একই ফ্রেমে তৃণমূল ও সিপিএম। মঙ্গলবারের সকালে বঙ্গোপসাগরের সৈকতে এক অদ্ভূত দৃশ্য তৈরি হল!

শেষ আপডেট: 15 July 2025 15:09
মঙ্গলবারের সকালে বঙ্গোপসাগরের সৈকতে এক অদ্ভূত দৃশ্য তৈরি হল! বর্ষায় অঝোর ঝর্ণার নিচে যেমন মাঝেসাঝে দৃষ্টিনন্দন রামধনু তৈরি হয়। এই ছবিটাও তেমনই উজ্জ্বল ও ঝকঝকে। একই ফ্রেমে তৃণমূল ও সিপিএম। একজন দমদমের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। অন্যজন চব্বিশের ভোটে ব্যারাকপুর লোকসভায় সিপিএম প্রার্থী দেবদূত ঘোষ (Debdyut Ghosh)। সিপিএমের বর্তমান ক্ষয়িষ্ণু দশাতেও ব্যারাকপুরে ৯.৬ শতাংশ তথা প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন যিনি।
বাংলা-রাজনীতির তিন চরিত্র#TheWallNews #entertainment #lahogourangernaamre #SrijitMukherji pic.twitter.com/mYinyEmJrr
— The Wall (@TheWallTweets) July 15, 2025
রানা সরকার ও এসভিএফ প্রযোজিত ও সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’-র শ্যুটিং (Laho Gouranger Nam Re) চলছে পুরোদমে। মঙ্গলবার আউটডোর লোকেশন ছিল পুরী (Puri)। পুরোদস্তুর সিরিয়াস শ্যুট। অথচ মেজাজ যেন পিকনিকের। কখনও যীশু সেনগুপ্তকে ঠেলে সমুদ্রের জলের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন সৃজিত। তো কখনও সৃজিতকেই জলে ঠেলে ফেলছেন যীশু। সপ সপে ভিজে জামা কাপড়ে সারা গায়ে বালি মেখে ফের ক্যামেরার পিছনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন পরিচালক।

সৃজিতের এই ছবিতেই বহু রাজনৈতিক মুখের সমাহার। দেবদূত ফুলটাইম অভিনেতা। তবে ব্রাত্য বসুর ঝুলিতে সফল নাট্য পরিচালনা, অভিনয়, সিনেমা ইত্যাদি থাকলেও সিলভার স্ক্রিনে তিনি এখন কার্যত পার্ট টাইম। অনেকটা সময় চলে যায় নিজের নির্বাচন কেন্দ্র দমদমে ও বিকাশ ভবনে শিক্ষা দফতরে।
এই ছবিতে আরও রাজনৈতিক মুখ রয়েছেন। তৃণমূলের দুই নেতা নেত্রী— পার্থ ভৌমিক ও অনন্যা চট্টোপাধ্যায়। পার্থ ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ। যাঁর কাছে পরাস্ত হয়েছেন দেবদূত। সাংসদ হওয়ায় তাঁর মন্ত্রিত্ব গেছে। ফলে কাজের চাপ কিছুটা কম। দিল্লিতেও তাঁর বিশেষ মন টেকে না। এমনকি দিল্লিতে যে সরকারি বাংলো পেয়েছেন, সেটিও পার্টি অফিস হিসাবে কাজে লাগানোর জন্য দিয়ে দিয়েছেন দলকে। সংসদের কাজে দিল্লিতে গেলে, তিনি গিয়ে থাকেন বঙ্গভবনে। আবার প্রলয়ের পর পার্থ এই ছবি দিয়েই ফিরছেন বড় পর্দায়। আর অনন্যা চট্টোপাধ্যায় হলেন কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ইদানীং বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তাঁকে দেখা যাচ্ছে।

এ ছবিতে চরিত্রগুলি মোটেও কাল্পনিক নয়। সত্যি ঘটনার ভিত্তিতেই লেখা হয়েছে চিত্রনাট্য। ব্রাত্য অভিনয় করছেন প্রবাদপ্রতীম নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষের চরিত্রে। দেবদূত হয়েছেন রাজা প্রতাপ রুদ্র। আর পার্থ ভৌমিক যেন একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলেছেন। তিনি অভিনয় করছেন রামকৃষ্ণ পরমহংসের চরিত্রে। অতীতে তৃণমূল নেতা অজিত পাঁজা রামকৃষ্ণের চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল প্রশংসা পেয়েছিলেন। পার্থর সামনে চ্যালেঞ্জ তাঁকে ছাপিয়ে যাওয়ার।
ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ অবশ্য পুরীতে যাননি। তবে ব্রাত্য, দেবদূত ও অনন্যাকে মঙ্গলবার ভোর থেকেই দেখা গেল সমুদ্র সৈকতে। রাজবেশে দেবদূতকে ভালই মানিয়েছে। গিরিশচন্দ্র ঘোষের চরিত্রে ব্রাত্য ছাড়া যেন অন্য কাউকে ভাবাই যাচ্ছে না। আবার অনন্যা-শুভশ্রীর মেক আপও বেশ নজরকাড়া।

বর্তমানে বাংলা ছবির শুটিং মোটামুটি ভাবে আঠারো-কুড়ি দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবির শ্যুট অনেকটাই হচ্ছে ওড়িশায়। পুরী ছাড়াও অন্য লোকেশনও রয়েছে। তা ক্রমশ প্রকাশ্য।