গুলিতে সমাজকর্মী স্বামী চার্লস কার্কের মৃত্যুর সপ্তাহ তিনেকের মধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল হওয়ার পর, প্রথম মুখ খুললেন সদ্য স্বামীহারা এরিকা কার্ক।

নীরবতা ভেঙেছেন প্রাক্তন মিস অ্যারিজোনা ৩৬ বছর বয়সি এরিকা কার্ক।
শেষ আপডেট: 3 November 2025 12:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুলিতে সমাজকর্মী স্বামী চার্লস কার্কের মৃত্যুর সপ্তাহ তিনেকের মধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল হওয়ার পর, প্রথম মুখ খুললেন সদ্য স্বামীহারা এরিকা কার্ক। শুধু আবেগঘন, উষ্ণ আলিঙ্গনেই তা সীমাবদ্ধ ছিল না, এরিকা সেই অনুষ্ঠানেই স্বীকার করেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে ভ্যান্সের অদ্ভুত মিল রয়েছে। যা তিনি খুঁজে পেয়েছেন। সব মিলিয়ে একের পর এক বিতর্কে জড়ানো নিয়ে এবার নীরবতা ভেঙেছেন প্রাক্তন মিস অ্যারিজোনা ৩৬ বছর বয়সি এরিকা কার্ক।
আমেরিকার বিখ্যাত সংবাদ চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রথম তাঁকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের কড়া জবাব দিলেন এরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ প্রয়াত চার্লস কার্কের পত্নী এরিকা বলেন, তাঁর প্রতিটি চলাফেরা, প্রতিটি হাসি ক্যামেরার খোরাক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, চার্লি কার্কের খুনে অভিযুক্ত টাইলার রবিনসনের বিচারের শুনানিতে অন্তত তাঁর উপর নজর রাখা বন্ধ হোক। আদালতে মিডিয়া কভারেজ নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন তিনি।
ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারীকে তিনি বলেন, আমার স্বামীকে যেখানে খুন করা হয়েছে, সেখানে সর্বত্র ক্যামেরা ছিল। দুই সন্তানের মা এরিকা আরও বলেন, আমার সমস্ত বন্ধু, পরিবারের সকলের উপর তাক করে রয়েছে ক্যামেরা। কথা বলতে বলতে দৃশ্যত কেঁদে ফেলেন এরিকা। আমার চারদিকে, আমাকে ঘিরে রয়েছে ক্যামেরা শ্যেনদৃষ্টি। তারা প্রত্যেকে আমার প্রতিটি নড়াচড়ার চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। আমি কেমন করে হাসছি, কেমন করে কাঁদছি সবকিছুর ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এবার আদালতেও ক্যামেরা নিয়ে এলে তো ভাল হয়।
তিনি আরও বলেন, সরি গাইজ। আমাকে এক সেকেন্ড সময় দিন। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি ওর এই ভিডিওটা দেখাচ্ছি। সাক্ষাৎকারকারী তাঁর কাছে জানতে চান, চার্লি কার্ক যে আন্দোলন করছিলেন তাতে তাঁর সায় ছিল কিনা। এর জবাবে এরিকা চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, আমি কোনও কিছুতে সই করিনি। আমি শুধু যাকে ভালবাসি, তাকে বিয়ে করেছিলাম। তাহলে এটা নিয়ে কেন স্বচ্ছতা দেখানো হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলে বলেন, কোনও কিছুই লুকানোর নেই। আমি জানি কিচ্ছু লুকানোর নেই। কারণ আমি দেখেছি এই মামলায় কী আছে। কী নিদারুণ সত্য লুকিয়ে আছে, তা সকলে দেখতে পাবেন। প্রজন্মের পর প্রজন্মের উপর এটা প্রভাব ফেলবে।
এর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর এরিকার উপর ক্রমাগত সমালোচনার চাপ আসতে থাকে। চার্লসের হত্যার পর তিনি খুব কম সময় ধরে শোকদিবস পালন করেন। তারপরেই চার্লসের মূল সংস্থার সিইও পদে দায়িত্ব নিয়ে কাজে নেমে পড়েন। এই সংস্থাই নেমন্তন্ন করে ডেকে এনেছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে। উপলক্ষ ছিল সংস্থার পক্ষে চার্লসের স্মৃতিচারণা।