Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়ের

World Sleep Day: এদেশে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ছ'ঘণ্টার কম ঘুমোয়! ভাল ঘুমের জন্য কী করবেন, করবেন না?

দেশজুড়ে ৩৯৩টি জেলার প্রায় ৮৯ হাজার মানুষের উপর করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এখনও বিপুল সংখ্যক ভারতীয়র পর্যাপ্ত ঘুম হয় না (Sleepless Night)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ ধীরে ধীরে ঘুমের গুরুত্ব বুঝতে শুরু করলেও আধুনিক জীবনযাত্রার নানা চাপ (Stress) এখনও স্বাভাবিক ঘুমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

World Sleep Day: এদেশে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ ছ'ঘণ্টার কম ঘুমোয়! ভাল ঘুমের জন্য কী করবেন, করবেন না?

নিদ্রাহীন রাত। ছবি: এআই

জিনিয়া সরকার

শেষ আপডেট: 13 March 2026 12:41

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত বাড়ছে, কিন্তু চোখের পাতা এক হচ্ছে না। সিলিং ফ্যানের ঘোরে চোখ স্থির, স্মার্টফোনের নীল আলোয় কেটে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ২০২৬ সালের 'বিশ্ব ঘুম দিবস (World Sleep Day)'-এ প্রকাশিত একটি দেশব্যাপী সমীক্ষায় (Indian Research) উঠে এল ভারতের এক চাঞ্চল্যকর ছবি। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনও রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমোন।

দেশজুড়ে ৩৯৩টি জেলার প্রায় ৮৯ হাজার মানুষের উপর করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এখনও বিপুল সংখ্যক ভারতীয়র পর্যাপ্ত ঘুম হয় না (Sleepless Night)। তবে গত বছরের তুলনায় সামান্য উন্নতি হয়েছে। গত বছর যেখানে ৫৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছিলেন তাঁরা দিনে ছ’ঘণ্টার কম ঘুমোন, এবার সেই সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে নিশ্চিন্ত হওয়ার সময় এখনও আসেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ ধীরে ধীরে ঘুমের গুরুত্ব বুঝতে শুরু করলেও আধুনিক জীবনযাত্রার নানা চাপ (Stress) এখনও স্বাভাবিক ঘুমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কেন ঘুমের অভাবে ভুগছে ভারতীয়রা?

সমীক্ষায় উঠে এসেছে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত কারণ। অদ্ভুতভাবে দেখা গেছে, রাতে বারবার ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়াটা অনেকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এছাড়া রয়েছে আধুনিক শহুরে জীবনের অভিশাপ:

  • ডিজিটাল আসক্তি: শোয়ার আগে দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের ব্যবহার।
  • কাজের চাপ (Work Pressure): অনিয়মিত কাজের শিফট এবং কর্মক্ষেত্রের স্ট্রেস। এছাড়া পারিবারিক দুশ্চিন্তা তো আছেই।
  • পরিবেশগত বাধা: বাইরের কোলাহল এবং ঘরের গুমোট পরিবেশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম মানে কেবল বিশ্রাম নয়; এটি একটি সক্রিয় জৈবিক প্রক্রিয়া। যখন আমরা ঘুমোই, আমাদের মস্তিষ্ক সারা দিনের স্মৃতি গুছিয়ে রাখে, শরীরের কোষ মেরামত করে এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। এক কথায়, ঘুমহীন রাত মানেই শরীরের 'সার্ভিসিং' বন্ধ হয়ে যাওয়া

সমীক্ষার তথ্য

একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় (LocalCircles-এর সৌজন্যে) উঠে এসেছে ভারতীয়দের ঘুমের দৈনন্দিন অভ্যাসের এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান। ১৯,৯৯৮ জন অংশগ্রহণকারীর মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই চার্টটি বলছে:

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ভারতীয়দের মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশই প্রতিদিন গড়ে ৬ ঘণ্টার কম নিরবিচ্ছিন্ন (uninterrupted) ভাবে ঘুমান। দেখা গেছে:

  • ৪ ঘণ্টারও কম: ২৩% মানুষ অত্যন্ত কম ঘুমান।
  • ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা: ২৩% মানুষের ঘুম এই সীমার মধ্যে।
  • ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা: ৪২% মানুষ (সবচেয়ে বেশি সংখ্যক) এই স্বাস্থ্যকর সীমার মধ্যে ঘুমান।
  • ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা: মাত্র ৮% মানুষ পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর সুযোগ পান।
  • ১০ ঘণ্টার বেশি: মাত্র ৪% মানুষ দীর্ঘসময় ঘুমান।

সমীক্ষাটি থেকে এটা স্পষ্ট যে, বড় একটি অংশ (প্রায় ৪৬%) পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ভুগছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে

কম ঘুমের মাশুল: হার্ট থেকে হরমোন

চিকিৎসকদের মতে, মাত্র কয়েক রাত কম ঘুম হলে আপনার মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হতে শুরু করে। কিন্তু দিনের পর দিন যদি আপনি ৬ ঘণ্টার কম ঘুমোন, তবে বিপদ আরও গভীরে। এর ফলে দেখা দিতে পারে:

১. হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ।
২. স্থূলতা বা মেদবৃদ্ধি।
৩. টাইপ-২ ডায়াবেটিস।
৪. উদ্বেগ ও অবসাদ।

যে অভ্যাসগুলো গভীর ঘুমে সাহায্য করে

সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত এক বছরে যাদের ঘুমের মান বেড়েছে, তাঁদের ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই সাধারণ কিছু জীবনযাত্রার বদল ঘটিয়েছেন। সেগুলি হল:

  • পারিবারিক সুখ ও শান্তি (৭২%): সবচেয়ে বেশি মানুষ মনে করেন, বাড়ির শান্ত এবং আনন্দময় পরিবেশ ভাল ঘুমের জন্য সবচেয়ে জরুরি।
  • হালকা রাতের খাবার (৬৫%): অর্ধেকের বেশি মানুষ রাতে হালকা ডিনার করাকে ভাল ঘুমের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
  • দিনের বেলা শরীরচর্চা (৬৫%): নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা গভীর ঘুমে সমানভাবে সাহায্য করে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
  • আরামদায়ক পোশাক (৪৩%): ঘুমানোর সময় আরামদায়ক পোশাক পরলে ঘুমের মান ভাল হয় বলে মনে করেন ৪৩ শতাংশ মানুষ।
  • রাত ১০টার আগে ঘুমানো (২৯%): সময়মতো বিছানায় যাওয়াও অনেকের কাছে সুনিদ্রার বড় কারণ।
  • রিলাক্সিং মিউজিক (২৫%): চার ভাগের এক ভাগ মানুষ ঘুমানোর আগে হালকা গান বা মিউজিক শুনতে পছন্দ করেন।
  • মশা থেকে সুরক্ষা (২২%): মশারি বা রিপেলেন্ট ব্যবহার করে মশার উপদ্রব কমানোও ঘুমের জন্য সহায়ক।
  • বই পড়া (১৪%): মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন ঘুমানোর আগে বই পড়ার অভ্যাস তাঁদের ভাল ঘুমে সাহায্য করে।

এ বছরের এই সমীক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ব্যস্ততা থাকবেই, কিন্তু ঘুম কোনো 'অপশন' নয়— এটি বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। তাই আজ রাত থেকেই শরীরকে নিজের মতো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। ব্যস্ত জীবনে অনেক কিছুই আমরা পিছিয়ে দিই, কিন্তু ঘুমকে কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ সুস্থ শরীর ও মনের অন্যতম ভিত্তিই হল ভাল ঘুম।
 


```