ভারতের সরকারি অবস্থান অবশ্য একেবারেই আলাদা। দিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন্স (DGMO)-র সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 27 August 2025 09:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ফের দাবি করলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত প্রশমনে সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) তিনি চাপ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো তবে ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তি আটকে দিত এবং ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক এতটাই বাড়ানো হত যে 'মাথা ঘুরে যেত।'
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, 'আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলছিলাম। উনি একটা টেরিফিক লোক। আমি তাঁকে বললাম— তোমাদের আর পাকিস্তানের মধ্যে কী হচ্ছে? ঘৃণার মাত্রা ছিল ভয়াবহ।'
EXPLOSIVE : Trump completely exposed Modi for the first time 🚨
“I spoke to Modi & threatened him to cut off trade deals in 24 hours if he didn’t stop war. But he stopped in only 5 hours” 🤯
Modi truly sold the nation for money. THIS IS TREASON. pic.twitter.com/hMi5dREHeF— Ankit Mayank (@mr_mayank) August 26, 2025
ট্রাম্প বলেন, “আমি বলেছিলাম— আমি তোমাদের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য চুক্তি করতে চাই না। যদি তোমরা এভাবে চলতে থাকো, তাহলে পারমাণবিক যুদ্ধ লেগে যাবে। আমাকে কালকে ফোন করো, কিন্তু আমরা কোনও চুক্তি করব না। বরং তোমাদের উপর এমন শুল্ক চাপাবো যে মাথা ঘুরে যাবে।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ওই কথোপকথনের পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।
ভারতের সরকারি অবস্থান অবশ্য একেবারেই আলাদা। দিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন্স (DGMO)-র সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে। কোনও বিদেশি শক্তির মধ্যস্থতা হয়নি বলেই ভারতের দাবি।
ঠিক এই সময়ই দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সংকটে পড়েছে। মার্কিন প্রশাসন ঘোষণা করেছে, ২৭ আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক বসবে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রুশ তেল আমদানি চালিয়ে যাওয়ায় ভারতকে শাস্তি দিতেই এই পদক্ষেপ।
এদিকে, মঙ্গলবার আমদাবাদে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট জানান, ভারত কোনও বিদেশি চাপের কাছে মাথা নোয়াবে না। তিনি বলেন, “আমাদের কৃষক, পশুপালক ও ক্ষুদ্র শিল্পের স্বার্থই সবার আগে। চাপ আসতে পারে, কিন্তু ভারত তা সহ্য করবে। ভারতীয় পণ্যের উপরই আমাদের নির্ভর করতে হবে।”
বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারত-আমেরিকার ভার্চুয়াল ২+২ আলোচনা। প্রতিরক্ষা ও বিদেশ মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বৈঠকে অংশ নেন। আলোচনায় উঠে এসেছে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অনুসন্ধান, জ্বালানি সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়।