Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

টক্সিক মানুষের সঙ্গে কাটছে দিন? সাবধান! দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে শরীর, বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা

আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। গবেষকরা বলছেন, আপনার সামাজিক বৃত্তে এমন কিছু মানুষ থাকতে পারেন যারা প্রতিনিয়ত মানসিক চাপ বা উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়ান। এদের বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন 'হ্যাসলার্স' (Hasslers)। এঁদের উপস্থিতির কারণে আমাদের শরীরের কোষগুলো সাধারণের তুলনায় অনেক দ্রুত বুড়িয়ে যায়।

 

টক্সিক মানুষের সঙ্গে কাটছে দিন? সাবধান! দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে শরীর, বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা

টক্সিক সঙ্গ বিপজ্জনক

জিনিয়া সরকার

শেষ আপডেট: 10 March 2026 19:16

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে, ‘সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ’। কিন্তু বর্তমান সময়ের নতুন গবেষণা বলছে, শুধু মানসিক বা নৈতিক সর্বনাশ নয়, আপনার চারপাশের বিষাক্ত মানুষেরা (Toxic People) সরাসরি ক্ষতি করছে আপনার শরীরেরও। জীবন থেকে তাঁরা কেড়ে নিচ্ছেন আয়ু, আপনাকে ঠেলে দিচ্ছেন অকাল বার্ধক্যের দিকে।

আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। গবেষকরা বলছেন, আপনার সামাজিক বৃত্তে এমন কিছু মানুষ থাকতে পারেন যারা প্রতিনিয়ত মানসিক চাপ বা উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়ান। এদের বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন 'হ্যাসলার্স' (Hasslers)। এঁদের উপস্থিতির কারণে আমাদের শরীরের কোষগুলো সাধারণের তুলনায় অনেক দ্রুত বুড়িয়ে যায়।

কী বলছে এই গবেষণা?

সম্প্রতি 'প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস' (PNAS) নামক জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় ২,৬০০ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সামাজিক সম্পর্ক এবং তাঁদের শরীরের বায়োলজিক্যাল স্যাম্পল বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে অন্তত ৩ জনের জীবনে এমন একজন 'হ্যাসলার' বা বিরক্তিকর মানুষ রয়েছেন, যিনি প্রতিনিয়ত মানসিক চাপের কারণ। গবেষকরা লালার নমুনা এবং ডিএনএ-র মাধ্যমে ‘এপিজেনেটিক ক্লক’ পরীক্ষা করে দেখেছেন, এই ধরনের বিষাক্ত সম্পর্কের প্রভাবে শরীরের জৈবিক বয়স বা বায়োলজিক্যাল এজিং সাধারণের চেয়ে প্রায় ১.৫ শতাংশ বেশি দ্রুত ঘটে। গড়ে এই ধরনের মানুষরা সমবয়সীদের তুলনায় প্রায় ৯ মাস বেশি বুড়ো হয়ে যান কোষের নিরিখে।

শরীরের ভেতরে ঠিক কী ঘটে?

চেন্নাইয়ের প্রখ্যাত চিকিৎসক ড. ভি মোহন জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরের ভেতর ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে আমাদের ক্রোমোজোমের শেষে থাকা প্রতিরক্ষামূলক আবরণ বা ‘টেলোমেয়ার’ (Telomeres) ছোট হতে শুরু করে। টেলোমেয়ার যত দ্রুত ছোট হয়, শরীরের কোষগুলো তত দ্রুত বুড়িয়ে যায়।

শুধু তাই নয়, স্ট্রেস হরমোন হিসেবে পরিচিত কর্টিসল, এপিনেফ্রিন এবং নর-এপিনেফ্রিনের মাত্রা শরীরে সবসময় বেশি থাকে। এর ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়া, রক্তনালীর ক্ষতি এবং শরীরের ভেতরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক কারা?

গবেষণায় একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গেছে, স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের তুলনায় বাবা-মা বা সন্তানদের সঙ্গে মানসিক চাপের সম্পর্ক শরীরকে দ্রুত বুড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঝগড়া থাকলেও সেখানে সমর্থনের বা ভালোবাসার একটি জায়গা অবশিষ্ট থাকে যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু পরিবারের নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে স্থায়ী তিক্ততা শরীরের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেই লিস্টে থাকতে পারে বন্ধু, অফিস কলিগ বা পাড়াপ্রতিবেশী।

লক্ষণগুলো চিনে নিন

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা ইমোশনাল স্ট্রেইন শুধু মনে নয়, শরীরেও ফুটে ওঠে। চিকিৎসকদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝবেন আপনার শরীর চাপের সাথে লড়তে পারছে না:

  • ঘনঘন মাথাব্যথা ও ক্লান্তি।
  • হজমের সমস্যা বা পেটের গোলমাল।
  • ঘুমের অভাব বা ইনসোমনিয়া।
  • কোনো কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়া।
  • উচ্চ রক্তচাপ বা ওজন বৃদ্ধি (BMI বেড়ে যাওয়া)।

বাঁচার উপায় কী?

এই গবেষণার অন্যতম লেখক বাইউংকিউ লি জানিয়েছেন, জীবন থেকে নেতিবাচকতা এবং বিষাক্ত মানুষকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদিও পরিবার বা কাছের আত্মীয়দের সম্পূর্ণ ত্যাগ করা বাস্তবসম্মত নয়, তবে তাঁদের থেকে একটি নিরাপদ দূরত্ব (Emotional Distance) বজায় রাখা নিজের স্বাস্থ্যের স্বার্থেই প্রয়োজন।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লড়াই বা পালানোর (Fight-or-Flight) যে সহজাত প্রক্রিয়া আমাদের মস্তিষ্কে থাকে, বিষাক্ত সম্পর্কের কারণে তা সবসময় সক্রিয় থাকে। ফলে শরীর এক মুহূর্তের জন্য শান্তি পায় না। তাই দীর্ঘায়ু পেতে এবং অকাল বার্ধক্য রুখতে জীবনের চারপাশ থেকে ‘হ্যাসলার’দের চিহ্নিত করে মানসিক শান্তি বজায় রাখাই এখন সুস্থ থাকার সেরা দাওয়াই।


```