ট্রাম্প এতদিন দাবি করে এসেছেন - ভারত–পাকিস্তান সংঘাত পারমাণবিক যুদ্ধে পরিণত হচ্ছিল। তিনিই ব্যবসার লোভ দেখিয়ে তা থামিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ভারত-পাকিস্তান দুই পক্ষই তাঁর প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 27 August 2025 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ (India Pakistan Conflict) আমি থামিয়েছি।' মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) নিজেও হয়তো বলতে পারবেন না, এই দাবি তিনি কতবার করেছেন। যে কোনও বিষয় নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক হলে যখনই এই প্রসঙ্গ ওঠে তখনই ট্রাম্প এই দাবি করেন। তবে সম্প্রতি এর বাইরে গিয়ে আরও এক দাবি তিনি করেছেন যা নিয়ে আরও বেশি চর্চা হচ্ছে।
ট্রাম্প এতদিন দাবি করে এসেছেন - ভারত–পাকিস্তান সংঘাত পারমাণবিক যুদ্ধে (Nuclear War) পরিণত হচ্ছিল। তিনিই ব্যবসার লোভ দেখিয়ে তা থামিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ভারত-পাকিস্তান দুই পক্ষই তাঁর প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এবার তিনি দাবি করলেন, পহেলগাম হামলার (Pahalgam Attack) পর চারদিনের যে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত হয়েছিল তাতে ৭টি যুদ্ধবিমান (Fighter Jet) ধ্বংস হয়! যদিও কোন দেশের বিমান ছিল সেগুলি, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ভারত আর পাকিস্তানকে আমি না থামালে পারমাণবিক যুদ্ধ লেগে যেত। আমি দেখলাম ওরা লড়ছে, সাতটা বিমান ধ্বংস হয়েছিল। আমি বললাম, এভাবে চলতে পারে না।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর হুঁশিয়ারির পরই পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সংঘর্ষ থেমে যায়।
ভারতের সরকারি অবস্থান অবশ্য একেবারেই আলাদা। দিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন্স (DGMO)-র সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে। কোনও বিদেশি শক্তির মধ্যস্থতা হয়নি বলেই ভারতের দাবি।
যদিও ট্রাম্প তাঁর মন্তব্যে অনড়। তিনি এও দাবি করেছেন, যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো তবে ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তি আটকে দিত এবং ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক এতটাই বাড়ানো হত যে 'মাথা ঘুরে যেত।' এখানেই থামেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভবিষ্যতে ফের ভারত–পাক উত্তেজনা শুরু হলে তিনি আবারও হস্তক্ষেপ করবেন বলে ইঙ্গিত দেন।
এদিকে এই সময়ই দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সংকটে পড়েছে। মার্কিন প্রশাসন ঘোষণা করেছে, ২৭ আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক বসবে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রুশ তেল আমদানি চালিয়ে যাওয়ায় ভারতকে শাস্তি দিতেই এই পদক্ষেপ। তবে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারত-আমেরিকার ভার্চুয়াল ২+২ আলোচনা। সেই বৈঠকের নির্যাস নিয়েও বিস্তর আলোচনা।