Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

ট্রাম্পের পর এবার মেক্সিকোর গুঁতো: ভারতের রফতানিতে ৫০% শুল্ক, ৯ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য

মেক্সিকো সরকারের দাবি, তাদের দেশ চরমভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল এশিয়ায় তৈরি শিল্পপণ্যের ওপর, বিশেষ করে চিনের ওপর। ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছিল।

ট্রাম্পের পর এবার মেক্সিকোর গুঁতো: ভারতের রফতানিতে ৫০% শুল্ক, ৯ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল

শঙ্খদীপ দাস, মুখ্য সম্পাদক, দ্য ওয়াল

শেষ আপডেট: 11 December 2025 20:26

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর এবার ভারতের উপর নয়া শুল্ক সন্ত্রাসের ঝাপটা এসে পড়ল। এবং তা এসে পড়ল আমেরিকার লাগোয়া রাষ্ট্র মেক্সিকো (Mexico) থেকে। মেক্সিকো এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আমদানি হওয়া নির্বাচিত পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। এর ফলে ভারত (India), দক্ষিণ কোরিয়া, চিন, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার রফতানি বাণিজ্যের উপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে। আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এই সিদ্ধান্ত। এর নেপথ্যে ট্রাম্পের (Donald Trump) ইন্ধন বা ট্রাম্পকে খুশি করার চেষ্টার মতো রাজনৈতিক পদক্ষেপ থাকতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।

কোন কোন পণ্যে বাড়ল শুল্ক?

মেক্সিকোর নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে মূলত এমন সব শিল্পপণ্যে, যা দেশটির স্থানীয় শিল্পকে বিদেশি প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে দিচ্ছে। অর্থাৎ ঘরোয়া শিল্পকে বাঁচাতেই এই সিদ্ধান্ত। তালিকায় রয়েছে—

  • অটো পার্টস ও হালকা গাড়ি
  • পোশাক, টেক্সটাইল, খেলনা
  • প্লাস্টিক, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম
  • হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ফার্নিচার, কাগজ
  • কসমেটিকস, পারফিউম, সাবান
  • মোটরসাইকেল, ট্রেলার, চামড়াজাত পণ্য

মেক্সিকান দৈনিক এল ইউনিভার্সালের (El Universal)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুল্ক বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হল, স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদন সংস্থাগুলিকে রক্ষা করা।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

মেক্সিকো সরকারের দাবি, তাদের দেশ চরমভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল এশিয়ায় তৈরি শিল্পপণ্যের ওপর, বিশেষ করে চিনের ওপর। ফলে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছিল। এই কারণে আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং জাতীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া—এই তিনটিই বড় লক্ষ্য।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করার রাজনৈতিক ইচ্ছাও। কারণ আগামী দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হবে (US-Mexico-Canada Agreement), যেখানে আমদানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমেরিকার চাপ বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে চিন

২০২৪ সালে ১৩০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য মেক্সিকোতে রফতানি করেছিল চিন। তাই এই শুল্কবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় আঘাত লাগবে বেজিংয়ের ওপর। চিন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা “এক তরফা শুল্কবৃদ্ধির বিরুদ্ধে” এবং মেক্সিকোকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

মেক্সিকো (Mexico) ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ি রফতানি বাজার। ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসছে ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পে। ফোকসওয়াগেন (Volkswagen), হুন্দাই (Hyundai), নিসান (Nissan) এবং মারুতি সুজুকির ( Maruti Suzuki)—মতো বড় সংস্থাগুলোর প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি রফতানিতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। আগে গাড়ির ওপর শুল্ক ছিল ২০%, তা বাড়িয়ে ৫০% করা হয়েছে।

শিল্পমহল বলছে, এতে ভারতের গাড়ি রফতানিতে উল্লেখযোগ্য ধস নামতে পারে, কারণ বাড়তি শুল্কে দাম প্রতিযোগিতামূলক থাকবে না। ইতিমধ্যেই ভারত সরকারকে মেক্সিকোর সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মেক্সিকোর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা দিতে পারে। স্থানীয় শিল্প রক্ষার নাম করে এই সুরক্ষাবাদী নীতি কার্যকর হলে ভারত-সহ বহু এশীয় দেশের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর বিশেষত ভারতের গাড়ি শিল্পের ওপর এর প্রভাব হবে স্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ।


```