পিরিয়ড কি প্রতি মাসে হচ্ছে না? কেন এক মাসের বদলে দু’মাস অন্তর পিরিয়ড হয় এবং এর পেছনে হরমোনের কী ভূমিকা, জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

অলিগোমেনোরিয়া হলে কী করবেন?
শেষ আপডেট: 10 March 2026 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপনার পিরিয়ড কি প্রতি মাসে সময় ধরে হয় না? ক্যালেন্ডারের তারিখ (Date) কি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে? অনেকেই মনে করেন, পিরিয়ড প্রতি মাসেই হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। ঋতুচক্রের এই গড়িমসি (Periods Problem) হতে পারে শরীরের বড় কোনো সমস্যার সংকেত। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ শরীরে পিরিয়ড কেন এক মাসের বদলে দু’মাস অন্তর হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।
কলকাতার অন্যতম গাইনোকোলজিস্ট ডা. তারাশঙ্কর বাগ জানান, সাধারণত ২১ থেকে ৩৫ দিনের একটি ঋতুচক্রকে স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। কিন্তু যখন এই সময়সীমা ৩৫ দিন ছাড়িয়ে যায় এবং পিরিয়ড দু’মাস বা তার বেশি সময় অন্তর হতে থাকে, তখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় ‘অলিগোমেনোরিয়া’ (Oligomenorrhea)।
কেন এই বিলম্ব?
মাঝেমধ্যে পিরিয়ড পিছিয়ে যাওয়ার পেছনে সাময়িক কিছু কারণ থাকতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, কঠোর পরিশ্রম কিংবা জীবনযাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন এলে শরীর তার স্বাভাবিক ছন্দ হারায়। এছাড়া যারা কিশোরী ও যাদের বয়স চল্লিশের কোঠায় (পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের আগের পর্যায়), তাদের শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক ওঠানামার কারণেও পিরিয়ড অনিয়মিত হতে পারে। এমনকি প্রসূতি মায়েরা যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের ক্ষেত্রে হরমোন নিঃসরণের কারণে ডিম্বস্ফোটন বা ওভ্যুলেশন সাময়িকভাবে থমকে যেতে পারে, যার ফলে পিরিয়ড পিছিয়ে যায়।
পিসিওএস (PCOS) কি প্রধান কারণ?
বর্তমান সময়ে পিরিয়ড পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস। ডা. বাগের মতে, এই সমস্যায় ডিম্বাশয় থেকে পুরুষ হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেন নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর ফলে ডিম্বাণু ঠিক সময়ে পরিণত হয় না এবং ওভ্যুলেশন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলস্বরূপ, পিরিয়ড দু’মাস বা তারও বেশি দেরি করে হতে শুরু করে। এর সঙ্গে ত্বকে ব্রণ, মেদ বৃদ্ধি কিংবা মুখে বা শরীরে অবাঞ্ছিত লোম দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
থাইরয়েড ও অন্যান্য জটিলতা
শুধুমাত্র স্ত্রী-হরমোন নয়, থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা বা রক্তে প্রোল্যাক্টিন হরমোনের আধিক্যও ঋতুচক্রকে এলোমেলো করে দিতে পারে। এছাড়া যদি কেউ বিশেষ কোনো ওষুধ নিয়মিত খান বা নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত শরীরচর্চা করেন, তবে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পিরিয়ড চক্র অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
একবার বা দু’বার পিরিয়ড দেরি হওয়া ভয়ের কিছু না হলেও, যদি প্রতিবারই পিরিয়ড দু’মাস অন্তর হতে থাকে, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দীর্ঘস্থায়ী অনিয়মিত পিরিয়ড ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। এছাড়াও হরমোনের এই ভারসাম্যের অভাব শরীরের সার্বিক প্রজনন ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।
তাই শরীরকে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি বা প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজনে হরমোন থেরাপির মাধ্যমে এই সমস্যা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুস্থ প্রজনন স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আপনার সচেতনতাতেই।