সোজা পথে না গিয়ে তাঁর বিমান বহু পথ অতিক্রম করে গিয়ে পৌঁছয় আমেরিকার শহরে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভ্রমণের প্রকৃত কারণ কী, তাই নিয়েই এখন চলছে গবেষণা।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল নেতানিয়াহুর।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিদেশ সফরের ঘুরপথে বিমানযাত্রা অনেকেরই নজর কেড়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল নেতানিয়াহুর। কিন্তু, সোজা পথে না গিয়ে তাঁর বিমান বহু পথ অতিক্রম করে গিয়ে পৌঁছয় আমেরিকার শহরে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভ্রমণের প্রকৃত কারণ কী, তাই নিয়েই এখন চলছে গবেষণা। এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে তিনি ইউরোপের অনেকটা পথ এড়িয়ে আমেরিকায় গিয়ে উপস্থিত হন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা দেখাচ্ছে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান ‘উইং অফ জিওন’ আকাশে ওড়ার পর গ্রিস এবং ইতালি পেরিয়ে তারপর দক্ষিণ দিকে মুড়ে জিব্রাল্টার খাঁড়ির দিকে গিয়ে অ্যাটলান্টিক সাগর পেরোয়। এর প্রধান কারণ যুদ্ধাপরাধের কারণে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এ বছরের গোড়ার দিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এই পরোয়ানার পিছনে ছিল, প্যালেস্তাইন ও গাজায় ইজরায়েলের ক্রমাগত বোমা বর্ষণে অসংখ্য নিরীহ মানুষের মৃত্যু ও এই এলাকায় দুর্ভিক্ষ তৈরি করার অপরাধ।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে যাওয়ার সহজ পথ ছিল ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড কিংবা ব্রিটেন পেরিয়ে। কিন্তু, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের রোম চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলি নিয়মানুসারে তাদের এলাকায় ঢুকে পড়লে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করতে বাধ্য থাকত। যদিও এই দেশগুলি একটি রাষ্ট্রীয় বিমানকে জোর করে নামাতে বাধ্য করতে পারত না। কিন্তু অতি প্রয়োজনে বা জরুরি ভিত্তিতে যদি নেতানিয়াহুর বিমানকে জরুরি অবতরণ করতে হতো, তাহলে তাঁকে আইনি ঝঞ্ঝাটে পড়তেই হতো বলে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ সংবাদপত্র জানিয়েছে।
ফ্রান্সের সরকার অবশ্য গত বৃহস্পতিবার ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিমানকে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু, তিনি ফ্রান্সের আকাশপথ ব্যবহার করেননি। তিনি ঘুরপথে গিয়েছেন। এর কারণ হল সম্প্রতি ইজরায়েল-ফ্রান্সের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি। কারণ, ইউরোপের আর পাঁচটি দেশের মতো ফ্রান্সও প্যালেস্তাইনকে পৃথক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। যে পদক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করেছিলেন নেতানিয়াহু।
ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, নেতানিয়াহুর যাত্রাপথ বেড়ে যাওয়ার কারণে জ্বালানি বাঁচাতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও সরকারি আধিকারিকদের বাদ দিয়েই চলে যান তিনি। তবে এবারেই প্রথম নয়, এর আগে ফেব্রুয়ারি ও জুলাইতে ওয়াশিংটন যাওয়ার সময়েও নেতানিয়াহু গ্রেফতারি এড়াতে ঘুরপথ ধরেছিলেন। এমনিতে নেতানিয়াহুর প্রস্টেট অপারেশন হয়েছে গতবছরের শেষের দিকে। সেই কথা মাথায় রেখে তাঁর যাত্রাপথ তৈরি করা হয়েছিল বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির কাছাকাছি আকাশসীমা দিয়ে। হঠাৎ করে অবস্থা খারাপ হলে যাতে বিমান নামানো যায়।