দেশজুড়ে ৩৯৩টি জেলার প্রায় ৮৯ হাজার মানুষের উপর করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এখনও বিপুল সংখ্যক ভারতীয়র পর্যাপ্ত ঘুম হয় না (Sleepless Night)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ ধীরে ধীরে ঘুমের গুরুত্ব বুঝতে শুরু করলেও আধুনিক জীবনযাত্রার নানা চাপ (Stress) এখনও স্বাভাবিক ঘুমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

নিদ্রাহীন রাত। ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 13 March 2026 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত বাড়ছে, কিন্তু চোখের পাতা এক হচ্ছে না। সিলিং ফ্যানের ঘোরে চোখ স্থির, স্মার্টফোনের নীল আলোয় কেটে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ২০২৬ সালের 'বিশ্ব ঘুম দিবস (World Sleep Day)'-এ প্রকাশিত একটি দেশব্যাপী সমীক্ষায় (Indian Research) উঠে এল ভারতের এক চাঞ্চল্যকর ছবি। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনও রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমোন।
দেশজুড়ে ৩৯৩টি জেলার প্রায় ৮৯ হাজার মানুষের উপর করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এখনও বিপুল সংখ্যক ভারতীয়র পর্যাপ্ত ঘুম হয় না (Sleepless Night)। তবে গত বছরের তুলনায় সামান্য উন্নতি হয়েছে। গত বছর যেখানে ৫৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছিলেন তাঁরা দিনে ছ’ঘণ্টার কম ঘুমোন, এবার সেই সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে নিশ্চিন্ত হওয়ার সময় এখনও আসেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ ধীরে ধীরে ঘুমের গুরুত্ব বুঝতে শুরু করলেও আধুনিক জীবনযাত্রার নানা চাপ (Stress) এখনও স্বাভাবিক ঘুমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কেন ঘুমের অভাবে ভুগছে ভারতীয়রা?
সমীক্ষায় উঠে এসেছে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত কারণ। অদ্ভুতভাবে দেখা গেছে, রাতে বারবার ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়াটা অনেকের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এছাড়া রয়েছে আধুনিক শহুরে জীবনের অভিশাপ:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম মানে কেবল বিশ্রাম নয়; এটি একটি সক্রিয় জৈবিক প্রক্রিয়া। যখন আমরা ঘুমোই, আমাদের মস্তিষ্ক সারা দিনের স্মৃতি গুছিয়ে রাখে, শরীরের কোষ মেরামত করে এবং হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। এক কথায়, ঘুমহীন রাত মানেই শরীরের 'সার্ভিসিং' বন্ধ হয়ে যাওয়া
সমীক্ষার তথ্য
একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় (LocalCircles-এর সৌজন্যে) উঠে এসেছে ভারতীয়দের ঘুমের দৈনন্দিন অভ্যাসের এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান। ১৯,৯৯৮ জন অংশগ্রহণকারীর মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই চার্টটি বলছে:
সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ভারতীয়দের মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশই প্রতিদিন গড়ে ৬ ঘণ্টার কম নিরবিচ্ছিন্ন (uninterrupted) ভাবে ঘুমান। দেখা গেছে:
সমীক্ষাটি থেকে এটা স্পষ্ট যে, বড় একটি অংশ (প্রায় ৪৬%) পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ভুগছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে
কম ঘুমের মাশুল: হার্ট থেকে হরমোন
চিকিৎসকদের মতে, মাত্র কয়েক রাত কম ঘুম হলে আপনার মনোযোগ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হতে শুরু করে। কিন্তু দিনের পর দিন যদি আপনি ৬ ঘণ্টার কম ঘুমোন, তবে বিপদ আরও গভীরে। এর ফলে দেখা দিতে পারে:
১. হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ।
২. স্থূলতা বা মেদবৃদ্ধি।
৩. টাইপ-২ ডায়াবেটিস।
৪. উদ্বেগ ও অবসাদ।
যে অভ্যাসগুলো গভীর ঘুমে সাহায্য করে
সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত এক বছরে যাদের ঘুমের মান বেড়েছে, তাঁদের ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই সাধারণ কিছু জীবনযাত্রার বদল ঘটিয়েছেন। সেগুলি হল:
এ বছরের এই সমীক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, ব্যস্ততা থাকবেই, কিন্তু ঘুম কোনো 'অপশন' নয়— এটি বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। তাই আজ রাত থেকেই শরীরকে নিজের মতো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। ব্যস্ত জীবনে অনেক কিছুই আমরা পিছিয়ে দিই, কিন্তু ঘুমকে কখনওই অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ সুস্থ শরীর ও মনের অন্যতম ভিত্তিই হল ভাল ঘুম।