হামলার পর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দফতরই নিশানায়। কোথায় রয়েছেন আলি খামেনেই, সে নিয়েই জোর জল্পনা।

ট্রাম্প- খামেনেই
শেষ আপডেট: 28 February 2026 17:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের (Iran) উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইজরায়েলের (Israel) যৌথ হামলা ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা। লক্ষ্যবস্তু শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়—রাজনৈতিক নেতৃত্বও। আর হামলার পর বড় প্রশ্ন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই (Ali Khamenei) এখন কোথায়?
প্রথম দফার হামলায় তেহরানে খামেনেইয়ের দফতরে হামলা হয়েছে। সঙ্গে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ নামে যে সংস্থা সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে—সেই ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত। এমনকি খামেনেইয়ের কার্যালয়ের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
ইরানের তরফে যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর অবস্থান নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি, রয়টার্সকে এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে—হামলার সময় খামেনেই তেহরানে ছিলেন না। তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক বার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) একটি ভিডিওতে অভিযানের নাম দেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, লক্ষ্য শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, দেশের সামরিক কাঠামোকে ভেঙে দেওয়া এবং ‘পরিবর্তনের সুযোগ’ তৈরি করা।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের গর্বিত জনগণ, স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। আমরা কাজ শেষ করলে আপনারাই আপনার সরকার বেছে নেবেন।’ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) আরও তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন। বলেন, 'এই হামলা ইরানের জনগণের হাতে ভবিষ্যৎ তুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।'
বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্যবস্তু বাছাই থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই হামলা শুধু সামরিক নয়—রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দুর্বল করার কৌশলও হতে পারে।
প্রেসিডেন্টের বাসভবনও নিশানায়
হামলায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশখিয়ানের (Masud Pezeshkhian) বাসভবন এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guards Corps বা IRGC)-এর সদর দফতরও আক্রান্ত হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও শীর্ষ নেতার নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বছর জুনে মার্কিন হামলার লক্ষ্য ছিল গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা। এবার লক্ষ্য করা হয়েছে নেতৃত্বের অফিস ও বাসভবন—যা কৌশলের স্পষ্ট পরিবর্তন।
‘রেজিম চেঞ্জ’ কি অ্যাজেন্ডায়?
প্রকাশ্যে কেউ ‘রেজিম চেঞ্জ’ শব্দ ব্যবহার না করলেও ইঙ্গিত স্পষ্ট। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শশাঙ্ক জোশী (Shashank Joshi) মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু বলেছেন—এটি ইরানের জনগণের কাজ। এতে আক্রমণ ব্যর্থ হলে দূরত্ব রাখার সুযোগ থাকে।
ইরানে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। সেই প্রেক্ষাপটে এই হামলা নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা। এখন নজর—ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ কী হয়, আর আলি খামেনেই প্রকাশ্যে আসেন কি না। পশ্চিম এশিয়ার সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। উত্তেজনার পারদ চড়ছে। বিশ্বের চোখ তেহরানের দিকে।