গ্রিনল্যান্ডের পর এবার দিয়েগো গার্সিয়া। মরিশাসের হাতে দ্বীপ হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে ‘চরম বোকামি’ বলে কটাক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
.jpeg.webp)
ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 20 January 2026 22:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন বছরের শুরু থেকেই বিশ্ব রাজনীতিতে একের পর এক ঢেউ তুলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। কখনও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর হুঁশিয়ারি, কখনও ডেনমার্কের কাছে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রকাশ্য দাবি। সেই তালিকায় এ বার যুক্ত হল ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ, দিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia)।
মরিশাসের কাছে এই দ্বীপের মালিকানা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন। আর সেই সিদ্ধান্তকে ‘চরম বোকামি’ বলে কটাক্ষ করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে একদিকে অস্বস্তিতে লন্ডন, অন্যদিকে কৌশলগত দিক থেকে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লিও।
ট্রাম্পের দাবি, কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই ব্রিটেন এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ ছেড়ে দিচ্ছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লিখেছেন, এই সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের দুর্বলতারই প্রমাণ। তাঁর আশঙ্কা, এর ফলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিন ও রাশিয়া আরও আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্পের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শক্তিই শেষ কথা। তাই দিয়েগো গার্সিয়া হাতছাড়া করা শুধু ব্রিটেনের ভুল নয়, বরং আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষেও বড় ঝুঁকি। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত, এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়েই ট্রাম্প ফের তুলছেন তাঁর পুরনো ‘গ্রিনল্যান্ড দখল’ তত্ত্ব।
তাঁর যুক্তি স্পষ্ট, ব্রিটেন যদি ‘বোকামি’ করে নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে পারে, তবে আমেরিকা তা করবে না। সেই কারণেই ডেনমার্কের উচিত অবিলম্বে গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া, যাতে চিন বা রাশিয়া সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
কূটনৈতিক মহলে ট্রাম্পের এই আচরণকে রীতিমতো ‘ডিগবাজি’ বলেই দেখা হচ্ছে। কারণ, গত বছর যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার মরিশাসের সঙ্গে দিয়েগো গার্সিয়া হস্তান্তরের চুক্তি করেছিলেন, তখন ট্রাম্প নিজেই সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।
শুধু তাই নয়, ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কো রুবিও তখন এই চুক্তিকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতার পথে ‘বড় সাফল্য’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। অথচ এখন সম্পূর্ণ বিপরীত সুর শোনা যাচ্ছে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মুখে।
অন্যদিকে ব্রিটেন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। লন্ডনের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আদালতের চাপের ফলে দিয়েগো গার্সিয়ার উপর তাদের আইনি দাবি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতে মরিশাসকে সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে দিয়ে ৯৯ বছরের জন্য দ্বীপটি লিজ় নেওয়াই ছিল একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।
ব্রিটেনের দাবি, এই ব্যবস্থার ফলে দিয়েগো গার্সিয়ায় থাকা আমেরিকা ও ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদে আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে ট্রাম্পের তীব্র আপত্তির পর এই ইস্যু যে আন্তর্জাতিক কূটনীতির নতুন উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে উঠছে, তা বলাই বাহুল্য।