সম্প্রতি ইজরায়েল ইরানের বেশ কিছু পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। গত জুন মাসে ফরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে বড়সড় আঘাত হানে ইজরায়েল।

আয়াতোল্লা খামেনেই
শেষ আপডেট: 17 July 2025 07:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরমাণু হামলা ইস্যুতে আমেরিকা (USA) ও ইজরায়েলকে (Israel) ফের হুমকি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা (Iran Supreme Leader) আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)। বুধবার সরকারি টেলিভিশনে বক্তৃতায় তিনি বলেন, “আমরা আমেরিকা এবং তার পোষা কুকুরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তৈরি, এটাই প্রশংসনীয়।”
খামেনেই আরও বলেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদে ইরানের হামলা ছিল শুধুমাত্র শুরু। তাঁর কথায়, “আমেরিকা এবং অন্যদের উপর আরও বড় আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে ইরান।” তাঁর এই মন্তব্য এমন সময় এল, যখন পশ্চিমি দেশগুলি ফের পারমাণবিক আলোচনায় বসার জন্য তেহরানের (Tehran) উপর চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ফের নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথাও ভাবা হচ্ছে।
মিসাইল শক্তি নিয়ে চিন্তা থাকছে
সম্প্রতি ইজরায়েল ইরানের বেশ কিছু পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। গত জুন মাসে ফরদো পারমাণবিক কেন্দ্রে বড়সড় আঘাত হানে ইজরায়েল। যদিও এই সব হামলায় ইরানের পরমাণু প্রকল্প দু’বছর পিছিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হলেও, ইরানের মিসাইল ও ড্রোন শক্তি প্রায় অক্ষত রয়েছে বলেই জানা গেছে।
আমেরিকার ‘ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’-এর সিনিয়র ফেলো বিল রোজিও জানিয়েছেন, “ইরানের হাতে এখনও প্রায় দেড় হাজার মাঝারি ক্ষমতার ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে। পাশাপাশি ৫০ শতাংশেরও বেশি লঞ্চার সক্রিয় রয়েছে।”
‘আলোচনায় তাড়া নেই’
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তিনি আলোচনার দরজা খোলা রাখছেন, তবে তাড়া নেই। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আলোচনায় বসতে চাই, তবে তাড়াহুড়ো করছি না।” এদিকে, পশ্চিমি দেশগুলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরান যদি আলোচনায় আগ্রহ না দেখায়, তা হলে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির আওতায় থাকা ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞা ফের কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ ইরান নতুন করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে।