৮০ বছরের ওই বৃদ্ধ ও তাঁর ৭৮ বছরের বৃদ্ধা স্ত্রীকে জীবনের উপান্তে দাঁড়িয়ে আইনি হক পাইয়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

বৃদ্ধ দম্পতিকে তাঁদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন ছেলে।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 12:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকের দুনিয়ায় সম্পর্কের যখন ক্রমাগত অবনতি হয়ে চলেছে, তখন সুপ্রিম কোর্ট এক অশীতিপর বৃদ্ধের পাশে দাঁড়াল। ৮০ বছরের ওই বৃদ্ধ ও তাঁর ৭৮ বছরের বৃদ্ধা স্ত্রীকে জীবনের উপান্তে দাঁড়িয়ে আইনি হক পাইয়ে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। তাঁদের ৬১ বছরের ছেলেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তিনি যদি বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা না করেন, তাহলে যেন মুম্বইয়ের বাবার বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁকে উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ২০০৭ সালের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ভরণপোষণ ও কল্যাণমূলক আইনবলে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
অশীতিপর বাবা ও মাকে তাঁদের উত্তরপ্রদেশের দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ বৃদ্ধ দম্পতিকে তাঁদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন ছেলে। এই দম্পতির যাদব নগরের যাদব চাওলে একটি এবং বাঙালি চাওলে রাজু এস্টেটে একটি ঘর রয়েছে। কিন্তু, তাঁদের ব্যবসায়ী বড় ছেলে সেখান থেকে তাঁদের বিতাড়িত করেন।
মামলার বিবরণে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে জুলাই মাসে তাঁরা ট্রাইব্যুনালে তাঁদের ছেলেকে সম্পত্তি থেকে উৎখাত ও দেখভালের আর্জি জানিয়েছিলেন। গতবছর জুনে ট্রাইব্যুনাল ব্যবসায়ীপুত্রকে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ঘর ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এছাড়াও মাসে তাঁদের ৩ হাজার টাকা ভরণপোষণ বাবদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ছেলে বম্বে হাইকোর্টে মামলা দাখিল করেন।
গত ২৫ এপ্রিল হাইকোর্ট ছেলের আবেদনটির মান্যতা দেয়। কারণ কোনও প্রবীণ নাগরিককে সম্পত্তিঘটিত মামলায় উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা নেই ট্রাইব্যুনালের। এর বিরুদ্ধে বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি বিক্রম নাথ ও সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ বলে, ওই ব্যক্তির বাবা-মা যখন ট্রাইব্যুনালে গিয়েছিলেন তখন তাঁদের ছেলের বয়স ছিল ৫৯ বছর, অর্থাৎ তিনি প্রবীণ নাগরিকের পর্যায়ে পড়তেন না।
সেই হিসেবে ছেলেকে মুম্বইয়ের দুটি ঘর অবিলম্বে খালি করে দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বাবা-মায়ের হাতে ওই দুটি ঘরের দখল তুলে দিতে হবে। আর ছেলের যেহেতু আর্থিক সংস্থান ভালই, তখন বাবা-মায়ের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হবে।