৭ সেপ্টেম্বরের চন্দ্রগ্রহণে কুম্ভে রাহু–কেতু যোগ। কোন রাশিরা সতর্ক হবে, কারা লাভ পেতে পারেন—জানুন সময়, সূতককাল ও রাশিফল-ভিত্তিক বিস্তারিত পরামর্শ।

শেষ আপডেট: 5 September 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি বছরের শেষ চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ অর্থাৎ রবিবার। এই নিয়ে উৎসুক জ্যোতিষ জগৎ ও সাধারণ মানুষ। পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ ঢেকে গেলে চাঁদের বাড়তি রঙপূর্ণ সৌন্দর্য দেখা যাবে; অনেকের কথায় এটি ‘ব্লাড মুন’। এ গ্রহণ ভারত, বাংলাদেশ-সহ এশিয়ার বড় অংশ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ এবং আফ্রিকার অনেক জায়গা থেকে দেখা যাবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্য—পৃথিবী—চাঁদ প্রায় এক সরলরেখায় এলে এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপরে পড়লে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। সেই সময়ে বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে ছেঁকে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল ও বেগুনি আলো সরিয়ে দেয়; বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের লাল ও কমলা রং চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছে যায়, তাই চাঁদ লালচে দেখায়।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী এই চন্দ্রগ্রহণ ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখ রাত ৯টা ৫৭ মিনিট বা ৯টা ৫৮ মিনিটে শুরু হবে এবং ৮ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত ১টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত চলবে। গ্রহণের সর্বোচ্চ সময় থাকবে রাত ১১টা থেকে রাত ১২টা ২২ মিনিট পর্যন্ত।
হিন্দু বিশ্বাসে, চন্দ্রগ্রহণের সূচক হিসেবে গণ্য সূতককাল সাধারণত গ্রহণ শুরু হওয়ার প্রায় নয় ঘণ্টা আগে থেকে ধরা হয়; এ ক্ষেত্রে সূতককাল ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিট বা ১টা ৫৭ মিনিটে শুরু হয়ে গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে।
জ্যোতিষশাস্ত্রে রাহু ও কেতুকে ছায়াপ্রভাবশালী গ্রহ হিসেবে ধরা হয়; সাধারণভাবে গ্রহণের পেছনে এদের ইংরেজিতে ‘shadow planets’ বলে অভিহিত এই দুইয়ের বিশেষ ভূমিকা থাকে। এবারের গ্রহণটি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি কুম্ভ রাশিতে পূর্বভাদ্রপদ নক্ষত্রে ঘটবে অর্থাৎ কুম্ভ রাশিরই প্রভাবে এখানে একটি বিশেষ ‘গ্রহণ যোগ’ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে সূর্য কন্যা রাশিতে অবস্থান করছে এবং কেতু-সূর্য সম্পর্কও জ্যোতিষশাস্ত্রে আলাদা প্রভাব ফেলছে।
রাহু–কেতুর এই সংমিশ্রণকে বহু জ্যোতিষী বিশেষভাবে দেখছেন এবং বলছেন, এর প্রভাবে ব্যক্তিগত জীবনে অস্থিরতা, অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ আসতে পারে; আবার কারও ভাগ্যে সৌভাগ্য ও সুযোগও খুলে যেতে পারে।
জ্যোতিষশাস্ত্রে সাধারণত এই ধরনের গ্রহণ এক ধরনের সংবেদনশীল সময় বলে ধরা হয়; বিশেষ করে শিলালিপি বা প্রাচীন সূত্রে বর্ণিত মত, পাহাড়ি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দূর্যোগের মাত্রা বাড়তে পারে—এই ধরনের সম্ভাবনাও জ্যোতিষীরা উল্লেখ করেছেন।
কোন রাশির জাতকজদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে?
জ্যোতিষীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েকটি রাশির জীবন-যাত্রায় বিশেষ চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।
বৃষ রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও আর্থিক ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে; পুরনো রোগকে আবার জাগ্রত হতে দেখা যেতে পারে, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়তে পারে এবং মানসিক চাপ বেড়ে যেতে পারে; কর্মক্ষেত্রে চিন্তা বেড়ে যেতে পারে।
মিথুন রাশির জাতকেরা সন্তানের বিষয়ে গোপন চিন্তা বা উদ্বেগের সম্মুখীন হতে পারেন, যা শারীরিক বা মানসিক চাপ বাড়াতে পারে; পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন ও কর্মক্ষেত্রে চাপ দেখা দিতে পারে।
সিংহ রাশির ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্বন্ধ ও সম্পর্ককে কেন্দ্র করে জটিলতা বাড়তে পারে; সঙ্গীর সঙ্গে বিবাদ বা ভুল বোঝাবুঝি বাড়ার আশঙ্কা আছে।
কন্যা রাশির জাতকদের জন্য মূল সতর্কতা আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কথাবার্তায় সাবধানতা, কথায়-কাজে অযথা উদ্বেগ বা অলসতা বাড়তে পারে; রাহুর প্রভাব স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তুলা রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ার সম্ভবনা, কাজ বিলম্বিত হওয়া এবং একাধিক কাজ সামলাতে গিয়ে জটিলতার সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি আছে; ব্যবসায়ীদের অন্যের ওপর সহজে ভরসা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কুম্ভ রাশিতেই গ্রহণযোগ লাগায় কুম্ভ জাতকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সম্ভাবনা, কর্মজীবনে ওঠাপড়া ও শত্রুপ্রবণতার পরিলক্ষিত হতে পারে; তাই চারপাশের জিনিসপত্রের প্রতি নজর রাখতে হবে, নতুবা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
তবে কারও হতাশ হওয়া প্রয়োজন নেই কারণ একই জ্যোতিষশাস্ত্রে দেখা যাচ্ছে, কিছু রাশির জন্য এই গ্রহণ শুভ ফলও বয়ে আনতে পারে। মেষ রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অবস্থার শক্তি বৃদ্ধি, আয়ের উন্নতি ও কর্মজীবনে সাফল্যের পথ খুলে যেতে পারে। ধনু রাশির জন্য মনের ইচ্ছা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা, কর্মজীবনে উন্নতির ও নতুন ব্যবসায়িক সুযোগের ইঙ্গিত রয়েছে; দাম্পত্য জীবনে মাধুর্য বজায় থাকবে বলেও দেখা হচ্ছে। মকর রাশির জাতকরা চাকরি ও ব্যবসায় উন্নতি লাভ করতে পারবেন; দীর্ঘদিনের টেনশন থেকে মুক্তি মিলতে পারে। কর্কট রাশির জন্য অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান হবার সম্ভাবনা এখানে উল্লিখিত; স্বাস্থ্য ভাল থাকবে ও আর্থিক ক্ষেত্রে উপকার আসতে পারে। বৃশ্চিক রাশির জাতকরা ভাল চাকরির সুযোগ পেতে পারেন, পরিবারের মধ্যে শান্তি বজায় থাকবে এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা মোটামুটি ভাল থাকবে।
গ্রহণের সময় কী করবেন আর কী করবেন না
ঐতিহ্যগত নির্দেশনাও জ্যোতিষশাস্ত্রে রয়েছে। সূতক শুরু হলে মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং পুজো-অর্চনা বিরত রাখতে বলা হয়; এই সময় নতুন করে রান্না না করার পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে পূর্বে রান্না করা খাবারে তুলসী পাতা রেখে দিলে তা দূষণমুক্ত থাকার বিশ্বাস আছে। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়। সূতককালে কাটা-ছেঁড়ার কাজ, যেমন শাকসবজি বা মসলা কাটা, ধারালো যন্ত্র ব্যবহার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ আছে। গৃহপ্রবেশ, বিবাহ, মুণ্ডন বা অন্য কোনো শুভ কাজ এই সময় করা উচিত নয়। গ্রহণ শেষ হওয়ার পর স্নান করে নিজেকে শুদ্ধ করা এবং মন্দিরে গিয়ে শুদ্ধিকরণ না করে সরাসরি পূজা না করার রীতি বিদ্যমান।
এই কেমন সময়টি ব্যক্তিগত জাগরণ, সতর্কতা ও পরিকল্পনার সময়ও হয়ে দাঁড়াতে পারে—চাঁদের ওই নির্দিষ্ট অবস্থান ও রাহু-কেতু যোগ দেশের ঘটনাবলি, আবহাওয়া ও মানুষের মানসিকতাতেও ছাপ ফেলতে পারে—এটাই বলে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ জ্যোতিষীরা। তাই ৭ সেপ্টেম্বরের ওই রাতের দিকে নজর রাখুন; নিজের রাশির উপর বিশেষ পূর্বাভাস দেখে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করুন।