পিতৃপক্ষের শুরুতেই ঘটছে চন্দ্রগ্রহণ ও শনির বক্রী গতি। এই বিরল যোগে রাশিভেদে কী প্রভাব পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিত।

শেষ আপডেট: 5 September 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিতৃপক্ষের সূচনাতেই মহাবিশ্বে ঘটতে চলেছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য, যার সাক্ষী হতে গোটা বিশ্ববাসি। একই সময়ে ঘটতে চলেছে চন্দ্রগ্রহণ ও শনির বক্রী গতি— যা জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এক অসাধারণ ও শক্তিশালী যোগের জন্ম দিয়েছে।
একদিকে মহাকাশ গবেষকরা এই যুগপৎ ঘটনার বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য নিয়ে আগ্রহী, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ। এই বিরল যোগের কারণে বিশ্বজুড়ে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিয়ে এখন চলছে তর্ক-বিতর্ক ও বিশ্লেষণ। প্রতিটি রাশির উপর এর কেমন প্রভাব পড়বে এবং আগামী দিনে এর ফলস্বরূপ কী ঘটতে পারে, তা জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সকলে।
পিতৃপক্ষ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হিন্দু ধর্মে পিতৃপক্ষ হল পূর্বপুরুষদের তর্পণ ও শ্রাদ্ধের বিশেষ সময়কাল। একে মহালয়া পক্ষ বা অপরপক্ষও বলা হয়। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা থেকে শুরু হয়ে এটি মহালয়া অমাবস্যায় শেষ হয়, যা সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পড়ে।
বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে পূর্বপুরুষেরা পিতৃলোক থেকে মর্ত্যে আসেন তাঁদের উত্তরপুরুষদের গৃহে। তাই তাঁদের আত্মার শান্তি ও আশীর্বাদ কামনায় শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও ব্রাহ্মণ ভোজনের প্রথা প্রচলিত।
শাস্ত্রমতে, জীবিত মানুষের তিন প্রজন্ম পর্যন্ত পিতৃলোকে বাস করেন। নতুন প্রজন্মের কারও মৃত্যু হলে পুরনো এক প্রজন্ম স্বর্গে প্রবেশ করেন। তাই শুধুমাত্র পূর্ববর্তী তিন পুরুষের শ্রাদ্ধ করা হয়।
মহাভারতের কর্ণের কাহিনি এর সঙ্গে জড়িত— জীবনে দানশীল কর্ণ স্বর্গে গিয়েও অন্ন পাননি, কারণ তিনি পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে কখনও অন্ন-জল দান করেননি। তাঁকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে এসে তর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়, আর সেখান থেকেই এই সময়কাল "পিতৃপক্ষ" নামে পরিচিত হয়।
চন্দ্রগ্রহণ: এক অপূর্ব দৃশ্য
চন্দ্রগ্রহণ ঘটে যখন পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদকে ঢেকে ফেলে। এর ফলে চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়।
চন্দ্রগ্রহণ তিন ধরনের হতে পারে:
পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ: চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢেকে গিয়ে লালচে রঙ ধারণ করে। একে বলা হয় "ব্লাড মুন"।
আংশিক চন্দ্রগ্রহণ: চাঁদের কেবল একটি অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে।
উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ: চাঁদ উপচ্ছায়া দিয়ে অতিক্রম করলে সামান্য আবছা লাগে, যা খালি চোখে বোঝা কঠিন।
সূর্যগ্রহণের তুলনায় চন্দ্রগ্রহণ বেশি সময় ধরে দেখা যায় (২–৩ ঘণ্টা পর্যন্ত) এবং এটি খালি চোখে দেখা সম্পূর্ণ নিরাপদ।
শনির বক্রী চাল: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
"শনির বক্রী" আসলে এক দৃষ্টিভ্রম। পৃথিবী ও শনি ভিন্ন ভিন্ন গতিতে সূর্যের চারপাশে ঘোরে। যখন পৃথিবী শনির কাছাকাছি এসে তাকে অতিক্রম করে যায়, তখন মনে হয় শনি উল্টো দিকে চলছে। এই আপাত বিপরীত গতিকেই বলা হয় বক্রগতি।
এই সময়ে শনি আরও উজ্জ্বল ও বড় দেখায়। সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত শনি বক্রী থাকে।
বিরল মহাজাগতিক যোগ
পিতৃপক্ষের শুরুতেই চন্দ্রগ্রহণ এবং শনির বক্রগতি— এই দুটি ঘটনার একসঙ্গে সংঘটন তুলনামূলকভাবে বিরল। যেমন, ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর একটি চন্দ্রগ্রহণ নির্ধারিত রয়েছে, আর সেই সময় শনি বক্রী অবস্থায় থাকবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের কাছে এটি এক কৌতূহলোদ্দীপক সমাপতন। প্রতিটি গ্রহণ ও গ্রহের গতি মহাবিশ্বের নিয়মে বাঁধা, যা গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জ্যোতিষশাস্ত্রীয় প্রভাব
জ্যোতিষ মতে, পিতৃপক্ষ এমনিতেই শুভ কাজের জন্য বর্জনীয়। তার ওপর চন্দ্রগ্রহণ মানসিক অস্থিরতা, আবেগের তারতম্য ও রাশিভেদে ভিন্ন ভিন্ন ফল বয়ে আনতে পারে।
শনির বক্রী গতি আরও প্রভাবশালী ধরা হয়। শনি কর্ম, সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক দিককে নিয়ন্ত্রণ করে। বক্র অবস্থায় তার অশুভ প্রভাব বৃদ্ধি পায় বলে মনে করা হয়। শনি একসাথে একাধিক ঘরকে প্রভাবিত করে— যার ফলে কিছু রাশির জন্য কষ্ট, ক্ষতি বা কাজে বাধা তৈরি হতে পারে, আবার কারও জন্য আয় বৃদ্ধি বা ব্যবসায় উন্নতি ঘটাতে পারে।
এই সময়ে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী কিছু নিয়ম মানা উচিত—
শুভ কাজ এড়ানো: নতুন বাড়ি, ব্যবসা বা বিয়ে শুরু না করা।
তর্পণ ও শ্রাদ্ধ: পিতৃপক্ষের মূল অনুশাসন, চন্দ্রগ্রহণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
নেশাজাতীয় দ্রব্য বর্জন: এটি পিতৃদোষের কারণ হতে পারে।
ক্ষৌরকর্ম এড়ানো: যেমন চুল বা নখ কাটা।
পরিবেশ শান্ত রাখা: বাড়িতে অশান্তি এড়িয়ে চলা।
পাঠ ও দান: ব্রাহ্মণ ভোজন, দান ও ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা শুভ।
গর্ভবতী মহিলাদের বিশেষ সতর্কতা।
('দ্য ওয়াল' এই বিষয়বস্তুর প্রচারক নয়; এটি কেবল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।)