আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কি পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার অভিলাসে, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মসৃণ করে রাখতে, তাঁর হিন্দু তেলুগু পত্নী উষাবালা চিলুকুরিকে ডিভোর্স দিতে চাইছেন?

মনের ইচ্ছা উষাও যেন খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়।
শেষ আপডেট: 31 October 2025 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কি পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার অভিলাসে, রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মসৃণ করে রাখতে, তাঁর হিন্দু তেলুগু পত্নী উষাবালা চিলুকুরিকে ডিভোর্স দিতে চাইছেন? ভ্যান্সের একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে হিন্দু পত্নীকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার অভিপ্রায় প্রকাশ পাওয়ায় এই প্রশ্নটিই মাথাচাড়া দিয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর এক আলোচনামূলক সাক্ষাতে ভ্যান্স বলেন, আমি যখন ফের নিজের ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হই, তখন উষা আমার পাশে ছিল। সে আমাকে প্রেরণা জুগিয়েছিল। ভ্যান্স ভিপি হওয়ার পরেই তাঁদের ভিনধর্মে বিয়ের লাভ স্টোরি আমেরিকা ও ভারত কেন, গোটা বিশ্বেই চর্চার বিষয় হয়েছিল।
টার্নিং পয়েন্ট, ইউএসএ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এবার ভ্যান্স যা বলেছেন, তা একেবারে রাতারাতি হিন্দুধর্ম ও বিশেষত তাঁর স্ত্রীকে অকুল জলে ঠেলে দেওয়ার শামিল হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর মনের ইচ্ছা উষাও যেন খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়। একটি ঘরোয়া আলোচনায় তাঁর এই কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্যে বিরাট জলঘোলা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা ভ্যান্সকে ভণ্ড ধার্মিক এবং হিন্দু-ফোবিয়ায় আক্রান্ত বলে দুষতে শুরু করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমএজিএ-র ধর্মপ্রধান রাজনীতির অংশীদার হয়ে ভ্যান্স একথা বলেছেন বলে অনেকের বিশ্বাস। একসময় উষাকে ভ্যান্স তাঁর জীবনের সকল কাজের প্রেরণা বলে প্রচার করে বেড়াতেন। আচমকা তাঁকে এভাবে ঠেলে ফেলে দিতে চাওয়ার পিছনে বেশিরভাগ মানুষ প্রেসিডেন্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে দেখতে পাচ্ছেন। কারণ, ২০২৮ সালে ভ্যান্সই হতে চলেছেন রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। ফলে আমেরিকানরা কোনওদিনই চাইবে না যে, কোনও অ-খ্রিস্টান সর্বোপরি হিন্দু মহিলা দেশের ফার্স্ট লেডি হন। তাই আগাম দেশের মানুষের কাছে গোঁড়া খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত ভ্যান্স নিজের খ্রিস্টধর্মের প্রতি আনুগত্য নিয়ে বোড়ে চালতে চাইছেন।
ওই ইভেন্টে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছাত্রী ভ্যান্সকে প্রশ্ন করেন, অভিবাসন নিয়ে তাঁর কট্টরপন্থী অবস্থান ও ধর্মের মধ্যে বৈপরীত্য কী এবং হিন্দু স্ত্রী উষার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন? ছাত্রীটি আরও জানতে চান, আপনি আপনার ছেলেমেয়েদের বাবা না মায়ের ধর্মকে বিশ্বাস করার শিক্ষা দেন! ভ্যান্স প্রোটেস্ট্যান্ট পরিবারে জন্ম নিলেও তিনি ক্যাথলিক হয়েছেন ২০১৯ সালে। ভ্যান্স বলেন, আমাদের যখন পরিচয় ও প্রেম হয়েছিল, তখন আমরা দুজনেই নাস্তিক ছিলাম। তারপরেই বোমা ফাটিয়ে বলেন, বেশিরভাগ রবিবার উষা আমার সঙ্গে গির্জায় যায়।
আমি আশা করি, ও একদিন অবশেষে আমার পথেই আসবে। আমি যেমন ক্রিশ্চিয়ান গসপেলে বিশ্বাস রেখেছি, আমার স্ত্রী হিসেবে উষাও একদিন খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হবে। এর সঙ্গে তিনি এও বলেন, যদি ও তা না করে, তাহলে মনে করতে হবে এটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা। তাতে আমার কোনও সমস্যা নেই, বলেন ভ্যান্স। প্রসঙ্গত, ভ্যান্স ও উষার দেখা হয় ইয়েল ল স্কুলে। ২০১৪ সালে তাঁরা হিন্দু ও খ্রিস্টান দুই ধর্মমতে বিয়ে করেন। একজন হিন্দু পুরোহিত ও একজন ক্যাথলিক ফাদার তাঁদের বিয়ে দেন। তাঁদের তিনটি বাচ্চা আছে।

ভ্যান্সের এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের মধ্যে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। ভ্যান্সের কথায়, আমেরিকার রিপাবলিকান ও খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা খুশি হলেও নিন্দাও শুরু হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই ভারত বিরোধী বিদ্বেষ বলে বর্ণনা করেছেন। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তিনি এখন স্ত্রীর হিন্দু ধর্ম নিয়ে মুখ খুলে আমেরিকানদের মনে প্রীতি জাগানোর খেলায় নেমেছেন। প্রাক্তন ভারতীয় বিদেশ সচিব কানোয়াল সিবাল বলেন, ভ্যান্স তাঁর স্ত্রীর হিন্দু অস্তিত্বকে মানতে অস্বীকার করতে চাইছেন ভোটের জন্য। এখন তাঁর ধর্মের স্বাধীনতার অধিকারের ভাষণ কোথায় গেল, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এই আলোচনার মধ্যেই উঠে এসেছে জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে এক মহিলার সম্পর্কের বিষয়টি। সেই মহিলার নাম এরিকা কার্ক। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সদ্য প্রয়াত চার্লি কার্কের স্ত্রী এরিকা। এরিকার সঙ্গে ভ্যান্সকে ইদানীং খুবই ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যাচ্ছে। এইসব কানাঘুষোর মধ্যে একটি ফটোও ভাইরাল হয়েছে। যাতে দেখা গিয়েছে এরিকা একেবারে বাহুলগ্না করে রেখেছেন ভ্যান্স। তাতেই জল্পনা চলছে যে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই তিনি বিয়ে করতে পারেন এরিকাকে। এক সমাজকর্মী বলেছেন, এমনটা হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে থেকে ডিভোর্স করার প্রথম রেকর্ড করবেন ভ্যান্স।

অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মে গভীরভাবে বিশ্বাসী উষা আরেকটি সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি খ্রিস্টান হচ্ছেন না। ফক্স নিউজকে তিনি বলেছেন, আমি হিন্দু পরিবেশে বড় হয়েছি। হিন্দু সংস্কার ও সংস্কৃতির কারণেই আমার বাবা-মা এত ভাল মানুষ। এ বছরের গোড়াতেও পেশায় অ্যাটর্নি উষা সাফ বলেছিলেন, ধর্মান্তরের কোনও ইচ্ছাই তাঁর নেই। আমাদের ছেলেমেয়েরাও হিন্দু ও খ্রিস্টান ঐতিহ্য মেনেই বড় হচ্ছে। ওরা জানে আমি ক্যাথলিক নই। কিন্তু আমার কাছ থেকে বই নিয়ে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে পড়ে।