গত কয়েকদিনে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে (Natural Disaster) বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।

সাইক্লোন দিতওয়াহ ধেয়ে আসছে তামিলনাড়ুর দিকে।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হংকং-১৩০। ইন্দোনেশিয়া- ১৭৪। থাইল্যান্ড- ১৪৫। শ্রীলঙ্কা-৫৬। না এটা কোনও ক্রিকেট টুর্নামেন্টের স্কোর নয়। গত কয়েকদিনে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে (Natural Disaster) বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। আর তাতেই মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০৫ জন। সাইক্লোন দিতওয়াহ (Cyclone Strom Ditwah) ধেয়ে আসছে তামিলনাড়ুর (Tamilnadu) দিকে। আগামী রবিবার তা পৌঁছবে উপকূলে। ইতিমধ্যেই অন্ধ্রসহ তামিলনাড়ুতে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি চলছে।
হংকংয়ের বহুতল আবাসনে (Wang Fuk Court structure fire) অগ্নিকাণ্ডের (Hong Kong Tower Blocks Fire) ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩০। আরও ২০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার সরকার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের হদিশের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এদিন সাংবাদিকদের সামনে হংকং সরকারের প্রতিনিধি জানান, আগুনে জখম হওয়া ৭৯ জনের চিকিৎসা চলছে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া গত বৃহস্পতিবারই সুমাত্রা দ্বীপে ৬.৬ রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প (Indonesia Earthquake) হয়। একে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় তার উপর প্রবল ভূমিকম্পে পুরো বিধ্বস্ত এই দেশ। উত্তর সুমাত্রায় এর মধ্যেই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে বন্যা ও ভূমিধসে ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ রাস্তা ভেঙেচুরে খানখান হয়ে গিয়েছে। ভূমিকম্পটি হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ‘রিং অফ ফায়ার’ এলাকার কাছেই। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা (Indonesia Sumatra)। এই দ্বীপটিকে যেন থামতেই দেয় না পৃথিবীর ভিতরের অস্থিরতা।
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ (Ring of Fire) থাকা ইন্দোনেশিয়া বছরভর ভূমিকম্পে(Earthquake) দুলে ওঠে। গত ৩০ দিনেই দেশটি অনুভব করেছে প্রায় দেড় হাজার কম্পন। USGS আর ভলকানোডিসকভারি জানাচ্ছে, এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি ছিল ৪.৫ মাত্রার বেশি। গত ছ’মাসে ২,৩০০-রও বেশি মাঝারি মাত্রার কম্পন নথিবদ্ধ হয়েছে। ভূমিকম্প এখানে ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়ম।
দক্ষিণ থাইল্যান্ড জুড়ে প্রবল বন্যায় এ পর্যন্ত ১৪৫ জন মারা গিয়েছেন। শুক্রবার সরকারি তথ্যই এর সত্যতা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় সাইক্লোন দিতওয়াহ-র প্রকোপে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৩ জনের বেশি নিখোঁজ। অতিভারী বৃষ্টিতে ভূমিধসে বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১১.৮ ইঞ্চি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পড়শি দেশে এত সংখ্যায় মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, কেন বারবার এইভাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে গণমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। যা থেকে বাদ নেই ভারতও। এবছর হিমাচল প্রদেশে বর্ষা মরশুমে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪০০ বাসিন্দার। প্রত্যেকেই অতিবৃষ্টির জেরে হড়পা বানের প্রকোপে পড়েছিলেন। তার আগের বছরেও উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলে ব্যাপক ভূমিধস হয়েছিল বর্ষার কারণে। অসম পুরোপুরি ভেসে গিয়েছিল। কেন বারবার প্রকৃতির করাল গ্রাসে পড়ছে একের পর এক দক্ষিণ এশীয় দেশ।
পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রকৃতির রূপ ও মেজাজ বদলাচ্ছে গত কয়েক দশক ধরেই। যার ফলে বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে ঋতুচক্রেই বদল ঘটে যাচ্ছে। অবৈজ্ঞানিকভাবে নগরায়ন ও জঙ্গল কাটার ফলে বাতাস গরম হয়ে উঠছে। তার সঙ্গে রয়েছে পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষ ও সরকারি অনীহা। এর দুইয়ের প্রভাবে প্রকৃতি পরিশোধ তুলছে পৃথিবীর উপর। যা থেকে বাদ নেই পশ্চিমী ও প্রথম সারির দেশগুলিও। তবে সেখানকার বিজ্ঞান ও সরকারি তৎপরতার কারণে এই হারে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়।