বন্দুকধারী সঙ্গীদের নিয়ে হাজির হন হানিফ, কিন্তু হাবিবের পরিবার, গ্রামের মানুষ তীব্র আপত্তি জানিয়ে তাঁকে ও তাঁর দলকে তাড়িয়ে দেন এলাকা থেকে।

হাবিব তাহির
শেষ আপডেট: 3 August 2025 21:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় জড়িত তিন জঙ্গির একজন হাবিব তাহির ওরফে আফগানির ‘শেষকৃত্য’ সম্পন্ন হল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কুইয়া গ্রামে। কিন্তু সেই শেষযাত্রার মুহূর্তই রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠল লস্কর-ই-তইবা-র শীর্ষ কমান্ডার রিজওয়ান হানিফের উপস্থিতিতে।
বন্দুকধারী সঙ্গীদের নিয়ে হাজির হন হানিফ, কিন্তু হাবিবের পরিবার এবং গ্রামের মানুষ তীব্র আপত্তি জানিয়ে তাঁকে ও তাঁর দলকে কার্যত তাড়িয়ে দেন এলাকা থেকে।
৩০ জুলাই, কুইয়া গ্রামে হাবিবের শেষকৃত্যের আয়োজন হয়। পহেলগাম হামলায় নাম জড়ানো হাবিব ছিল লস্করের প্রশিক্ষিত জঙ্গি। শেষযাত্রায় রিজওয়ান হানিফ নিজের লোকজন ও অস্ত্র-সহ দেহরক্ষীদের নিয়ে হাজির হন। কিন্তু শেষযাত্রার বন্দুক দেখিয়ে উপস্থিত হওয়ায় হাবিবের ভাইপো প্রথম আপত্তি তোলেন। এর পর স্থানীয়রাও একে একে প্রতিবাদে সরব হন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হানিফ ও তার লোকজন বাধ্য হন ফিরে যেতে। ওই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা ঘিরে আরও বিতর্ক দানা বাঁধে। (সেই ছবি, ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি ‘দ্য ওয়াল’)
২২ এপ্রিল, দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন। সেই হামলার সঙ্গে জড়িতদের নিকেশ করতে ২৮ জুলাই ভারতীয় সেনা চালায় বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন মহাদেব’, যেখানে তিন জঙ্গিকে নিকেশ করা হয়। হাবিব তাহির ছিল তাদেরই একজন।
সূত্রের দাবি, হাবিব লস্কর-ই-তইবা-র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এই সংগঠনেরই একটি ছায়া গোষ্ঠী 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট' পরে হামলার দায় স্বীকার করে।
প্রসঙ্গত, পহেলগামের হামলার ঘটনার সঙ্গে কোনও যোগ নেই বলে পাকিস্তান একাধিকবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্বীকার করে এসেছে। কিন্তু অপারেশন মহাদেবে নিহত এক জঙ্গির পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অন্তিমক্রিয়া এবং সেখানে লস্কর নেতার উপস্থিতি সেই অস্বীকারকেই কার্যত গুঁড়িয়ে দিল।