বদলাচ্ছে আবহাওয়া, এই সময় অন্তঃসত্ত্বা ও আইভিএফ চিকিৎসাধীন মহিলাদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলছেন ডঃ বাণীকুমার মিত্র।

ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 22 October 2025 19:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ষা থেকে শীত বা গ্রীষ্ম থেকে শরতে, ঋতু বদলের সময় শরীরে একাধিক পরিবর্তন আসে। এই সময়টা যেমন সাধারণ মানুষের জন্য সংবেদনশীল, তেমনই যাঁরা আইভিএফ (IVF) চিকিৎসার মধ্যে আছেন বা গর্ভাবস্থার প্রথম দিকটা পার করছেন, তাঁদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হয় এই সময়। কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওঠানামা ও সংক্রমণের আশঙ্কা- সব মিলিয়ে শরীরকে মানিয়ে নিতে হয় নতুন পরিবেশে।
এই সময় কীভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তা নিয়েই সতর্ক করলেন আভা সার্জি সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরামর্শদাতা ডঃ বাণী কুমার মিত্র।
আইভিএফ চলাকালীন কেন বাড়ে ঝুঁকি?
ডঃ মিত্র বলেন, 'আইভিএফ চিকিৎসার সময় শরীর এমনিতেই এক ধরনের শারীরবৃত্তীয় চাপের মধ্যে থাকে। তার উপর ঋতু পরিবর্তনের সময়ে বাড়ে ভাইরাস, অ্যালার্জি বা বদহজমের মতো সমস্যা। এমনকি সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর বা ফ্লু-ও শরীরে প্রদাহ তৈরি করে প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করতে পারে। এতে প্রভাব পড়তে পারে আইভিএফ ইমপ্লান্টেশনের সাফল্য কিংবা গর্ভাবস্থার স্থায়িত্বের উপর। তাই শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী রাখা এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভূমিকা
রোগ প্রতিরোধ প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সঠিক ভারসাম্য থাকলে ডিম্বাণুর গুণমান, জরায়ুর আস্তরণের গ্রহণক্ষমতা এবং ভ্রূণের সংস্থাপন ঠিকভাবে হয়। কিন্তু অতিসক্রিয় প্রতিরোধ ক্ষমতা গর্ভপাত বা ইমপ্লান্টেশন ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়ায়, আবার খুব দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা সংক্রমণ ডেকে আনতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সুষম খাদ্য, হালকা ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার বলে মনে করে চিকিৎসক।
গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা এমনিতেই একটু আলগা হয়ে যায়, কারণ তখন শরীরকে ভ্রূণকে, যা আংশিকভাবে পিতৃ-জিন বহন করে, গ্রহণ করতে হয়। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, জানান তিনি।
ঋতু বদলে কীভাবে রাখবেন শরীর ফিট?
এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চিকিৎসকের মত, সঠিক জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসই এই সময় রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে—
ডাক্তারের পরামর্শ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
ঋতু পরিবর্তনের আগে নিজের আইভিএফ বিশেষজ্ঞ বা গাইনোকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলা জরুরি বলে জানান ডঃ মিত্র। প্রয়োজনে ভিটামিন ডি, আয়রন, ফলিক অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্ট নিতে হতে পারে। হালকা ব্যায়াম ও ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো মৌসুমি টিকারও পরামর্শ দেওয়া হয় অনেক সময়।
তাঁর পরামর্শ, যাঁদের আগে থেকেই থাইরয়েড, পিসিওএস বা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো সমস্যা আছে, তাঁদের আরও সতর্ক থাকা উচিত। নিয়মিত হরমোন পরীক্ষা ও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবর্তন করা সম্ভব হয়।
মন ও শরীরের ভারসাম্যই চাবিকাঠি
আইভিএফ কিংবা গর্ভাবস্থার শুরুতে মানসিক চাপ বা উদ্বেগ বাড়লে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে মুডের ওঠানামাও হয় অনেকের। তাই ইতিবাচক পরিবেশে থাকা, নিয়ম মেনে চলা, ও সহানুভূতিশীল মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।
ডঃ বাণী কুমার মিত্রের মতে, 'ঋতু পরিবর্তন জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তবে এই সময় সচেতনভাবে শরীর ও মনের যত্ন নিলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রেখে আইভিএফ ও গর্ভাবস্থার সাফল্য বাড়ানো সম্ভব।'
শেষে যোগ করেন, 'রোগ প্রতিরোধ মানে শুধু সংক্রমণ ঠেকানো নয়, বরং এমন এক স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে নতুন জীবন নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে।'