সেনা শাসিত মায়ানমারে (Myanmer) সরকারি বাহিনীর নিপীড়ন, নির্যাতন দিন দিন মাত্রা ছাড়াচ্ছে।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত মায়ানমারে এমন বহু শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার
শেষ আপডেট: 7 June 2025 15:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেনা শাসিত মায়ানমারে (Myanmer) সরকারি বাহিনীর নিপীড়ন, নির্যাতন দিন দিন মাত্রা ছাড়াচ্ছে। দিন কয়েক আগে একটি হত্যাকাণ্ডের (killing) তদন্তে সে দেশের সেনা ও পুলিশের যৌথবাহিনী ছয় বছর বয়সি একটি শিশুকন্যাকে গ্রেফতার (arrested six-year-old girl child in a murder case) করেছে। সরকার পক্ষ আপত্তি করায় আদালত শিশুকন্যাটিকে জামিন দেয়নি। একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এবং শিশু অধিকার রক্ষা সমিতি শিশুটির হয়ে জামিনের আর্জি জানায়। সেনা শাসিত (army ruled) প্রশাসন আর্জি কানে তোলেনি।
গত মে মাসে মায়ানমারের প্রাচীন শহর ইয়াঙ্গন (Yangon) বা সাবেক রেঙ্গুনে (Rangoon) নিহত হন সাবেক সেনাকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চো তুং আং। ৬৮ বছর বয়সি ওই অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা অবসর নেওয়ার পর একাধিক দেশের মায়ানমারের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সুত্রে দেশে দেশে সেনা সরকারের সপক্ষে জনমত তৈরির কাজ করতেন তিনি। পাশাপাশি দেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে সমর্থন না জানাতেও জনমত গড়ে তোলা ছিল তাঁর অন্যতম দায়িত্ব। এ বছরের গোড়ায় সেই কাজ থেকেও অবসর নিয়ে ইয়াঙ্গনের বাড়িতে অবসর জীবন যাপন করছিলেন। ২২ মে বাড়ি লাগোয়া রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয় তাঁকে। নাতিকে নিয়ে হাঁটতে বের হয়েছিলেন তিনি।
সরকারি সুত্র জানাচ্ছে, মায়ানমারে বর্তমানে সেনা ও পুলিশে অবসরপ্রাপ্ত পদস্থ কর্তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত পদস্থ আধিরাকিরকে হত্যা করেছে বিদ্রোহীরা। বিশেষভাবে টার্গেট করা হচ্ছে ২০২১-এর মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে অবসর নেওয়া অফিরাসদের। সে বছর জুনে নতুন করে সেনা বাহিনী দেশ পরিচালনার ভার নিজেদের হাতে তুলে নেয়। তারা সু চি-র নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনে। এর কিছুদিন পর থেকেই দেশটিকে গৃহযুদ্ধ চলছে।
দেশটির সরকারি প্রচার মাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট জানিয়েছে, চো তুং আংকে হত্যার ঘটনায় মোট তিনজন মহিলা, একজন শিশুসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে শিশুটির বাবা-মা’ও আছে।
হত্যাকাণ্ডের পরই দায় স্বীকার করে গোল্ডেন ভ্যালি ওয়ারিয়র নামে একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সেটি একটি বেসরকারি সেনা বাহিনী। মধ্য মায়ানমারের শহর বাগান হল এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রধান কার্যালয়। সেখান থেকেই খুনি সন্দেহে ওই ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।