এই কম্পন আবার যেন ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘ দুঃশ্চিন্তার সঙ্গেই মিশে গেল। কারণ দেশের উত্তর সুমাত্রা জুড়ে এখনও তছনছ করে দিচ্ছে সাইক্লোন সেনিয়ার - যার প্রভাবে হড়পা বান আর ধসের ঘটনায় ২৫ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন, নিখোঁজ এখনও ১০ জন।

গ্রাফিক্স - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 27 November 2025 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা (Indonesia Sumatra)। এই দ্বীপটিকে যেন থামতেই দেয় না পৃথিবীর ভিতরের অস্থিরতা। বৃহস্পতিবার সকালে আবারও কেঁপে (Earthquake) উঠেছে অঞ্চলটি। মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে, সীনাবাং-এর পশ্চিমে ৬৩ কিলোমিটার দূরে জন্ম নিয়েছিল ৬.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প।
কিন্তু এই কম্পন আবার যেন ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) দীর্ঘ দুঃশ্চিন্তার সঙ্গেই মিশে গেল। কারণ দেশের উত্তর সুমাত্রা জুড়ে এখনও তছনছ করে দিচ্ছে সাইক্লোন সেনিয়ার (Cyclone Senyar) - যার প্রভাবে হড়পা বান আর ধসের ঘটনায় ২৫ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন, নিখোঁজ এখনও ১০ জন।
৩০ দিনে ১,৪৪০ ভূমিকম্প
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ (Ring of Fire) থাকা ইন্দোনেশিয়া বছরভর ভূমিকম্পে (Earthquake) দুলে ওঠে। গত ৩০ দিনেই দেশটি অনুভব করেছে প্রায় দেড় হাজার কম্পন। USGS আর ভলকানোডিসকভারি জানাচ্ছে, এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি ছিল ৪.৫ মাত্রার বেশি। গত ছ’মাসে ২,৩০০-রও বেশি মাঝারি মাত্রার কম্পন নথিবদ্ধ হয়েছে। ভূমিকম্প এখানে ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়ম।
রিং অফ ফায়ার
বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূমিকম্প ঘটে এই অঞ্চলে। সুমাত্রাকে (Sumatra) ঘিরে রয়েছে সুন্দা মেগাথ্রাস্ট, যেখানে ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট (Indo-Australian Plate) প্রতি বছর পাঁচ থেকে সাত সেন্টিমিটার হারে ইউরেশিয়ান প্লেটের (Eurosian Plate) নীচে ঢুকে যাচ্ছে। ফলে চাপ জমে তৈরি হচ্ছে বারবার কম্পন। গভীরতা কম হওয়ায় এই ধরনের ভূমিকম্পে মাটির দুলুনি আরও তীব্র হয়, আর জনবহুল অঞ্চলে ঝুঁকিও বেশি।
এই অগ্নিবলয়ের ভূগোল এতটাই জটিল যে সমুদ্রতলে সামান্য উত্থান-পতনও বিশাল জলের ভরকে সরিয়ে দিতে পারে, যা সুনামির (Tsunami) জন্ম দেয় গেছিল। এ প্রসঙ্গেই স্মৃতি বারবার ফিরে যায় ২০০৪ সালের ভয়ার্ত মুহূর্তে, যখন সুমাত্রার ৯.১ মাত্রার কম্পন থেকে জন্ম নেওয়া সুনামি কেড়ে নিয়েছিল প্রায় ২.৩ লক্ষ প্রাণ।
থেমে নেই সাম্প্রতিক কম্পনের ঢেউ
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সুমাত্রা লাগাতার হালকা-ভারি কম্পনের (Earthquake) দাপটে কেঁপেছে। কাছেই আরেকটি ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প নথিবদ্ধ হয়েছে, যার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় ফল্ট লাইন এবং প্লেট সীমান্তের টানাপড়েন। এই পরিস্থিতিতে নতুন কম্পন যেন আরও বাড়িয়ে দিল উদ্বেগ। বিশেষত যখন উত্তর সুমাত্রা এখনও বন্যার জলে ডুবে, রাস্তা বন্ধ ধ্বংসস্তূপে, আর ৮,০০০ মানুষকে সরাতে হয়েছে নিরাপদ জায়গায়।
প্রকৃতি যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে, ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) মতো দ্বীপদেশে বিপর্যয় কখনও একা আসে না। ভূমিকম্প, বন্যা, প্লেটের চাপ আর মৌসুমী ঝড় - এত আক্রমণের সামনে একটা দেশ লড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন, বাঁচার লড়াইয়ে।