২০১৯ সালে ‘মিস ডার্ক কুইন তামিলনাড়ু’ খেতাব জয় করেছিলেন। পরে ২০২১ সালে জিতেছিলেন ‘মিস পুদুচেরি’-র মুকুট।

সান (সংগৃহীত ছবি)
শেষ আপডেট: 14 July 2025 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার পুদুচেরির জওহরলাল ইনস্টিটিউট অফ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (জিপমার)-এ মৃত্যু হল প্রাক্তন মিস পুদুচেরি ও জনপ্রিয় মডেল সান রেচালের। বয়স হয়েছিল মাত্র ২৬। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫ জুলাই তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তারপর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
সান রেচাল নামটা শুধুমাত্র সৌন্দর্যের প্রতীক ছিল না। ফ্যাশন দুনিয়ার বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এক সাহসী কণ্ঠস্বর ছিলেন তিনি। ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছিলেন। তাঁর বাবাই ছিলেন সান-এর সবচেয়ে বড় ভরসা, যিনি মডেলিং দুনিয়ায় মেয়ের পথচলার স্বপ্নে পাশে থেকেছেন আগাগোড়া। সৌন্দর্যের সংজ্ঞা যেখানে শুধুমাত্র ‘ফর্সা’ বা বর্ণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সেখানে সেই ধারণা ভেঙে বেরিয়ে এসেছিলেন এই মডেল।
২০১৯ সালে ‘মিস ডার্ক কুইন তামিলনাড়ু’ খেতাব জয় করেছিলেন। পরে ২০২১ সালে জিতেছিলেন ‘মিস পুদুচেরি’-র মুকুট।
শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। লন্ডন, জার্মানি, ফ্রান্স, একাধিক আন্তর্জাতিক মডেলিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন সান। পাশাপাশি মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতেন সক্রিয়ভাবে।
তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সান দীর্ঘদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন। ৫ জুলাই অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন। তাঁর বাবাই বিষয়টি দেখেন। প্রথমে নিয়ে যান পুদুচেরির সরকারি হাসপাতালে, সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পরে ভর্তি করা হয় জিপমারে। কিন্তু কোনওভাবেই আর বাঁচানো সম্ভব হল না।
উরুলাইয়ানপেট্টাই থানার পুলিশ একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সান রেচালের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাঁর সাহস, লড়াই এবং প্রতিবাদ আগামীদিনে একইভাবে থেকে যাবে বলে আশাবাদী সকলে।