নতুন মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৬১ শতাংশ এলাকা এখন মাঝারি থেকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির আওতায়। এত বড় রদবদল ভারতীয় ভূমিকম্প (Indian Earthquake) শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় বহু দশকে দেখা যায়নি।

নতুন মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৬১ শতাংশ এলাকা এখন মাঝারি থেকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির আওতায়।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের ভূমিকম্প (Earthquake) ঝুঁকি-মানচিত্রে বড়সড় বদল। ভারতীয় মানদণ্ড ব্যুরো (BIS)-র নয়া Earthquake Design Code বলছে, পুরো হিমালয়কেই এবার রাখা হচ্ছে সর্বোচ্চ ঝুঁকির Zone VI–এ, যা এই প্রথম।
ফলে নতুন মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে, দেশের ৬১ শতাংশ এলাকা এখন মাঝারি থেকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির আওতায়। এত বড় রদবদল ভারতীয় ভূমিকম্প (Indian Earthquake) শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় বহু দশকে দেখা যায়নি।
কেন পুরো হিমালয়ই ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকি’?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমালয় থাকেই পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় টেকটনিক সংঘর্ষ সীমানায়। ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর পাঁচ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর দিকে ধাক্কা মারছে ইউরেশীয় প্লেটে। সেই অভিঘাতেই তৈরি হয়েছে হিমালয়— এবং সেই ধাক্কা আজও চলছে।
এই চাপ জমতে জমতে একসময়ে হঠাৎ ছুটে বেরোয়, তখনই ভূমিকম্প। তার উপর এই পর্বতশ্রেণি ভৌগোলিক দিক থেকে এখনও নবীন। শিলাস্তর ভাঙছে, ভাঁজ পড়ছে, নতুন ভাবে উঠছে। ফলে অস্থিতিশীলতাও বেশি।
হিমালয়ের নীচে থাকা তিন বড় ফল্ট—
মেইন ফ্রন্টাল থ্রাস্ট
মেইন বাউন্ডারি থ্রাস্ট
মেইন সেন্ট্রাল থ্রাস্ট
—এগুলোর প্রত্যেকটিরই ক্ষমতা রয়েছে বড় ভূমিকম্প ঘটানোর।
কিছু অঞ্চলে বহু শতাব্দী ধরে বড় ভূমিকম্প হয়নি, এই ‘সিসমিক গ্যাপ’-গুলোতেই সঞ্চিত রয়েছে বিপুল শক্তি। তাই বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হচ্ছে সমগ্র হিমালয়কে।
নতুন মানচিত্রে কী কী বদল?
এখনও পর্যন্ত হিমালয় বিভক্ত ছিল Zone IV ও V-এ। কিন্তু বাস্তবে ঝুঁকি একই রকম হওয়া সত্ত্বেও তা দেখা যায়নি পুরনো মানচিত্রে। এবার সেই ভুল সংশোধন— পুরো হিমালয় একই শ্রেণিতে।
হিমালয় ফ্রন্টাল থ্রাস্ট ধরে সম্ভাব্য ভূকম্পনের বিস্তার দক্ষিণে নেমে গিয়ে পৌঁছতে পারে দিল্লির মতো এলাকায়। তাই দেরাদুন-সহ আউটার হিমালয়ের বড় অংশও উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
জেলা বা রাজ্যের সীমানা দেখে নয়— এখন থেকে ভূ-গঠনের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে বিপদ। সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো স্বয়ংক্রিয় ভাবে উচ্চ ঝুঁকির দিকে যাবে।
মুষড়ে পড়ার মতো নরম মাটিতে, নদীপুরীভূমিতে, সক্রিয় ফল্টের উপর নির্মাণ প্রকল্পে বড়সড় নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। পুরনো ভবনেও লাগবে রেট্রোফিটিং।
কেন জরুরি এই পরিবর্তন
উত্তরাখণ্ড, হিমাচল, উত্তর প্রদেশের কিছু জেলা, সবই ঘনবসতিপূর্ণ। এ সব অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প এলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অকল্পনীয় হতে পারে। নতুন মানচিত্র তাই নগর পরিকল্পনা, সেতু-সড়ক নির্মাণ, বাঁধ প্রকল্প, স্কুল-হাসপাতাল ভবনের নিয়ম— সব ক্ষেত্রেই কড়া নকশা-কোড প্রয়োগের পথ খুলে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা কেবল মানচিত্র বদল নয়, দেশজুড়ে দুর্যোগ প্রস্তুতির মানসিকতা পাল্টে দেওয়ার সূচনা।