৪১ বছর আগে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবরের সকাল। গোটা দেশ যেন এক মুহূর্তে থমকে দাঁড়িয়েছিল।

লৌহমানবী 'প্রিয়দর্শিনী' ইন্দিরা গান্ধী। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 31 October 2025 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লৌহপুরুষ যদি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল হন, তাহলে দেশের ইতিহাসে লৌহমানবী অবশ্যই প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরা গান্ধী। ৪১ বছর আগে ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবরের সকাল। গোটা দেশ যেন এক মুহূর্তে থমকে দাঁড়িয়েছিল। দুই শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিধন হয়েছে দেশের প্রথম ও এ পর্যন্ত একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী। নিজের কংগ্রেস দল তো বটেই, জরুরি অবস্থার সময় নির্মম অত্যাচারিত বিরোধী দলনেতারাও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লেন। বহু বিতর্কিত, বহু নিন্দিত হয়েও ইন্দিরা গান্ধী প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ভারতকে বিশ্বের তাবড় শক্তির সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছিলেন। ভারতের গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখতে আমেরিকার মতো সর্বশক্তিমানের চাপের কাছে মাথা নিচু করেননি।
ইন্দিরা গান্ধীর নিধন দিবসে শুক্রবার সকালে তাঁর স্মৃতিসৌধ শক্তিস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে প্রমুখ। এর আগে নালন্দায় ভোট প্রচারে গিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর সাহসিকতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তুলনা টেনে বিজেপি নেতাকে ভীরু বলে তোপ দাগেন রাহুল। এক জনসভায় তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধী ভয় পাননি। রাষ্ট্রসঙ্ঘ কিংবা আমেরিকার কাছে ঝোঁকেননি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর না আছে দূরদৃষ্টি, না আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মোকাবিলা করার ক্ষমতা।
রাহুল আরও বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় ইন্দিরা আমেরিকাকে সাফ বলে দিয়েছিলেন, আপনারা যতই যুদ্ধ বিমান ও রণতরী পাঠান তাতে আমরা ভয় পাই না। আপনারা যা ভাল মনে হয় করুন, আমরাও যা উচিত মনে হবে করে যাব।
এদিন সকালে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এক ট্যুইটে ইন্দিরা স্মরণে লিখেছেন, ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধী কীভাবে বিহারের বেলছি গ্রামে দুর্গম রাস্তা পেরিয়ে পৌঁছেছিলেন, তাও আবার একা। একটি পরিবার জাতি বিদ্বেষের শিকার হয়েছিল। সেই পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে ইন্দিরা গান্ধী প্রথমে গাড়ি, তারপর জিপ এবং ট্রাক্টর ও শেষে জঙ্গল পেরনোর জন্য হাতির পিঠে সওয়ার হয়ে সেখানে পৌঁছেছিলেন। বেলছি গ্রাম ঘুরে তারপর দিনই ইন্দিরা গান্ধী পাটনায় এসে তাঁর জীবনের সবথেকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ও সমালোচক জয়প্রকাশ নারায়ণের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সে সময় জেপি অসুস্থ ছিলেন। ইন্দিরা কোনও রকম ভয়ের তোয়াক্কা না করে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। এমনকী ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধে পাক বাহিনীর পর্যুদস্ত হওয়ার ঘটনায় সংসদে দাঁড়িয়ে তৎকালীন বিরোধী নেতা অটলবিহারী বাজপেয়ী পর্যন্ত ইন্দিরাকে দুর্গার সঙ্গে তুলনা টেনেছিলেন।
এহেন নেত্রীকে ৪১ বছর আগে তাঁরই সরকারি বাসভবন ও অফিসের চত্বরে গুলি করে খুন করে দুই খলিস্তানপন্থী দেহরক্ষী। কেউ ভাবতেও পারেনি এরকম ঘটনা ঘটবে। অথচ গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, তাঁকে হত্যার চক্রান্ত কষা হয়েছে। দুই শিখ দেহরক্ষীকে সরানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হত্যার দুই সপ্তাহ আগেই ইন্দিরা এক হত্যাকারী বিয়ন্ত সিংকে দেখিয়ে বলেছিলেন, আমার যখন ওনার মতো শিখ দেহরক্ষী আছে, আমার আর কোনও কিছুতেই ভয় নেই।