ভারতের ‘গগনযান’ প্রকল্পে এই অভিযান ছিল এক ঐতিহাসিক সূচনা। প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতীয়কে চাঁদে নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে ইসরো (ISRO)। সেই দীর্ঘ যাত্রার সূচনা শুভাংশুর হাত ধরেই।

শুভাংশুর ঘরে ফেরা। গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 15 July 2025 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাকাশে ইতিহাস গড়ে এবার পৃথিবীতে ফিরলেন লখনউয়ের ছেলে শুভাংশু শুক্লা (Subhangshu Shukla)। স্পেসএক্স-এর 'গ্রেস' ক্যাপসুল করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তিন সঙ্গীকে নিয়ে ফিরলেন তিনি। দুপুর তিনটে নাগাদ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে অবতরণ করল তাঁদের ক্যাপসুল।
এর আগে ১৯৮৪-তে রাকেশ শর্মা মাত্র ৭ দিন মহাকাশে কাটিয়েছিলেন। শুভাংশুই প্রথম ভারতীয় যিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গিয়ে দীর্ঘ সময় কাটালেন। ১৮ দিনে ১২.২ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ ঘুরে মোট ২৮৮ বার দেখলেন পৃথিবীকে। অর্থাৎ, পৃথিবী-চাঁদের দূরত্বের প্রায় ৩২ গুণ পথ অতিক্রম করলেন তিনি।
ভারতের ‘গগনযান’ প্রকল্পে এই অভিযান ছিল এক ঐতিহাসিক সূচনা। প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতীয়কে চাঁদে নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে ইসরো (ISRO)। সেই দীর্ঘ যাত্রার সূচনা শুভাংশুর হাত ধরেই।
এই মিশনের জন্য ভারতের খরচ হয়েছে প্রায় ৫৮০ কোটি টাকা (৭ কোটি ডলার)। গড়ে প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে প্রায় ৪ টাকা করে এসেছে এই মহাকাশ অভিযানের জন্য। এখন তাঁর মহাকাশ থেকে ফেরার পর শুরু হবে আরও বড় কাজ। শুভাংশুর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের ভবিষ্যতের মহাকাশমানব অভিযানের রূপরেখা তৈরি করা হবে।
২৫ জুন স্পেসএক্সের ড্রাগন স্পেসক্রাফট নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করে। শুভাংশু শুক্লা এই মিশনের পাইলট। এই যাত্রার মধ্য দিয়ে তিনি রাকেশ শর্মার (১৯৮৪) পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করলেন। ২৮ জুন শুভাংশুর সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
অ্যাক্সিয়ম স্পেস সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, শুভাংশু ও তাঁর সহযাত্রীরা (মিশন কম্যান্ডার পেগি হুইটসন, স্লাভোস উজনানস্কি, তিবোর কাপু) গত ১৮ দিন ধরে মহাকাশে নানা বৈজ্ঞানিক কাজ করেছেন। শুভাংশু একাই সাতটি ভারত-কেন্দ্রিক মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরীক্ষা করেন। এগুলি ভবিষ্যতের গ্রহ অভিযান বা বা চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতিতে এই গবেষণাগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
অ্যাক্সিয়ম-৪ (Axiom-4) সোমবার সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) থেকে পৃথিবীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ভারতের সময় অনুযায়ী, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে স্পেসএক্সের ড্রাগন স্পেসক্রাফট ISS থেকে বিচ্ছিন্ন (Undocking) হয়। এর পরে আজ, মঙ্গলবার, ভারতীয় সময় দুপুরে তিনটে নাগাদ ল্যান্ড করল সেটি।
পৃথিবীতে পা রাখার পর প্রায় এক সপ্তাহ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকতে হবে চার মহাকাশচারীকে, যাতে তাঁদের শরীর আবার মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।