হ্যারিকেন মেলিসার তাণ্ডবে বহু গাছ উপড়ে পড়েছে, রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বহু উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে ১৩ ফুট পর্যন্ত উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, উপকূল অঞ্চলগুলিতে জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার আশঙ্কা প্রবল।

মেলিসার প্রভাবে ভারী বৃষ্টি জ্যামাইকায়
শেষ আপডেট: 29 October 2025 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়! ১৭৪ বছরে ঘূর্ণিঝড়ের এই ভয়ঙ্কর তাণ্ডব দেখেনি জামাইকা। মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ-পশ্চিম জামাইকায় নিউ হোপের কাছে হ্যারিকেন ‘মেলিসা’ (Hurricane Melissa) আছড়ে পড়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ২৯৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসা এই ঝড়কে 'ক্যাটাগরি-৫ হ্যারিকেন' (Category 5 hurricane) হিসেবে চিহ্নিত করেছে আমেরিকার ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টার (NHC)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আধুনিক ইতিহাসে জামাইকার উপর আঘাত হানা শক্তিশালী ঝড়গুলির মধ্যে অন্যতম।
জানা যায়, ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের (Hurricane Mellisa Landfall) আগেই তার ভয়াবহ প্রভাবে মৃত্যু হয়েছে সাত জনের, যার মধ্যে তিনজন জামাইকা এবং তিনজন হাইতির নাগরিক। বাকি একজন মারা গিয়েছেন কাছাকাছি এক দ্বীপে। হ্যারিকেনের দাপটে দ্বীপজুড়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে একাধিক এলাকায়। বর্তমানে প্রায় দু’লক্ষ মানুষ অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন। আশ্রয় হারিয়েছেন অনেকেই।
জামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রিউ হোলনেস জানিয়েছেন, “দেশের কোনও পরিকাঠামোই এই মাত্রার ঝড় সামলানোর উপযোগী নয়। তাই সবাইকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
হ্যারিকেন মেলিসার তাণ্ডবে বহু গাছ উপড়ে পড়েছে, রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বহু উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে ১৩ ফুট পর্যন্ত উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, উপকূল অঞ্চলগুলিতে জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার আশঙ্কা প্রবল।
ন্যাশনাল হ্যারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দ্বীপের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় মেলিসার শক্তি কিছুটা কমে ক্যাটাগরি-৪ হ্যারিকেনে পরিণত হবে। তবুও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জামাইকার বহু এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এর আগে এমন ভয়ঙ্কর বাতাস ও গর্জন তাঁরা কখনও দেখেননি বা শোনেননি। একজন বলেন, "ঘর কাঁপছিল, জানলা-দরজা খুলে উড়ে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে পুরো দ্বীপটাই যেন কাঁপছে।"
বর্তমানে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। তবুও বিদ্যুৎহীন অবস্থা ও প্রবল বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না।