২০১৭ সালে মহিলা হিসেবে সর্বাধিক সময় মহাকাশে কাটানোর রেকর্ড গড়লে, হোয়াইট হাউজে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কন্যা ইভাঙ্কা।

পেগি হুইটসন
শেষ আপডেট: 15 July 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া মেয়েটি, আজ মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। পেগি হুইটসন (Peggy Whitson)— নাসার প্রাক্তন মহাকাশচারী ও সদ্য অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের কমান্ডার, যিনি ইতিমধ্যেই ৬৬৫ দিন মহাকাশে কাটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময় মহাকাশে থাকা মহিলার খেতাব অর্জন করেছেন।
গত ২৫ জুন ফ্লরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে আইএসএসের (ISS) উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন ভারতীয় নভোচর শুভাংশু শুক্লা (Shubhangshu Shukla)। নাসার ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ নামে এই অভিযানেই শুভাংশুর সঙ্গী ছিলেন ক্রু-কমান্ডার পেগি হুইটসন, মিশন বিশেষজ্ঞ স্লাওস উজানস্কি-উইজনিউস্কি এবং টিবর কাপু।
১৮ দিন আইএসএসে কাটানোর পর সোমবার শুভাংশুদের প্রত্যাবর্তন শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের একটু পরে বিকেল ৪টে ৪৫ মিনিটে (ভারতীয় সময়) মহাকাশকেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয় শুভাংশুদের মহাকাশযান। শুরু হয় পৃথিবীর দিকে ফিরতি যাত্রা। ২৩ ঘণ্টার দীর্ঘ সেই যাত্রার শেষে ইতিমধ্যেই চার নভোচর ফিরে এসেছেন পৃথিবীতে। ভারতীয়দের মনে যেমন শুভাংশুকে নিয়ে হইচই, অন্যদিকে পেগি হুইটসনকে নিয়েও মাতামাতি করছে তাঁর দেশ।
বেশ কিছুদিন আগেই এক লাইভ স্ট্রিমে হুইটসন বলেছিলেন, “সবাই জানেন আমি কতটা ভালবাসি উড়তে। আমরা যে সমস্ত বৈজ্ঞানিক কাজ নিয়ে যাচ্ছি, সেগুলো শুরু করতে মুখিয়ে আছি।” তখনই ভারতের শুভাংশু মজা করে বলেন, “ম্যাম গেলেন কোথায়? উনি তো গায়েব হয়ে গেলেন!” তারপরই বলতে থাকেন, “পেগি হুইটসন এক কিংবদন্তি নাম। ওঁর সাফল্য শুধু স্বপ্নেই ভাবা যায়।”
২০০২ সালে প্রথম মহাকাশ সফর হুইটসনের। আজ তিনি এক দক্ষ মহাকাশ কমান্ডার, যিনি জানেন কীভাবে একটি বহুজাতিক দলের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। বিভিন্ন দেশের মহাকাশচারীদের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করাও তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার।
পেগি হুইটসনের কথায়, “সবাই ১৫০ শতাংশ কাজ করার জন্য উত্সাহী থাকে। আমি চাই, তারা মহাকাশে কী ধরনের বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছে, সেটা যেন স্পষ্টভাবে বুঝে নেয়।”
২০১৭ সালে মহিলা হিসেবে সর্বাধিক সময় মহাকাশে কাটানোর রেকর্ড গড়লে, হোয়াইট হাউজে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কন্যা ইভাঙ্কা। ট্রাম্প বলেছিলেন, “পেগি হলেন এমন এক রোল মডেল, যিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে মহিলাদের অনুপ্রাণিত করেন।”
১৯৬০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, মার্কিন মুলুকের এক কৃষক পরিবারে জন্ম পেগির। শৈশব থেকেই কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় ছিল তাঁর শিক্ষার মূল ভিত্তি। হিউস্টনের রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে পড়াশোনা করে ১৯৮৬ সালে পোস্টডক্টরাল গবেষণার কাজ শেষ করেন তিনি।
পরবর্তীতে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগ দেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিতে বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন। যার মধ্যে রয়েছে স্পেস ফ্লাইট মেডেল, NASA Exceptional Service Medal, Silver Snoopy Award-এর মতো সম্মান।
অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনে তাঁর সঙ্গে থাকা স্লাওয়োস উজনানস্কি বলেন, “ওঁর নেতৃত্বের ধরণ অসাধারণ। জানেন কোন মুহূর্তে কোথায় আমাদের সাহায্য দরকার।” বিভিন্ন দেশের মহাকাশচারীদের জন্য এক মানবিক ও আন্তরিক স্পেস ক্যাপ্টেন হলেন পেগি হুইটসন।
আইএসএস-এ পৌঁছে নিজের দলকে এগিয়ে আসার সুযোগ দিয়েছিলেন হুইটসন। জানিয়েছিলেন, “আমার এই মিশনের লক্ষ্যই হল বিভিন্ন দেশের সামনে মহাকাশের দরজা খুলে দেওয়া।” মহাকাশে গিয়ে শুধু বিজ্ঞানের নয়, মানবিকতাকেও আলাদা করে জায়গা করে দিয়েছেন এই মহিলা নভোচর।