হংকং-এর ৩১ তলা আবাসনে ভয়াবহ আগুনে ৫৫ জনের মৃত্যু। বাঁশের মাচা নাকি নিম্নমানের চায়না নির্মাণ-নেট - কোনটি আগুন ছড়াল, তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক। গ্রেফতার তিন নির্মাণকর্মী, তদন্ত শুরু করল প্রশাসন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 November 2025 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হংকংয়ের তাই পো (Hong Kong Fire) এলাকার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসন কমপ্লেক্সের (Wang Fuk Court) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অনেক বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য উঁচু ইমারত কতটা সুরক্ষিত, সে বিষয়েও নজর টেনেছে।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে (Fire Incident) এখনও পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং প্রায় ২৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল - আগুন লাগল কী করে?
আগুন কীভাবে এত দ্রুত ছড়াল, তা ঘিরে এখন তীব্র বিতর্ক। একাধিক ভিডিওতে (Viral Video) দেখা গেছে, আবাসনের বাইরের দিকে লাগানো বাঁশের মাচা এবং সবুজ রঙের নির্মাণ-নেট মুহূর্তে জ্বলে উঠেছে। এই দৃশ্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠছে, হংকং এখনও কেন শতাব্দী-প্রাচীন বাঁশের মাচা ব্যবহার করে?
যে পাবলিক হাউজিং কমপ্লেক্সে আগুন লেগেছিল, সেটি তখন সংস্কারের কাজে ঢাকা। বাঁধা ছিল বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং (Bamboo Scaffoldings) আর সস্তা সবুজ নির্মাণ-জালে (Chinese Net)। চোখের সামনে দেখা যায়, আগুনের শিখা ঠিক সেই পথ ধরেই উঠছে টানা ৩১ তলা টাওয়ারের গায়ে। দমকলকর্মীরা মরিয়া চেষ্টা চালালেও শতাধিক মানুষ আটকে পড়েন ঘন ধোঁয়ার দেয়ালে।
বাঁশ বনাম নেট
হংকংয়ে দশকের পর দশক ধরে ৫০–৬০ তলা ভবনেও মাচা হিসেবে বাঁশ (Bamboo) ব্যবহৃত হয় - হালকা, সস্তা, নমনীয় এবং দ্রুত স্থাপনযোগ্য হওয়ায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঁশের দণ্ডগুলি উল্লম্বভাবে এমনভাবে সাজানো থাকে যে, আগুন লাগলে এই কাঠামোই আগুনকে ওপরে টেনে নিয়ে যায় ‘মশাল-সিঁড়ি’র মতো। তথ্য বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ - এই পাঁচ বছরে বাঁশ-মাচা সম্পর্কিত দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২২ শ্রমিকের।
অন্যদিকে, অনেক স্থানীয় বাসিন্দা এবং অগ্নি-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলছেন, বাঁশ কাঠামো থাকলেও আগুন ছড়ানোর মূল কারণ ছিল নির্মাণে ব্যবহৃত নিম্নমানের প্লাস্টিক নেট (Plastic Net), টারপোলিন শিট, তাপ নিরোধক ফোমবোর্ড এবং অন্যান্য দাহ্য উপকরণ। ভিডিওতে দেখা যায়, সবুজ নেট কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গলতে গলতে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে, যা ইঙ্গিত দেয় নেটগুলির মান অত্যন্ত খারাপ ছিল।
কেন বিতর্ক বাড়ছে?
চিন (China) ইতিমধ্যেই বহু প্রকল্পে বাঁশের বদলে ধাতব মাচা ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু হংকং প্রশাসন (Hongkong) এখনও বাঁশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেনি। বরং চলতি বছর থেকে সরকারি প্রকল্পের কমপক্ষে অর্ধেক নির্মাণে ধাতব মাচা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও, শহরজুড়ে এখনও হাজারো প্রকল্প বাঁশ-নেটের উপর নির্ভরশীল।
সরকারের পদক্ষেপ
এই দুর্ঘটনার পরে সরকার বিশেষ টাস্ক ফোর্স (Special Task Force) গঠন করেছে। সব নির্মাণ প্রকল্পে জরুরি পরিদর্শন শুরু হয়েছে, বিশেষত যেসব বিল্ডিংয়ে বাঁশের মাচা ও নেটিং ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে আটটি আবাসন নিয়ে তৈরি এই কমপ্লেক্সের (Complex) একটি ৩২ তলা ব্লকে মেরামতির কাজ চলছিল। সেখানেই আচমকাই বাঁশের ভারায় আগুন লেগে যায়। যেহেতু ব্লকগুলো গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে, তাই প্রবল হাওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
চোখের নিমেষে ২,০০০ অ্যাপার্টমেন্টের আটটি ব্লকের মধ্যে সাতটিতেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে, অক্ষত থাকে কেবল একটি আবাসন। আগুন লাগার পরই দমকলের ১৪০টি ইঞ্জিন এবং ৬০টি অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রায় ৯০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।