মঙ্গলবার এক পাক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পা প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “যদি আফগানিস্তান ইসলামাবাদের দিকে চোখ তুলে তাকায়, তাহলে চোখ উপড়ে ফেলা হবে।”

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 October 2025 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বিরুদ্ধে ফের বিতর্কিত মন্তব্য পাকিস্তানের (Pakistan)! আফগানিস্তানকে (Afghanistan) ভারতের (India) ‘হাতে পুতুল’ বললেন সেদেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ (Pak Minister Khwaja Asif)। তাঁর দাবি, দিল্লির ইশারাতেই চলছে কাবুলের সরকার, আর সেই কারণেই আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের শান্তি বৈঠকও ভেস্তে গেছে।
সম্প্রতি তুরস্কে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হয়। এই বৈঠকে মধ্যস্থতার দায়িত্বে ছিল তুরস্ক ও কাতার। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা চললেও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। খোয়াজা আসিফের দাবি, আফগানিস্তান শেষ মুহূর্তে আলোচনার অবস্থান বদলে দেয়, আর তাদের এই সিদ্ধান্তে একশো শতাংশ ভারতের প্রভাব আছে। তিনি আরও বলেন, “কাবুলের মানুষ দিল্লির মদতে পুতুলনাচ নাচছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়তে ভারত আফগানিস্তানকে ব্যবহার করছে।"
মঙ্গলবার এক পাক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পা প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “যদি আফগানিস্তান ইসলামাবাদের দিকে চোখ তুলে তাকায়, তাহলে চোখ উপড়ে ফেলা হবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, 'ভারত ও আফগানিস্তানের যৌথভাবে চালানো প্রভাব বা হামলার রাজনীতি পাকিস্তান আর সহ্য করবে না।'
ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মদতে পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এই সংগঠনকে আফগান তালিবানেরই শাখা বলে দাবি পাকিস্তানের। আর এর পেছনে ভারতের প্রত্যক্ষ সমর্থন আছে বলেই মনে করছে ইসলামাবাদ। যদিও ভারত ও আফগানিস্তান দুই দেশই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মাসের শুরুতেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ে দুই দেশের মধ্যে। পাকিস্তানের বিমান হামলা ও আফগানিস্তানের পাল্টা জবাবে সীমান্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত হলেও সম্পর্কের বরফ এখনও গলেনি।
গত ১৮ অক্টোবর দোহায় প্রথম দফার বৈঠকে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দেশ। তখনও কোনও সমঝোতা হয়নি। এবার তুরস্কে দ্বিতীয় দফার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান বলছে, পরোক্ষভাবে ভারতের হাত না থাকলে আফগানিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পথ অনেক সহজ হতো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য ইসলামাবাদ-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।