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) গ্রেফতার করে বন্দি করার ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে (International Politics) তীব্র আলোড়ন তুলেছে। সার্বভৌম রাষ্ট্রে বলপ্রয়োগ, রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক— এই দুই অভিযোগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump) বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন (International Law) লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে। ফলে নজর এখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UN Security Council) বৈঠকের দিকে। প্রশ্ন একটাই— আমেরিকার বিরুদ্ধে আদৌ কি কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে নিরাপত্তা পরিষদ?
নিরাপত্তা পরিষদ কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে
আন্তর্জাতিক আইনের নিরিখে নিরাপত্তা পরিষদের হাতে লিখিত আকারে একাধিক বিকল্প রয়েছে—
১। নিন্দা প্রস্তাব (Condemnation Resolution):
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হতে পারে। তবে এটি রাজনৈতিক বার্তা দিলেও আইনি বা বাস্তব শাস্তিমূলক ক্ষমতা সীমিত।
২। বলপ্রয়োগের নিন্দা ও প্রত্যাহারের দাবি:
নিরাপত্তা পরিষদ চাইলে ভেনেজুয়েলা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও মাদুরোর মুক্তির দাবি জানাতে পারে।
৩। তদন্ত কমিশন গঠন: অভিযানের বৈধতা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক তদন্ত বা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন গঠনের প্রস্তাব উঠতে পারে।
৪। অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Sanctions):
আপাতদৃষ্টিতে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হলেও বাস্তবে এটি প্রায় অসম্ভব— কারণ এখানেই ভেটোর রাজনীতি কার্যকর হয়।
ভেটো প্রয়োগ হলে কী হবে
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে আমেরিকার হাতে রয়েছে ভেটো ক্ষমতা (US veto power)। আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনও প্রস্তাব উঠলেই ওয়াশিংটন সেটিতে ভেটো দিতে পারে। ফলে—
ইতিহাস বলছে, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা প্রস্তাবে আমেরিকা নিয়মিত ভেটো প্রয়োগ করে এসেছে—ইরাক, প্যালেস্তাইন বা ইজরায়েল ইস্যুতেও তার নজির রয়েছে।
চিন ও রাশিয়া কোন অবস্থান নেবে
চিন ও রাশিয়া এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলার পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক ঢাল।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি হল— চিন ও রাশিয়া আমেরিকার বিরুদ্ধে যতই অবস্থান নিক, যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর সামনে তাদের ক্ষমতা সীমিত।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আদৌ সম্ভব কি?
স্পষ্ট রাজনৈতিক সমীকরণে উত্তর হল— আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ অসম্ভব। নিরাপত্তা পরিষদের তরফ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক শাস্তি, বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের নির্দেশ— এর কোনওটিই কার্যকর করা সম্ভব নয়। সর্বোচ্চ যা হতে পারে, তা হল— আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি, আমেরিকাকে কূটনৈতিকভাবে বিব্রত করা, বিশ্ব জনমতকে প্রভাবিত করা।
এর পরের ধাপ কী?
নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো অচলাবস্থার পর বিষয়টি যেতে পারে—
মোদ্দা কথা
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ আবারও প্রমাণ করবে— এই সংস্থা আদর্শগতভাবে শক্তিশালী হলেও বাস্তবে সর্বশক্তিসম্পন্ন আমেরিকার ভেটোর কাছে প্রায় বন্দি। চিন ও রাশিয়া কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন জোগালেও, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই সংঘাত তাই আইনের চেয়ে বেশি ক্ষমতার রাজনীতির (power politics) গল্প হয়ে থেকে যাবে— যেখানে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা নয়, শেষ কথা বলবে শক্তির ভারসাম্য।