স্থানীয়দের কাছ থেকে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ে মহকুমা প্রশাসনের কাছে। তার ভিত্তিতেই শুরু হয় তল্লাশি।

৯-১৪ বছরের এই নাবালিকাদের উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশে একটি অবৈধ মাদ্রাসার শৌচাগারে দরজা বন্ধ অবস্থায় ৪০ নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় একটি মাদ্রাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৯-১৪ বছরের এই নাবালিকাদের উদ্ধারের কথা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে পুলিশ। বহরাইচের পায়াগপুর মহকুমায় দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটি চলছিল। বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পেয়ে, জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা মহিলা পুলিশ নিয়ে অভিযান চালায় ওই মাদ্রাসায়।
মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে ওই অভিযান চলে। তাঁদের কাছে অভিযোগ ছিল যে, এটি অবৈধভাবে চলছে। তল্লাশির সময় একটি বাথরুমের ভিতর ৪০ নাবালিকাকে বন্ধ করা অবস্থায় পাওয়া যায়। যার কোনও সদুত্তর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দিতে পারেনি। প্রশাসনের দাবি, স্থানীয়রা অনেক দিন ধরেই সন্দেহ করছিলেন যে, ওখানে অবৈধ কোনও কাজকারবার চলছে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ে মহকুমা প্রশাসনের কাছে। তার ভিত্তিতেই শুরু হয় তল্লাশি। মহকুমা শাসক যখন দলবল নিয়ে মাদ্রাসায় ঢুকতে যান, তখন মাদ্রাসার পরিচালক খালিল আহমেদ তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করেন। পুলিশি হস্তক্ষেপে প্রশাসন ভিতরে ঢোকে। ভিতরে দেখা যায়, একটি তিনতলা বাড়ি রয়েছে। চারতলার একটি বাথরুমে বন্দি অবস্থায় ৪০ নাবালিকার হদিশ মেলে।
মহিলা পুলিশের সাহায্য নিয়ে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে জানার চেষ্টা চলছে, তাঁরা মেয়েদের এখানে ভর্তি করেছিলেন কিনা। মেয়েদের এখানে মাদ্রাসায় পড়ানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল নাকি অন্য উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশি হস্তক্ষেপ চাইবে। এ ব্যাপারে জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ অফিসারকেও জানানো হয়েছে। বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে জেলাশাসককে।
জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ অফিসার মহম্মদ খালিদ বলেন, জেলায় প্রায় ৪৯৫টি অবৈধ মাদ্রাসা চলছে। তল্লাশি চলাকালীন মাদ্রাসার মালিক খালিল আহমেদ চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে যান। তাঁর মেয়ে ফতিমা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এখানে কোচিং সেন্টার চলত, এটা মাদ্রাসাই নয়। কিন্তু, স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসা মালিক খালিল দশ বছর আগেও একটি ছোট জুতো-স্যান্ডেলের দোকান চালাত। তার কী করে তিনতলা বাড়ি ও এলাকায় ২৪টি দোকান হল! স্থানীয়রা ইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।