১০৪ জন স্কাইডাইভার একসঙ্গে গড়ে তুললেন বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানপি রিলেটিভ ওয়ার্ক বা CRW। রঙিন প্যারাশুটে সাজানো সেই তারার মতো গঠন এতটাই নিখুঁত, এতটাই মনোমুগ্ধকর, যে মুহূর্তেই তা ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 November 2025 19:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সূর্য ওঠার আগের সেই নরম আলোয় ফ্লোরিডার (Florida) লেক ওয়েলস (Lake Wales) যেন হঠাৎ হয়ে উঠেছিল বিশাল ক্যানভাস। আর সেই ক্যানভাসে আঁকা হল এক অবিশ্বাস্য ছবি।
১০৪ জন স্কাইডাইভার (104 Skydivers) একসঙ্গে গড়ে তুললেন বিশ্বের বৃহত্তম ক্যানপি রিলেটিভ ওয়ার্ক বা CRW। রঙিন প্যারাশুটে সাজানো সেই তারার মতো গঠন এতটাই নিখুঁত, এতটাই মনোমুগ্ধকর, যে মুহূর্তেই তা ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে সোশ্যাল মিডিয়ার (Social Media) দুনিয়ায়।
১৮ বছর আগে তৈরি ১০০ জনের CRW রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেল এই নতুন অর্জন। 'অপারেশন VK' (Operation VK) নামে পরিচিত অভিযানে প্রথমে ৩৬ জন পাইলট ভালকিরি প্যারাশুটের (Parachute) সাহায্যে একটি স্থির ভিত্তি তৈরি করেন। এরপর বিভিন্ন বিমানের তরফে ধারাবাহিক লাফে বাকিরা সেই গুচ্ছে নিখুঁত ভাবে জুড়ে যান। উচ্চতার প্রতিকূলতা, হাওয়ার দিক, টার্বুলেন্স - সব সামলে মিলিমিটার-প্রেসিশনে তৈরি হয় এই দৃষ্টিনন্দন আকাশশিল্প।
১৯টি দেশের অংশগ্রহণে তৈরি এই সাফল্য কেবল রেকর্ড (Record) নয় - এ যেন মানুষের অধ্যবসায়, প্রযুক্তি আর দলগত শৃঙ্খলার এক অনন্য উদযাপন। অভিজ্ঞ স্কাইডাইভারেরা (Skydivers) বলছেন, CRW স্কাইডাইভিংয়ের কঠিনতম শাখাগুলোর একটি। প্যারাশুট নেমে আসে ২০–৩০ মাইল গতিতে। সেই নামার মাঝেই গ্রিপ বজায় রাখা, শরীরের ভারসাম্য স্থির রাখা এবং পুরো দলের সঙ্গে একসঙ্গে শ্বাস ফেলা, এ এক আলাদা পরীক্ষাই বটে।
কুয়াশা (Fog) ঢাকা সকাল প্রথমে কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছিল। কিন্তু আকাশ পরিষ্কার হতেই দলটি ধরল তাল, আর সেই তালেই জন্ম নিল ইতিহাস। নিরাপত্তায় ছিল অত্যাধুনিক সাইপ্রেস অটো অ্যাক্টিভেশন ডিভাইস - যা প্রতিটি জাম্পারের আস্থা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যেন আরও মোহময়। দেখা যায়, একে একে ক্যানপি জুড়ে গিয়ে গঠনটি ফুলে উঠছে বিশাল রঙিন নক্ষত্রের মতো। আর বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় সেই গুচ্ছ ভেঙে পড়ছে ধীরে - ফুলের মতো পাপড়ি মেলে, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত সৌন্দর্যে।
এই রেকর্ড যেন নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়, স্কাইডাইভিং (Skydiving) আজ আর শুধু রোমাঞ্চের খেলা নয়; এটি আকাশে মানুষের শিল্পচর্চা, প্রযুক্তির নির্ভুলতা আর দলগত নৈপুণ্যের এক মনোমুগ্ধকর মিলন। আর শোনা যাচ্ছে, সংগঠকরা নাকি আরও বড় গুচ্ছের পরিকল্পনাও করে ফেলেছেন, যেন আকাশই অপেক্ষায় আছে নতুন কোনও রঙিন বিস্ময়ের।