রবিবার দুপুর ১২টা ৩৭ নাগাদ চিনার কোর জানায়, লিদওয়াসে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি চলাকালীন সংঘর্ষ শুরু হয়।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 28 July 2025 15:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) লিদওয়াস অঞ্চলে জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালিয়ে তিন জঙ্গিকে নিকেশ করেছে ভারতীয় সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। ‘অপারেশন মহাদেব’ নামে এই অভিযানে পহেলগাম হামলার মূলচক্রী বলে সন্দেহভাজন তিন জঙ্গিকে (Terrorist Killed) খতম করা হয়েছে। অভিযান চালাচ্ছিল চিনার কর্পস।
রবিবার দুপুর ১২টা ৩৭ নাগাদ চিনার কোর জানায়, লিদওয়াসে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি চলাকালীন সংঘর্ষ শুরু হয়। এক ঘণ্টার মধ্যে ড্রোনের ফুটেজে তিনটি মৃতদেহ দেখা যায়, যা নিশ্চিত করে যে তিন জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে।
গত দু’দিন ধরেই অভিযান চলছিল। দাচিগাম অরণ্য এলাকার গভীর থেকে সন্দেহজনক রেডিও যোগাযোগ ধরা পড়েছিল। পাশাপাশি, স্থানীয় কিছু চরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন, যা তদন্তকারী বাহিনীকে জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নিহত জঙ্গিরা লস্কর-ই-তইবা গোষ্ঠীর সদস্য ছিল। এই গোষ্ঠীই এপ্রিল মাসে পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় হওয়া হামলার দায় স্বীকার করেছিল, যেখানে ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হন।
কীভাবে ফাঁদে ফেলা হয় জঙ্গিদের?
সূত্রের খবর, দাচিগাম অঞ্চলে সন্দেহজনক রেডিও সিগন্যাল ধরা পড়ে। এই সূত্র ধরে গত দু’দিন ধরে সেনার একাধিক টিম ওই অঞ্চলে টহল ও তল্লাশি চালায়। রবিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ২৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেল ও ৪ প্যারা ইউনিটের একটি যৌথ দল তিন জঙ্গিকে চিহ্নিত করে তাৎক্ষনিকভাবে অভিযানে নেমে তাদের খতম করে।
নিহত তিনজন একটি ঘন জঙ্গলে গাছের নীচে মাটির তৈরি অস্থায়ী বাঙ্কারে লুকিয়ে ছিল। দীর্ঘ ১৪ দিন ধরে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল সেনা। এটি ছিল লস্কর ও জৈশ-ই-মহম্মদের একটি যৌথ মডিউল।
শীর্ষ সূত্রের মতে, এদের মধ্যে অন্তত কেউ কেউ ২২ এপ্রিল পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় ২৬ জন নিরীহ মানুষের হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। সেই হামলার পরে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে এবং পাকিস্তান ও পিওকে-তে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। তাতে ১০০-র বেশি জঙ্গি মারা যায়।
কিন্তু পহেলগাম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের খোঁজ তখনও চলছিল। এবার ‘অপারেশন মহাদেব’ করে তিন জনকে খতম করা গেল। যদিও তাদের সঠিক পরিচয় জানার প্রক্রিয়া চলছে। চিনার কর্পস জানিয়েছে, অভিযান এখনও শেষ হয়নি। জঙ্গিদের বড় গোষ্ঠীর অন্য সদস্যরা জঙ্গলে ছড়িয়ে থাকতে পারে। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।